চিকিৎসাকেন্দ্রে দালালের থাবা
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
তৌহিদ-উল বারী
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ২০:০৭
দেশে লাখ লাখ মানুষ আছে, যারা দিনে এনে দিনে খায়। কৃষিজমিতে কামলা দিয়ে বা রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে চালায় সংসারের চাকা। শত দুঃখকষ্ট আর দুর্দিনের হাহাকারের কিছু স্মৃতি নিয়ে বেড়ে ওঠে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মানুষ। হয়তো পেটে ভাত আছে কিন্তু পাঁচটি মৌলিক চাহিদার একটি চিকিৎসা কি সুলভ তাদের কাছে?
বাস্তবতা হলো, যখন তারা অসুস্থ হয়, তাদের চোখেমুখে শত চিন্তার ভাঁজ পড়ে। মনে হয়, আকাশটা মাথার ওপর ভেঙে পড়েছে। তারা চিকিৎসা নিতে ছুটে যায় সরকারি হাসপাতালে। একটু সামর্থ্য থাকলে বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করে। কারণ সরকারি হাসপাতালে শয্যা পাওয়া বড়ই কঠিন। স্বাধীনতার ৫২ বছরে এসেও সবার জন্য সরকারি চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়নি। অনেককেই হাসপাতালের মেঝে-বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। লোকাল বাসে আসন খালি না থাকার মতো আমাদের দেশের সরকারি হাসপাতালে প্রায়ই শয্যা খালি থাকে না। করোনার সময় যে ভয়াবহতা দেখতে হয়েছে; ডেঙ্গু মহামারির সময় এসেও সে চিত্র পাল্টায়নি।
সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্লিনিক সেন্টারগুলোতে হরহামেশা দালাল চক্রের হাতে জিম্মি হতে হয় এসব সেবাপ্রত্যাশীকে। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ আনতে বের হতেই ঘাপটি মেরে বসে থাকা দালাল চক্র ভুলভাল বুঝিয়ে তাদের অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের দিকে উৎসাহিত করে। রোগী কিংবা রোগীর স্বজনরা তখন নিতান্তই অসহায়। যে যেভাবে তাদের বুঝিয়ে যায়, সে অনুসারে কাজ করে বসেন। অক্ষরজ্ঞানহীন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মানুষ দালালের দেওয়া ভালো চিকিৎসার আশ্বাসে বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে যায়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুচিকিৎসা মেলে না, বরং সর্বস্ব খুইয়ে সেখান থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এমন অমানবিক ঘটনার কি কোনো সমাধান নেই?
তারা কবে মুক্তি পাবে এসব চক্রের হাত থেকে? কবে ঘটবে এই দুর্দশার অবসান? আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগও যেন ওই দালাল চক্রের হাতে বন্দি। আসলে ওই দালালদের পৃষ্ঠপোষকরাই তো বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের মালিক, যারা বরাবর ক্ষমতাসীনদের আশীর্বাদপুষ্ট; অর্থনৈতিকভাবেও বিশাল প্রভাব তাদের। তবে যে কোনো মূল্যে এ চক্রকে ভাঙতে হবে। মুক্তি দিতে হবে অসহায় চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের।
শিক্ষার্থী, বাকলিয়া সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম
- বিষয় :
- চিকিৎসাকেন্দ্র
- তৌহিদ-উল বারী
