ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঈদুল আজহা

ত্যাগের মহিমা উদ্ভাসিত হউক

ত্যাগের মহিমা উদ্ভাসিত হউক
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ০৬:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

বৎসরের পরিক্রমায় আসিয়াছে ঈদুল আজহা। বকরি ঈদ নামে পরিচিত এই ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ পশু কোরবানি। বস্তুত প্রিয় সন্তান হজরত ইসমাইলকে (আ.) মহান আল্লাহর নির্দেশে কোরবানির পরীক্ষায় যেভাবে হজরত ইব্রাহিম (আ.) উত্তীর্ণ হইয়াছিলেন, তাহারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানির মাধ্যমে এই ঈদ উদযাপন করিয়া থাকেন। তাই ত্যাগ ও আনুগত্যের নিদর্শন এ ঈদ উদযাপনের মধ্যে জাগতিক ও আধ্যাত্মিক উভয় উদ্দেশ্যই হাসিল হয়। কোরবানির মাংস পাড়াপড়শি-আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করিয়া দেওয়ার মধ্যেও ব্যক্তির ত্যাগ প্রস্ফুটিত হয়। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রয় হইতে প্রাপ্ত অর্থ  গরিব-দুঃখীর মাঝে বণ্টনের নিয়মও আমাদের সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়।

বলা বাহুল্য, কোরবানির পশুর রক্ত বা মাংস আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না। বরং বান্দার মনের নিষ্ঠা ও উৎসর্গের মানসিকতাই তাঁহার দরবারে কবুল হয়। তাই আমাদের মনের সকল পাপ-পঙ্কিলতা মুছিয়া সাফ করা কোরবানির বাহিরে নহে। সৎ পথে উপার্জিত অর্থে ক্রয় করা পশুর মাধ্যমেই উহা সম্ভব হইতে পারে। কোরবানির পশু ক্রয় করিতে গিয়া সমাজে এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিযোগিতাও দেখা যায়, যাহা কোরবানির শিক্ষার সহিত সাংঘর্ষিক।  

এইবার এমন সময়ে ঈদুল আজহা আসিয়াছে, যখন হাম ও উহার উপসর্গে শিশুদের প্রাণহানি ঘটিতেছে। ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক শিশু প্রাণ হারাইয়াছে। ঈদের মধ্যেও আক্রান্ত শিশুদের লইয়া অনেক অভিভাবককে হাসপাতালে কাটাইতে হইবে। হামের রোগীদের চিকিৎসারত ডাক্তার ও নার্সদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হইয়াছে। এইবার আকস্মিক ঢলে হাওর এলাকার কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছেন। বন্যার পানি ও বাঁধ ভাঙিয়া কৃষকের ফসল নষ্ট হইয়াছে। কোরবানির ত্যাগ ও সহমর্মিতার শিক্ষায় উজ্জীবিত হইয়া সরকার তৎসহিত সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও এই সকল বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াইতে পারেন। 

প্রতি ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি যায় মানুষ। তাহাদের স্বস্তি ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতকরণে বহুবিধ সরকারি উদ্যোগ সত্ত্বেও প্রতি বৎসর নানা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। উপরন্তু এই সময়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এইবারও উক্ত অস্বস্তি রহিয়া গেল। গতকাল সোমবার যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তে ট্রাক উল্টাইয়া ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটিয়াছে। বিভিন্ন পরিবহনে এইবারও অতিরিক্ত ভাড়া লইবার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উঠিয়াছে। এহেন অব্যবস্থাপনা দূর করাসহ ঈদযাত্রায় দীর্ঘস্থায়ী শৃঙ্খলা ফিরাইয়া আনিতে সরকারকে দৃষ্টি দিতেই হইবে। 
ঈদুল আজহা আরবি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। এই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হইতে লক্ষ লক্ষ মুসলমান পবিত্র হজ পালনের লক্ষ্যে মক্কা-মদিনায় সমবেত হন। এই বৎসর প্রায় ৭৯ সহস্র বাংলাদেশি হজ করিতে সৌদি আরবে গিয়াছেন। হজ পালন শেষে তাহারা নিরাপদে এবং স্বস্তির সহিত দেশে প্রত্যাবর্তন করুন– এই কামনা আমাদের।
কোরবানির পশুর চামড়া লইয়া গত কয়েক বৎসর যে নৈরাজ্য আমরা লক্ষ্য করিয়াছি, তাহা হতাশাজনক। সমাজের অসহায় মানুষের অধিকার হিসাবে কোরবানির চামড়ার বাজার রক্ষা করা জরুরি বলিয়া আমরা মনে করি। আমরা জানি, সারা বৎসর দেশে যে সংখ্যক পশু জবাই হয়, উহার প্রায় অর্ধেক হয় কোরবানির ঈদে। সকল প্রকার সিন্ডিকেট বাণিজ্য হইতে কোরবানির পশুর চামড়ার সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে প্রশাসনের যথাযথ ভূমিকা প্রত্যাশিত।  

নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই এবং মাংস ও পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা চাই। আমরা প্রত্যাশা করি, কোরবানিদাতাগণ যদ্রূপ এই ব্যাপারে সচেতন থাকিবেন, তদ্রূপ সিটি করপোরেশনের কর্মীরাও নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকিবেন। তাহাদের তৎপরতায় দ্রুত শহর পরিচ্ছন্ন হইবে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সমকালের পাঠক, লেখক, শুভানুধ্যায়ীসহ সকলকে জানাই ঈদ মোবারক।

আরও পড়ুন

×