ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ভোক্তার স্বার্থ ও অধিকার

ভোক্তার স্বার্থ ও অধিকার
×

প্রতীকী ছবি

সুদীপ্ত সাইফুল

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২০ | ১৩:৪৩

ভেজাল ও ক্ষতিকর পণ্যে সয়লাব দেশের বাজার। স্বল্প সময়ে অর্থশালী হওয়ার লক্ষ্যে নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাত করে চলেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। ভেজাল পণ্য রোধে সরকার তৎপর থাকলেও প্রতারণার হাত থেকে মুক্তি মিলছে না ভোক্তাদের। সব ধরনের খাদ্যপণ্য, প্রসাধনীসহ নিত্যব্যবহার্য অনেক কিছু এমনকি ওষুধও নকল হচ্ছে। নকল ও ভেজালের দৌরাত্ম্যে ভোক্তা নাকাল। পণ্যের মূল্য, কাঁচামাল, উৎপাদনের তারিখ, উৎপাদনস্থল ও কোম্পানি সম্বন্ধে বিস্তারিত জানার অধিকার ভোক্তার রয়েছে। কিন্তু অনেক ভোক্তা পণ্য কেনার সময় এসব বিষয় খেয়াল করেন না। আইন অনুসারে কোম্পানিগুলো পণ্যের গায়ে মূল্য, উৎপাদনের তারিখ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া-সংক্রান্ত তথ্য গ্রাহককে জানাতে বাধ্য। কিন্তু অনেক কোম্পানিই আইন রক্ষার নামে পণ্যের গায়ে এমনভাবে এসব তথ্য গেঁথে রাখে, ভোক্তার পক্ষে খালি চোখে যা দেখা সম্ভব হয় না। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান ভোক্তাকে এসব তথ্য জানানোর প্রয়োজনও বোধ করে না। ফলে প্রতিনিয়ত ঠকছেন ভোক্তারা।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রলোভনযুক্ত ও অসত্য তথ্য সংমিশ্রিত বিজ্ঞাপন প্রচার করে ভোক্তাদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় চাহিদা সৃষ্টি করছে। বিজ্ঞাপনে দেখানো হচ্ছে প্রসাধনীর জাদুতে কালো মুখ রাতারাতি ফর্সা হয়ে যায়, অথবা বিশেষ বডি স্প্র্রে ব্যবহারে সামাজিক মর্যাদা বাড়ে, কিংবা তরল পানীয় পানে শরীরে অতিরিক্ত শক্তির সঞ্চার হয়। বাস্তবতা হলো বিজ্ঞাপনের বার্তার সঙ্গে এসব পণ্যের কার্যকারিকতার কোনো মিল নেই। বরং রয়েছে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কোম্পানিগুলোর এ ধরনের বিজ্ঞাপনের প্রভাবে সাধারণ ভোক্তারা বেশি মূল্যে অপ্রয়োজনীয়, অস্বাস্থ্যকর, অনিরাপদ ও ভেজাল পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

আমাদের দেশে অনেক সময় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মূল্য গ্রহণ করা হয় ভোক্তার কাছ থেকে। আবার একই পণ্য দুই দোকানে দুই মূল্যে বিক্রির প্রবণতাও কম নয়। এ ক্ষেত্রে ওষুধের কথা বলা যেতে পারে। ভোক্তারা দীর্ঘদিন থেকে ওষুধের গায়ে মূল্য সংযোজনের দাবি জানিয়ে এলেও কোনো সুফল মিলছে না। অভিযোগ আছে, ফার্মেসিগুলো অনেক ক্ষেত্রে ভোক্তার মুখ দেখে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। তাদের বিবেচনায় ভোক্তা সচেতন হলে মূল্য হয় একরকম, আর ভোক্তা অসচেতন ও নিরীহ হলে মূল্য হয় আরেকরকম। বর্তমানে অনলাইনে কেনাকাটা বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কর্মব্যস্ত ভোক্তারা সময় বাঁচাতে অনলাইনে কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু ওয়েবসাইটে পণ্যের যে মান উল্লেখ থাকে, মূল্য পরিশোধের পর দেখা যায় ওয়েবসাইটে যুক্ত গুণাগুণ সেই পণ্যের মধ্যে নেই। অনেক সময় এক পণ্য অর্ডার করলে দেওয়া হয় আরেক পণ্য।

জাতিসংঘ ভোক্তার ৮টি অধিকার ঘোষণা করেছে। এগুলো হলো- মৌলিক চাহিদা পূরণের অধিকার, তথ্য পাওয়ার অধিকার, নিরাপদ পণ্য বা সেবা পাওয়ার অধিকার, পছন্দের অধিকার, জানার অধিকার, অভিযোগ করা ও প্রতিকার পাওয়ার অধিকার, ভোক্তা অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা লাভের অধিকার এবং সুস্থ পরিবেশের অধিকার। বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে কাজ করছে 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর'। ২০০৯ সালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনও পাস হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানও কাজ করছে। এত কিছুর পরও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষিত হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। অনেক ভোক্তাই আইন সম্পর্কে অবগত নন। তাই অসাধু ব্যবসায়ীরা সহজেই তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ভোক্তাদের আইন সম্পর্কে জানাতে হবে এবং নির্ধারিত পন্থায় অভিযোগ দায়েরে উৎসাহিত করতে হবে। ভোক্তারা সচেতন হলে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমবে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বৃহৎ পরিসরে ও দীর্ঘমেয়াদে প্রচারাভিযান পরিচালনা করা জরুরি। সম্প্রতি দৈনিক সমকাল 'নকল পণ্য কিনবো না, নকল পণ্য বেচবো না' স্লোগানে ভেজালবিরোধী প্রচারাভিযান শুরু করেছে। আসুন সেই প্রচারাভিযানে যুক্ত হই, ভোক্তাদের সচেতন ও সজাগ করে তুলি।
সাংবাদিক

আরও পড়ুন

×