ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

শিক্ষার্থী ভিসা

বিকল্প ক্যাম্পাসে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়

বিকল্প ক্যাম্পাসে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়
×

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৫ | ১৩:৪৮ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৫ | ১৩:৫৩

ভিসা জটিলতার কারণে অনেক ইরানি উচ্চশিক্ষার জন্য এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন না। আফগানিস্তানের শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি পড়তে আসেন ভারত ও চীনের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তারাও ট্রাম্প প্রশাসনের তৈরি করা নতুন জটিলতার ভুক্তভোগী।
 
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য দেশে ক্যাম্পাস আছে। শিক্ষার্থীরা যতদিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাবে ততদিন তাদের অন্য দেশে থাকা ক্যাম্পাসে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। যেমন, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বিদেশি শিক্ষার্থীদের চলতি বছরের স্প্রিং সেমিস্টারের জন্য স্কটল্যান্ডের এডিনবরো, হংকং অথবা দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ক্যাম্পাসে পড়ার সুযোগ দিয়েছে।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ প্রভোস্ট ড. উইলফোর্ড বলছেন, মার্কিন ভিসা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেক শিক্ষার্থীকে বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতোমধ্যেই দেখছে ইউরোপীয় শিক্ষার্থীরা ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং এশীয় শিক্ষার্থীরা এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে। তবে বিকল্প ক্যাম্পাসে ভর্তির সুযোগে অনেক শিক্ষার্থী সাড়া দিয়েছেন। 

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি সংখ্যায় শীর্ষ দশে থাকে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি। ফল সিজনে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে ১৪ হাজার ৬০০ জন। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০০ জন কম। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্রের মতে, এর প্রধান কারণ ভিসা বিলম্ব।

অনেক বিদেশি শিক্ষার্থীকে টিউশন ফির পুরোটাই দিতে হয়। এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি বড় আয়ের উৎস। এমন আয়ের ওপর নির্ভর করে অনেক প্রতিষ্ঠান অন্য শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এটাই মূল ব্যবসায়িক মডেলের অংশ।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো বা নিরুৎসাহিত করা। ফেডারেল সরকারের কড়া ভিসা যাচাই-বাছাই আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি ব্যাপক হারে কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক বছর আগে ছিল প্রায় ১০ লাখ। ফল সিজন পর্যন্ত নতুন করে ভর্তির আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হবে না। ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, ৫০০টিরও বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গত স্প্রিং সিজন পর্যন্ত যে পরিমাণ আবেদন পড়েছে তা অন্য সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কম। 

গত কয়েক মাসে চীন ও ভারতে শিক্ষার্থী ভিসার সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্টও কম ছিল। অনেক সময় অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়াই হয়নি। আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদদের সংগঠন নাফসা জানিয়েছে, ভিসার এই সমস্যা চলতে থাকলে আসন্ন ফল সিজনে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। অর্থাৎ প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী কমে যেতে পারে।

কিছু শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন। এ কারণে তারা ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ইচ্ছাও বাদ দিয়েছেন। আবার অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ভিসা পেলেও কার্যত যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে হয়তো একরকম বন্দি জীবনযাপন করতে হবে। রাজনৈতিক পরিবেশ ও ভিসা জটিলতার কারণে ইন্টার্নশিপ করা বা ছুটিতে দেশে ফেরা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে।

চলতি মেয়াদের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের হুমকি দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও তখন এর কারণ অস্পষ্ট ছিল। তবে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, গাজায় যুদ্ধ ঘিরে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে না। সম্প্রতি তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করে ডিগ্রি নেওয়ার জন্য ভিসা দেওয়া হয়। ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করা বা কোনো সামাজিক কর্মী হওয়ার জন্য নয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সংগঠন আদালতে গিয়েছে। আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রফেসরস-এর জেনারেল কাউন্সেল ভীনা দুবাল বলছেন, প্রশাসন নাগরিক এবং অ-নাগরিক উভয়ের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। কারণ তারা এমন মতের ভিত্তিতে বহিষ্কার করতে চাইছে যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতায় সুরক্ষিত।

পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং আইন ভঙ্গের অভিযোগে তারা ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল করেছে। গত ২৭ মে থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত নতুন শিক্ষার্থী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত রাখা হয়। বছরের এ সময়টাতেই মূলত সবচেয়ে বেশি ভিসা আবেদন জমা হয়।

গত জুন মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত এক আদেশে আফগানিস্তান, হাইতি, ইরান, ইয়েমেন, কিউবা, লাওস এবং ভেনেজুয়েলাসহ ১৯টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে সীমিত করা হয়। পাশাপাশি অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানো হয়। এমন নজরদারির লক্ষ্য হলো, এমন কেউ যাতে দেশটিতে প্রবেশ না করে যারা আমেরিকানদের ক্ষতি করতে বা জাতীয় স্বার্থে আঘাত হানতে চায়।

ভিসা বিলম্বের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় সময় নেব। আবেদনকারী যে ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করেছেন সেটির জন্য তিনি যোগ্য কি না তা যাচাই করে দেখা হবে। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য হুমকি কি না সেটিও গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হবে।

আরও পড়ুন

×