ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

অন্যদৃষ্টি

উৎসবেও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি!

উৎসবেও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি!
×

এস এম নাজের হোসাইন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২২ | ১২:০০


আমরা প্রায়ই দেখি ঈদ, পূজা-পার্বণ ও যে কোনো উৎসব সামনে রেখে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণের পকেট কাটে। পবিত্র ঈদুল আজহাকে উপলক্ষ করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ইতোমধ্যে কারসাজি করে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে বাজারে সব ধরনের চাল, পেঁয়াজ, মসলা জাতীয় পণ্যসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর দাম বেড়েছে।
গত রমজানেও কোনো কারণ ছাড়া ভোজ্যতেল আমদানিকারক, মিল মালিক ও পাইকারি বিক্রেতারা বাজারে এর সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে বাজারে ভোজ্যতেল নিয়ে চরম সংকট তৈরি হয়। অর্থনীতিবিদ, ভোক্তা ও বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মুক্তবাজার অর্থনীতির নামে নিত্যপণ্য বাজারের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ বরাবরই বলবৎ ছিল এবং আছে। চাল, ডাল, চিনি, তেল, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে এমন কোনো নিত্যপণ্য ও সেবা নেই, যার দাম সাধারণ মানুষের নাগালে। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বমুখী রশি টেনে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তার ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। সয়াবিন তেলের কথা এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়। ভোজ্যতেলের দাম আমদানিকারক, মিল মালিক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দফায় দফায় বাড়িয়েছে। শুধু তাই নয়; তারা ইচ্ছামতো বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করেছে। সরকারের নির্দেশনা, কথা, হুমকি-ধমকি তারা কোনোভাবেই আমলে নেয়নি। শেষ পর্যন্ত সরকারই ভোজ্যতেলের আমদানি ভ্যাটমুক্ত করে দিয়েছে। বাজারে এর প্রতিফলন দেখা যায়নি। অধিকন্তু, নতুন করে দাম আরও বেড়েছে। শুল্ক্ক কমানোর পর তাদের বক্তব্য ছিল, পরের ধাপে যখন আমদানি হবে তখন শুল্ক্ক হ্রাসের বিষয়টি কার্যকর হবে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই পণ্য আমদানি না হলেও দাম বাড়িয়ে দেয়। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমা বা শুল্ক্ক হ্রাস করা হলে বলে, বেশি দামে কেনা। অনেক সময় ব্যবসায়ীরা বড় গলায় বলে, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না সরকার। এর বাইরে আবার কিছু অর্থনীতিবিদও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সরকারের কিছু করণীয় নেই। সরকার কেন ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে বাজারে হস্তক্ষেপ করবেন! তার অর্থ এটাই- ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম ওঠানামা করাবে, জনগণের পকেট কাটবে, আর সরকারি লোকজন শুধু দেখে যাবেন। তাদের কথায় সায় দিতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে পোষার প্রয়োজন নেই। কারণ গুটিকয়েক দুষ্ট লোক রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ করবে। এখানে সরকার কেন হস্তক্ষেপ করবে?
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক নয়। অস্বাভাবিক হচ্ছে ব্যবসায়ীদের অদম্য লোভ; সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার সিন্ডিকেট। আইন প্রয়োগে নিয়োজিত সংশ্নিষ্ট বিভাগ নির্বিকার কেন? আমাদের প্রত্যাশা, এই অপতৎপরতা রুখে দিতে সংশ্নিষ্ট সরকারি দায়িত্বশীল মহল সোচ্চার হবে। কারণ দেশের ১৮ কোটি মানুষের করের টাকায় সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মীর বেতন-ভাতা এবং যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে; শুধু গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ীর করের টাকায় নয়। আর ব্যবসায়ীরা যদি কর দিয়েও থাকেন, সেই টাকা জনগণ থেকে আহরণ করেই দেওয়া। তাই আমরা বিশ্বাস করতে চাই, যাঁর নুন খাবেন, তাঁর গুণ একটু করে হলেও গাইতে হবে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ (যার মধ্যে ওই সরকারি কর্মকর্তার আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবও আছেন) ও অধিকার নিশ্চিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা নিষ্ঠা ও সততার বলিষ্ঠ মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে কাজ করবেন। তাহলে গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ীর কঠিন পরিস্থিতি থেকে দেশের সাধারণ ভোক্তাকে সামলানো যাবে; যার দিকে থাকিয়ে আছে ১৮ কোটি সাধারণ ভোক্তা।
এস এম নাজের হোসাইন: ভাইস প্রেসিডেন্ট, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)
[email protected]

আরও পড়ুন

×