ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ভেজালবিরোধী অভিযান থেমে গেছে?

ভেজালবিরোধী অভিযান থেমে গেছে?
×

তাহমিনা আক্তার

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০

মানুষের প্রধান মৌলিক চাহিদা হচ্ছে খাদ্য, যা জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য। তবে তা হতে হবে নিরাপদ। স্বাস্থ্য ঝুঁকির অন্যতম কারণ অনিরাপদ খাদ্য। জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০ জনের একজন খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। ভেজাল খাদ্যের কারণে মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর উৎপাদনও ব্যাপক হারে বেড়েছে, বিশেষত আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে। তবে বর্তমানে খাদ্যের গুণগত মান ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি বহুলাংশে উপেক্ষিত। নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা ব্যতীত এ সংক্রান্ত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। ২০২০ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটজনিত হৃদরোগে মৃত্যুর পরিসংখ্যান অনুযায়ী সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ২০২৩ সালের মধ্যে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নে নিয়োজিত জাতিসংঘের এ সংস্থা।

অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ফলে বহু ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। কিডনি, লিভার, রক্তচাপ, রক্তশূন্যতা, ক্যান্সার, জন্ডিস, ডায়াবেটিস ইত্যাদি দুরারোগ্য ব্যাধি দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণে মানবদেহ তিলে তিলে ধ্বংস হচ্ছে। তাই খাদ্য গ্রহণে আমাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, খাদ্য গ্রহণসংক্রান্ত পাঁচটি মূলনীতি মেনে চলতে হবে– মানুষ, গৃহপালিত প্রাণী ও কীটপতঙ্গ থেকে রোগজীবাণু খাদ্যে সংক্রমণ হওয়া প্রতিরোধ করা; কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা করে রাখা, যাতে রান্না করা খাবারে জীবাণুর সংক্রমণ না ঘটে; পর্যাপ্ত সময় ধরে ও যথাযথ তাপমাত্রায় খাদ্য রান্না করা, যাতে খাদ্যের রোগজীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়; সঠিক তাপমাত্রায় খাদ্য সংরক্ষণ এবং নিরাপদ পানি ও কাঁচামাল ব্যবহার করা।
খাদ্য উৎপাদন, বণ্টন ও বিপণন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে অতি মুনাফার চিন্তা বাদ দিয়ে নিরাপদ খাদ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তবে বিদ্যমান অনিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শুধু এসব মহলের শুভবুদ্ধির ওপর নির্ভর করে নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা মিলবে না।

পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই নিরাপদ খাদ্যকে ভোক্তার অধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়। সৌভাগ্যবশত, আমাদের দেশও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। উক্ত অধিকারের ব্যত্যয় দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশে ২০১৩ সালে নিরাপদ খাদ্য আইন প্রণীত হয়। দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উক্ত আইনে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষও গঠিত হয়। কিন্তু অর্পিত দায়িত্ব কতটুকু তারা পালন করছে– এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ব্যাপক।

যেখানে ভেজাল খাবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা আবশ্যক; সেখানে দেখা যায়, রমজান মাস এলেই ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়; তাও ঢাকা ও কিছু বড় শহরে। সারা বছর অভিযান না চালিয়ে শুধু এক মাস তৎপরতা দেখিয়ে আশানুরূপ ফল প্রত্যাশা করা যায় না।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

×