পুনর্বাসন ছাড়া হরিজন উচ্ছেদ নহে
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০
উচ্ছেদ বন্ধে রেলপথমন্ত্রীর নির্দেশের পরও রাজধানীর টিটিপাড়া রেলওয়ে হরিজন ও তেলেগু কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রহিয়াছে কী প্রকারে? প্রশ্নটি, শনিবার সমকালের এক প্রতিবেদন অনুসারে, শুক্রবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত উক্ত উচ্ছেদ অভিযানবিরোধী এক প্রতিবাদ সমাবেশে যদ্রূপ উঠিয়াছে, তদ্রূপ আমাদের মনেও জাগিয়াছে।
সমকাল সূত্রেই আমরা জানি, গত ১৫ জুন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ রেলমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎপূর্বক উক্ত বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দিলে মন্ত্রী ঘোষণা দেন, নূতন করিয়া ঐ কলোনিতে কোনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা তো হইবেই না, বরং দ্রুত বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করিয়া ইতোপূর্বে উচ্ছেদকৃত পরিবারগুলিকে পুনর্বাসন করা হইবে।
শুধু উহাই নহে, মন্ত্রী নেতৃবৃন্দের সম্মুখেই পদ্মা সেতু রেল লিংক প্রকল্পের পরিচালককে মোবাইল ফোনে এই সংক্রান্ত নির্দেশনা দেন– এই প্রকল্পে ব্যবহারের নিমিত্তেই হরিজন কলোনির জমিটি ফাঁকা করা হইতেছে। এতদসত্ত্বেও গত ১৫ দিবসে অন্তত দুই বার উক্ত কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হইয়াছে। আমাদের প্রশ্ন হইল, মন্ত্রী কি তবে কোনো ফাঁপা আশ্বাস দিয়াছিলেন, নাকি প্রকল্প পরিচালক মন্ত্রীর চাইতেও অধিক ক্ষমতাধর?
প্রায় ২০০ বছর পূর্বে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকেরা মূলত দক্ষিণ ভারত হইতে এই অসহায় মানুষদের এই শহরে আনিয়াছিলেন জমাদারের কাজ করাইতে। স্বাধীনতার পর এই দেশের নাগরিকত্ব পাইলেও, অদ্যাবধি তাহাদের জন্য কোনো স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয় নাই। উপরন্তু, প্রথম দিকে এই হরিজন ও তেলেগুরা রেলওয়ের কর্মচারী হিসাবে ফুলবাড়িয়া কলোনিতে বসবাস করিলেও, এক পর্যায়ে তাহাদের ঠাঁই হয় টিটিপাড়ায়। ফলে উচ্ছেদকৃত হরিজন সম্প্রদায়ের পরিবারের সদস্যদের বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করিতে হইতেছে।
কিছুদিন পূর্বে আমরা রাজধানীর ধলপুরের তেলেগু কলোনিতে একই প্রকারের উচ্ছেদ অভিযান দেখিয়াছি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ সচেতন মহলের বিরোধিতার মুখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অবশ্য একপর্যায়ে পুনর্বাসনের পূর্ব পর্যন্ত অভিযানটি বন্ধ করিতে সম্মত হয়।
আমরা টিটিপাড়ার ক্ষেত্রেও একই সংস্থাসমূহের সক্রিয়তা দেখিতে চাই; পাশাপাশি রেলমন্ত্রীও তাহার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করিবেন–এ প্রত্যাশা করি।
