ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বৈঠকের পর আরও অস্থির পেঁয়াজের বাজার

বৈঠকের পর আরও অস্থির পেঁয়াজের বাজার
×

মিরাজ শামস

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:৩৯

পেঁয়াজের দামের লাগাম টানতে যেন সব চেষ্টাই ব্যর্থ। গত বৃহস্পতিবার নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই দিনই পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়। গতকাল শুক্রবার তা আরও বেড়ে যায়। গত দুই দিনে আবারও দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে।

বরাবরের মতো দেশি পেঁয়াজের ঘাটতিতে আবার অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, অস্থির পেঁয়াজের বাজার কিছুটা নমনীয় করেছিল দেশি নতুন পেঁয়াজ। কিন্তু বাজারে দাম বেশি থাকায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ গাছসহ আগাম তুলে ফেলেছেন কৃষকরা। এতে এখন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু পেঁয়াজ ক্ষেতে থাকলেও তা তুলতে পারছেন না কৃষক। আবার আমদানি পেঁয়াজের সরবরাহ কম রয়েছে। এ কারণে বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।

আগামী রমজান মাসে পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক রাখতে বৃহস্পতিবার বৈঠকে নিয়মিত আমদানিকারকদের পাশাপাশি সরবরাহ বাড়াতে শীর্ষস্থানীয় তিন কোম্পানির মাধ্যমে দেড় লাখ টন ও টিসিবির মাধ্যমে ৫০ হাজার টনসহ মোট ২ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, তিনি আগুনের মধ্যে বাস করছেন। ঠিকই বাজারেও যেন আগুন লেগেছে। ওই দিনই পেঁয়াজের দর আরও বাড়তে শুরু করেছে। গত দুই দিনে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের দাম। এতে আবারও নানা পর্যায়ে আলোচনায় পেঁয়াজ। শুধু পেঁয়াজ নয়, গত ডিসেম্বর থেকে বাড়তে শুরু করেছে ভোজ্যতেল ও চিনির দাম। এ পণ্য দুটির দাম এখন আরও বাড়তি। কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে পেঁয়াজের পথে অনুসরণ করে হাঁটছে আদা ও রসুন। গরম মসলার বাজার গরম করে রেখেছে এলাচ। পণ্যটির দাম যেন আকাশ ছুঁয়েছে। তাতে অবাক হয়েছেন ক্রেতারা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে এক হাজার টাকা বেড়েছে এর দাম। এছাড়া আলুসহ অন্যান্য সবজির দামও বাড়তি।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), কৃষি বিপণন অধিপ্তরের খুচরা বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম দিনে দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজের কেজি ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। এখন তা দাম বেড়ে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় পৌঁছেছে। চীন ও মিসর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ছিল। এখন তা ৬০ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে পেঁয়াজের দরের এমন ঊর্ধ্বমুখী চিত্র দেখা গেছে। বাজারে তিন দিন আগেও পাকিস্তানের পেঁয়াজ ছিল ৮০ টাকা এখন তা কেজিতে ৬০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে। গত দু'দিন ধরে সকাল-বিকাল বাড়ছে পণ্যটির দাম।

পাইকারি বাজারেও অস্থির পেঁয়াজের দাম। কৃষিপণ্যের পাইকারি বড় আড়ত পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে প্রতি কেজি দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় উঠেছে। মিরপুর-১নং পাইকারি আড়তে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা খুচরা বাজারে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। শ্যামবাজারের পাইকারি আড়তে চীনা বড় পেঁয়াজ কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ও মিসরের পেঁয়াজ একই হারে বেড়ে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানের পেঁয়াজ কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা হয়েছে।

শ্যামবাজার বণিক সমিতির সহসভাপতি ও পাইকারী ব্যবসায়ী মো. মাজেদ সমকালকে বলেন, দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হয়েছে। হালিকাটা পেঁয়াজ বা বীজের পেঁয়াজ উঠতে বেশ কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়ে ঘটতির কারণে দাম বাড়ছে।

অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও চড়া :মানভেদে সপ্তাহের ব্যবধানে রসুনের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগের সপ্তাহে দেশি রসুনের কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা ছিল। গতকাল তা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। আমদানি করা রসুন কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে। আদার কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে। ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি আমদানি আদা বেড়ে এখন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই হারে বেড়ে দেশি পুরাতন আদা ২০০ থেকে ২২০ টাকা ও নতুন আদা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টিসিবিও রসুন ও আদার দাম বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির তথ্যে আলু, চিনি, এলাচ, সয়াবিন তেল, পামঅয়েলের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে। চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৫ টাকা কেজি। ৫ লিটারের সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৪৭০ থেকে ৫১৫ টাকায়। তবে খুচরা বাজারে আগের সপ্তাহ থেকেই চিনির কেজি ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারপ্রতি ৫ টাকা ও পাম ও সুপারপাম অয়েলের দাম ৫ থেকে ৬ টাকা বেড়েছে। গতকাল খোলা সয়াবিনের লিটার ৯১ থেকে ৯৩ টাকা, পামঅয়েল ৮০ থেকে ৮২ টাকা ও সুপারপাম অয়েল ৮৩ থেকে ৮৪ টাকায় বিক্রি হয়। আগের সপ্তাহে এলাচের কেজি ৩ হাজার ২০০ টাকা ছিল। এখন তা ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আলুর কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা হয়েছে। গত সপ্তাহে শিম ৪০ টাকা ও শালগম ৩০ টাকা কেজি ছিল। গতকাল শালগম ৪০ টাকা ও শিম ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। সবজির মৌসুমেও বাজারে বেশিরভাগ সবজির কেজি ৫০ টাকার আগে-পিছে রয়েছে।

আরও পড়ুন

×