ভিন্নমত
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নিদারুণ পরিণতি
×
রুমিন ফারহানা
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২১ | ১২:০০
প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে হাজারো মানুষ মারা গেলেও তাতে কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথা ছিল না খুব একটা। দেশের পরিবহন খাত দীর্ঘদিন ধরে ১৯৩৯ সালের 'বেঙ্গল মোটর ভেহিক্যাল অ্যাক্ট' এবং পরে ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। নিরাপদ সড়কের জন্য যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলন করেছেন তাদের দাবি ছিল- ওই আইনগুলো বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একেবারেই যথেষ্ট নয়। ওই আইনগুলোতে আর্থিক জরিমানা এবং কারাবাসের মতো শাস্তির পরিমাণ ছিল অতি নগণ্য। এ ছাড়াও সময়ের সঙ্গে তৈরি হয়েছিল নতুন নতুন অপরাধ। তাই একটি নতুন আইন ছিল সময়ের দাবি। ২০১০ সালে নতুন সড়ক আইনের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১২, ১৩, ১৫ ও ১৬ সালে চার দফা খসড়া প্রণয়ন করা হয়। প্রতি খসড়ার সময়েই পরিবহন মালিক, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে শাস্তি কমানোর দাবি এসেছে। ক্ষমতাসীন দলের একজন এবং ক্ষমতাসীন জোটের আরেকজন সংসদ সদস্যের নেতৃত্বাধীন দুই সংগঠনের শক্তির কথা এ জাতি জানে। তাই আইনটি আর পাস হতে পারেনি।
এর পর তৈরি হলো ইতিহাস। ঢাকার রাস্তায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দু'জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর আজ থেকে তিন বছরের কিছু বেশি সময় আগে ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকার রাস্তায় নেমে এসেছিল। দেশের ইতিহাসে এ অরাজনৈতিক, স্বতঃস্ম্ফূর্ত আন্দোলনটি (অর্গানিক মুভমেন্ট) লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে। স্কুল-কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী সড়কে তাদের নিজেদের, রাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানায়। রাস্তার পরিস্থিতি সামাল দিতেই এতদিন যা করেনি সরকার, সেটাই করে- ২০ সেপ্টেম্বর কঠোর শাস্তির বিধানসংবলিত একটি আইন সংসদে পাস করে। এক অভিনব ঘটনার সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। এখানেই শেষ নয়, সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে বাংলাদেশের একটার পর একটা অভিনব ঘটনা ঘটেছে; ঘটছে এখনও।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সড়ক নিরাপত্তা আইন করলেও সে আইনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ধারার (৭৪, ৮৪, ৯৮ ও ১০৫) প্রয়োগ স্থগিত রাখে সরকার। এসব ধারায় পুলিশ কোনো মামলা করেনি। সংসদে পাস হওয়া একটি আইন সংসদে সংশোধিত হওয়া ছাড়া তার কিছু অংশ প্রয়োগ না করা কি আদৌ সম্ভব? কিন্তু এই তুঘলকি কাণ্ডটিই ঘটছিল। আমাদের বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়; এ কাণ্ডটা ঘটেছিল সেই দুই সংগঠনের ক্ষমতার প্রভাবে। সংসদের আইনটি পাস হওয়ার পর থেকেই তারা নানা রকম বাধা তৈরি করে যাচ্ছিল। না; এতেই মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো খুশি থাকেনি। ওই চারটি ধারার সঙ্গে আরও পাঁচটি ধারায় আপত্তি জানিয়ে তারা কর্মবিরতি এবং ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে তাদের দাবি জানায় ২০১৯ সালের শেষদিকে। এর পর ২০১৯ সালের নভেম্বরে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের আপত্তির ৯টি ধারায় আইনের প্রয়োগ শিথিল রাখার সিদ্ধান্ত জানান। অর্থাৎ 'সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮' সংসদে পাস হওয়ার পর এক দিনের জন্যও এর পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ হয়নি।
এখন আর রাখঢাক নেই। পাল্টে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গোটা আইনটি। এর সংশোধনীর প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে জামিন অযোগ্য প্রতিটি ধারাকে জামিনযোগ্য করা হয়েছে। অপরাধের শাস্তি কমানো হয়েছে প্রায় সর্বক্ষেত্রে। বিশেষ করে আর্থিক জরিমানা কমেছে। সত্যি বলতে, আর্থিক জরিমানা কমানোই ছিল মূল দাবি মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর। কারণ, বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে কাউকে কারাবাস করানো প্রায় অসম্ভব। সেই বিবেচনায় জরিমানাটা তুলনামূলক অনেক সহজ। সত্যি বলতে, সড়কে ছোট এবং মাঝারি অনিয়ম এবং অপরাধগুলোর জন্য আর্থিক জরিমানা বেশ কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। একই সঙ্গে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধারাকে দুর্বল করা হয়েছে। জনগণের জন্য অতি জরুরি তেমন একটি ধারা দেখা যাক।
আইনটির ১০৫ ধারা অনুযায়ী মোটরযান দুর্ঘটনায় মৃত্যু কিংবা কেউ মারাত্মকভাবে আহত হলে যদি দেখা যায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গাড়ি চালানো কিংবা কারও অবহেলাজনিত কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তখন জড়িতদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড কিংবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
এই আইনের খসড়া যখন প্রথম করা হয় তখন এ ক্ষেত্রে শাস্তির সর্বোচ্চ বিধান ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বলা বাহুল্য, সংগঠনগুলোর চাপে সেটা কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। সর্বশেষ যে সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তাতে কারাদণ্ডের পরিমাণ একই রেখে জরিমানার পরিমাণ তিন লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি করা হয়েছে ধারাটির, সেটি হচ্ছে, এতে 'মারাত্মকভাবে আহত' কথাটি বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোনো দুর্ঘটনায় কারও মৃত্যু না হলে বহু মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হলেও সে ঘটনায় জড়িতদের এই ধারার অধীনে শাস্তির আওতায় আনা যাবে না; যতই তাদের নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন চালনা কিংবা অবহেলার অভিযোগ থাকুক না কেন।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরাও এ রাষ্ট্রের নাগরিক এবং তারা এ দেশের জনগণের জন্য এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা নিশ্চিত করেন, যেটি ছাড়া আমাদের জীবন অচল। রাষ্ট্রের এমন কোনো আইন হওয়া উচিত না যেটি এসব মানুষের জন্য অন্যায়-নিপীড়নের আশঙ্কা তৈরি করে। একই সঙ্গে কোনো আইন এমন হওয়া উচিত না, যেটি এর সঙ্গে জড়িত অন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার, যাত্রীদের জন্য বিপর্যয়কর হয়। স্বল্প মেয়াদে দেখতে গেলে দেশের বিশৃঙ্খল পরিবহন খাতের জন্য ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনটি বর্তমানের আরামপ্রদ অবস্থা কিছুটা হলেও নষ্ট করবে। কিন্তু আইনটি সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে দীর্ঘমেয়াদে সেটা যাত্রীদের তো বটেই, এমনকি এ খাত-সংশ্নিষ্ট মালিক-শ্রমিকদের জন্যও কল্যাণকর হতো। দুর্ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকরাও মারা যান, পঙ্গু হন। এই মালিক-শ্রমিক এবং তাদের পরিবার-পরিজনও যাত্রী হয়ে ওঠেন অন্য পরিবহনে।
একের পর এক চাপ, আন্দোলন-ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো সবকিছু করতে পেরেছে তাদের ইচ্ছামতো। শিক্ষার্থীরাও একবার যেটুকু পেরেছিল, সেটুকুও সম্ভব হয়েছিল আন্দোলন করার মাধ্যমেই। সড়ক আইনটি সরকার পাস না করতে করতেও শেষ পর্যন্ত পাস করেছিল নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে। আজ যখন আইনটির খোলনলচে পাল্টে ফেলা হচ্ছে, তখন সেটা নিশ্চিতভাবেই এ আন্দোলনের সঙ্গে, এই আন্দোলনে রাস্তায় মার খাওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা।
আইনজীবী ও সংসদ সদস্য
এর পর তৈরি হলো ইতিহাস। ঢাকার রাস্তায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দু'জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর আজ থেকে তিন বছরের কিছু বেশি সময় আগে ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকার রাস্তায় নেমে এসেছিল। দেশের ইতিহাসে এ অরাজনৈতিক, স্বতঃস্ম্ফূর্ত আন্দোলনটি (অর্গানিক মুভমেন্ট) লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে। স্কুল-কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী সড়কে তাদের নিজেদের, রাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানায়। রাস্তার পরিস্থিতি সামাল দিতেই এতদিন যা করেনি সরকার, সেটাই করে- ২০ সেপ্টেম্বর কঠোর শাস্তির বিধানসংবলিত একটি আইন সংসদে পাস করে। এক অভিনব ঘটনার সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। এখানেই শেষ নয়, সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে বাংলাদেশের একটার পর একটা অভিনব ঘটনা ঘটেছে; ঘটছে এখনও।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সড়ক নিরাপত্তা আইন করলেও সে আইনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ধারার (৭৪, ৮৪, ৯৮ ও ১০৫) প্রয়োগ স্থগিত রাখে সরকার। এসব ধারায় পুলিশ কোনো মামলা করেনি। সংসদে পাস হওয়া একটি আইন সংসদে সংশোধিত হওয়া ছাড়া তার কিছু অংশ প্রয়োগ না করা কি আদৌ সম্ভব? কিন্তু এই তুঘলকি কাণ্ডটিই ঘটছিল। আমাদের বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়; এ কাণ্ডটা ঘটেছিল সেই দুই সংগঠনের ক্ষমতার প্রভাবে। সংসদের আইনটি পাস হওয়ার পর থেকেই তারা নানা রকম বাধা তৈরি করে যাচ্ছিল। না; এতেই মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো খুশি থাকেনি। ওই চারটি ধারার সঙ্গে আরও পাঁচটি ধারায় আপত্তি জানিয়ে তারা কর্মবিরতি এবং ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে তাদের দাবি জানায় ২০১৯ সালের শেষদিকে। এর পর ২০১৯ সালের নভেম্বরে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের আপত্তির ৯টি ধারায় আইনের প্রয়োগ শিথিল রাখার সিদ্ধান্ত জানান। অর্থাৎ 'সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮' সংসদে পাস হওয়ার পর এক দিনের জন্যও এর পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ হয়নি।
এখন আর রাখঢাক নেই। পাল্টে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গোটা আইনটি। এর সংশোধনীর প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে জামিন অযোগ্য প্রতিটি ধারাকে জামিনযোগ্য করা হয়েছে। অপরাধের শাস্তি কমানো হয়েছে প্রায় সর্বক্ষেত্রে। বিশেষ করে আর্থিক জরিমানা কমেছে। সত্যি বলতে, আর্থিক জরিমানা কমানোই ছিল মূল দাবি মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর। কারণ, বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে কাউকে কারাবাস করানো প্রায় অসম্ভব। সেই বিবেচনায় জরিমানাটা তুলনামূলক অনেক সহজ। সত্যি বলতে, সড়কে ছোট এবং মাঝারি অনিয়ম এবং অপরাধগুলোর জন্য আর্থিক জরিমানা বেশ কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। একই সঙ্গে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধারাকে দুর্বল করা হয়েছে। জনগণের জন্য অতি জরুরি তেমন একটি ধারা দেখা যাক।
আইনটির ১০৫ ধারা অনুযায়ী মোটরযান দুর্ঘটনায় মৃত্যু কিংবা কেউ মারাত্মকভাবে আহত হলে যদি দেখা যায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গাড়ি চালানো কিংবা কারও অবহেলাজনিত কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তখন জড়িতদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড কিংবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
এই আইনের খসড়া যখন প্রথম করা হয় তখন এ ক্ষেত্রে শাস্তির সর্বোচ্চ বিধান ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বলা বাহুল্য, সংগঠনগুলোর চাপে সেটা কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। সর্বশেষ যে সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তাতে কারাদণ্ডের পরিমাণ একই রেখে জরিমানার পরিমাণ তিন লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি করা হয়েছে ধারাটির, সেটি হচ্ছে, এতে 'মারাত্মকভাবে আহত' কথাটি বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোনো দুর্ঘটনায় কারও মৃত্যু না হলে বহু মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হলেও সে ঘটনায় জড়িতদের এই ধারার অধীনে শাস্তির আওতায় আনা যাবে না; যতই তাদের নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন চালনা কিংবা অবহেলার অভিযোগ থাকুক না কেন।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরাও এ রাষ্ট্রের নাগরিক এবং তারা এ দেশের জনগণের জন্য এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা নিশ্চিত করেন, যেটি ছাড়া আমাদের জীবন অচল। রাষ্ট্রের এমন কোনো আইন হওয়া উচিত না যেটি এসব মানুষের জন্য অন্যায়-নিপীড়নের আশঙ্কা তৈরি করে। একই সঙ্গে কোনো আইন এমন হওয়া উচিত না, যেটি এর সঙ্গে জড়িত অন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার, যাত্রীদের জন্য বিপর্যয়কর হয়। স্বল্প মেয়াদে দেখতে গেলে দেশের বিশৃঙ্খল পরিবহন খাতের জন্য ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনটি বর্তমানের আরামপ্রদ অবস্থা কিছুটা হলেও নষ্ট করবে। কিন্তু আইনটি সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে দীর্ঘমেয়াদে সেটা যাত্রীদের তো বটেই, এমনকি এ খাত-সংশ্নিষ্ট মালিক-শ্রমিকদের জন্যও কল্যাণকর হতো। দুর্ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকরাও মারা যান, পঙ্গু হন। এই মালিক-শ্রমিক এবং তাদের পরিবার-পরিজনও যাত্রী হয়ে ওঠেন অন্য পরিবহনে।
একের পর এক চাপ, আন্দোলন-ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো সবকিছু করতে পেরেছে তাদের ইচ্ছামতো। শিক্ষার্থীরাও একবার যেটুকু পেরেছিল, সেটুকুও সম্ভব হয়েছিল আন্দোলন করার মাধ্যমেই। সড়ক আইনটি সরকার পাস না করতে করতেও শেষ পর্যন্ত পাস করেছিল নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে। আজ যখন আইনটির খোলনলচে পাল্টে ফেলা হচ্ছে, তখন সেটা নিশ্চিতভাবেই এ আন্দোলনের সঙ্গে, এই আন্দোলনে রাস্তায় মার খাওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা।
আইনজীবী ও সংসদ সদস্য
- বিষয় :
- ভিন্নমত
- রুমিন ফারহানা
