এমপিওভুক্তির দাবি
ইবতেদায়ি শিক্ষকদের লংমার্চ টু সচিবালয় কর্মসূচির ঘোষণা
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ০৫:০২
এমপিওভুক্তির দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা। আজ বুধবার বেলা ১১টার মধ্যে তাদের দাবি না মানা হলে তারা লংমার্চ টু সচিবালয় কর্মসূচি পালন করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎও চেয়েছেন তারা। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২১ মে থেকে শিক্ষকরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও এমপিওভুক্তির দাবিতে ঈদ বর্জন করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আসছেন।
সংগঠনের আহ্বায়ক মো. শামছুল হক আনসারী বলেন, ‘সারাদেশে আমাদের প্রায় সাত হাজার শিক্ষক রয়েছেন। অনুদানভুক্ত এসব প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক মাসে তিন হাজার ৩০০ টাকা এবং প্রধান শিক্ষক তিন হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পান। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এ অর্থ দিয়ে কোনো শিক্ষকের পক্ষে পরিবার চালানো সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘কদিন আগে একজন মন্ত্রী বলেছেন, তিনি যে বেতন পান, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। তাহলে তিন হাজার ৩০০ টাকা ভাতা পেয়ে একজন শিক্ষক কীভাবে সংসার চালাবেন, সেটি সরকারের কাছে আমাদের প্রশ্ন।’
আন্দোলনরত শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ঈদের সময়ও তারা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে না থেকে রাজপথে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন।
শিক্ষকরা জানান, দাবি আদায়ের জন্য ঈদের আগেই সচিবালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা কর্মসূচি করতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় পাঠদানসহ সব ধরনের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষকরা।
তাদের দাবি, গত বছর প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে ‘অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা নীতিমালা-২০২৫’ অনুসারে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু প্রায় ১০ মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত একটি মাদ্রাসাও এমপিওভুক্ত করা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ শূন্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন ছাড়ের চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এখনও কোনো শিক্ষকের বেতন ছাড় করেনি। এতে এক হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
- বিষয় :
- এমপিওভুক্তি
- ইবতেদায়ি মাদ্রাসা
