স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা
×
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২০ | ১২:০০
দেশের স্বাস্থ্য খাত ঘিরে দুর্নীতির যে তিমির আমরা দেখে আসছি, করোনা-দুর্যোগেও তার উন্নতি হয়নি; বরং সৃষ্টি করেছে লজ্জাজনক উদাহরণ। করোনা পরিস্থিতি না এলে হয়তো স্বাস্থ্য খাতের এমন নগ্ন চেহারা আমাদের অদেখাই থেকে যেত। করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই আমরা দেখেছি মাস্ক-পিপিইসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী কেনাকাটায় দুর্নীতি, এরপর স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগে অনিয়ম এবং সর্বশেষ জেকেজি-রিজেন্টের করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্টে বিদেশেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ থেকেই গত রোববার দুর্নীতির ফাইলের খোঁজে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চার সদস্যের অনুসন্ধানী দল। দুদক ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) কর্মকর্তাসহ স্বাস্থ্য খাতের অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। দুদকের এ তৎপরতা আমরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। যেসব ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে সেসব দেখভালের দায়িত্ব যারা পালন করেন, তারা কীভাবে দায় এড়াবেন? দুর্নীতিবাজদের সরিয়ে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া তো ব্যবস্থাপকদের কাজ; কিন্তু তারা সেটি করেননি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং মহাপরিচালকের কক্ষের বাইরে 'আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত'- এ কথা কেবল লেখাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে, বাস্তবে এর কার্যকারিতা কতটুকু?
করোনা-দুর্যোগের এ বিশেষ পরিস্থিতিতেই নয়, এর আগেও স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়ে তৎপর ছিল দুদক। আমাদের মনে আছে, গত বছরের শুরুর দিকে স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটা, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসাসেবায় ব্যবহূত যন্ত্রপাতি ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহসহ ১১টি খাতে দুর্নীতি বেশি হয় বলে দুদক চিহ্নিত করে। এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ২৫ দফা সুপারিশও করেছিল সংস্থাটি। এমনকি এর আগে দুদক অনেক মামলাও করেছে। এর পরও দুঃখজনক হলেও সত্য, পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি আমরা দেখিনি। করোনা পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্য খাতে যেসব দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে, তার প্রত্যেকটিই চাঞ্চল্যকর। এসব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের সক্ষমতা, সমন্বয়হীনতা এবং ব্যর্থতার বিষয়গুলো উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য বিভাগের অন্দরে দুর্নীতির একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
আমরা জানি, কেবল স্বাস্থ্য খাতেরই নয় বরং সব খাতেরই দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশনায়ই দেশজুড়ে চলছে দুর্নীতিবিরোধী সর্বাত্মক অভিযান। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশজুড়ে ক্যাসিনোসহ অন্যান্য দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরুর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের মধ্যে একধরনের শুদ্ধি অভিযানের সূচনা প্রধানমন্ত্রীর 'শূন্য সহিষ্ণুতা' নীতিরই পরিচায়ক। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন। আমরা দেখেছি- করোনা পরীক্ষা, পিপিই ও কিট সরবরাহ নিয়ে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া স্বাস্থ্য খাতের কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নানা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনকি করোনাকালে ত্রাণ তৎপরতায় যেসব জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদেরও তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করে কঠোর বার্তা দিয়েছে সরকার। করোনার সনদ জালিয়াতিসহ নানা প্রতারণায় জড়িত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ও জেকেজির প্রধান নির্বাহী আরিফুল হক চৌধুরী ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীর গ্রেপ্তারও দুর্নীতি নির্মূলে সরকারের সদিচ্ছারই ফল। আমরা মনে করি- কেবল প্রধানমন্ত্রী একা চাইলেই হবে না, দলীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনিক সব কর্মকর্তা-কর্মচারীরও সদিচ্ছা থাকা চাই।
সরকার যেভাবে করোনা মোকাবিলার নীতি গ্রহণ করেছে, সেটি প্রশংসনীয় হলেও স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি অনেক ক্ষেত্রেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় দুদক যদি যথার্থ অর্থেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতির ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়ে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে পারে, তাহলে তার সুফল আমরা করোনাকালেই নয় দীর্ঘমেয়াদে পেতে পারি। সরকারের নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা উভয় প্রচেষ্টাই এ ক্ষেত্রে জরুরি। দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলে স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতেই হবে। সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনার মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
করোনা-দুর্যোগের এ বিশেষ পরিস্থিতিতেই নয়, এর আগেও স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়ে তৎপর ছিল দুদক। আমাদের মনে আছে, গত বছরের শুরুর দিকে স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটা, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসাসেবায় ব্যবহূত যন্ত্রপাতি ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহসহ ১১টি খাতে দুর্নীতি বেশি হয় বলে দুদক চিহ্নিত করে। এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ২৫ দফা সুপারিশও করেছিল সংস্থাটি। এমনকি এর আগে দুদক অনেক মামলাও করেছে। এর পরও দুঃখজনক হলেও সত্য, পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি আমরা দেখিনি। করোনা পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্য খাতে যেসব দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে, তার প্রত্যেকটিই চাঞ্চল্যকর। এসব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের সক্ষমতা, সমন্বয়হীনতা এবং ব্যর্থতার বিষয়গুলো উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য বিভাগের অন্দরে দুর্নীতির একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
আমরা জানি, কেবল স্বাস্থ্য খাতেরই নয় বরং সব খাতেরই দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশনায়ই দেশজুড়ে চলছে দুর্নীতিবিরোধী সর্বাত্মক অভিযান। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশজুড়ে ক্যাসিনোসহ অন্যান্য দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরুর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের মধ্যে একধরনের শুদ্ধি অভিযানের সূচনা প্রধানমন্ত্রীর 'শূন্য সহিষ্ণুতা' নীতিরই পরিচায়ক। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন। আমরা দেখেছি- করোনা পরীক্ষা, পিপিই ও কিট সরবরাহ নিয়ে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া স্বাস্থ্য খাতের কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নানা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনকি করোনাকালে ত্রাণ তৎপরতায় যেসব জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদেরও তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করে কঠোর বার্তা দিয়েছে সরকার। করোনার সনদ জালিয়াতিসহ নানা প্রতারণায় জড়িত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ও জেকেজির প্রধান নির্বাহী আরিফুল হক চৌধুরী ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীর গ্রেপ্তারও দুর্নীতি নির্মূলে সরকারের সদিচ্ছারই ফল। আমরা মনে করি- কেবল প্রধানমন্ত্রী একা চাইলেই হবে না, দলীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনিক সব কর্মকর্তা-কর্মচারীরও সদিচ্ছা থাকা চাই।
সরকার যেভাবে করোনা মোকাবিলার নীতি গ্রহণ করেছে, সেটি প্রশংসনীয় হলেও স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি অনেক ক্ষেত্রেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় দুদক যদি যথার্থ অর্থেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতির ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়ে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে পারে, তাহলে তার সুফল আমরা করোনাকালেই নয় দীর্ঘমেয়াদে পেতে পারি। সরকারের নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা উভয় প্রচেষ্টাই এ ক্ষেত্রে জরুরি। দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলে স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতেই হবে। সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনার মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
- বিষয় :
- স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি