সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
বাতিল হলো গ্রন্থাগারে তিনটি নির্দিষ্ট বই রাখার নির্দেশনা
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৬ | আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ১১:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে তিনটি নির্দিষ্ট বই রাখার নির্দেশ দিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে দুটি বই প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখা। অন্যটি প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রচিত বই। তবে নির্দেশনা দেওয়ার এক মাস পর এখন তা বাতিল করল মন্ত্রণালয়।
গত ৩ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে (ডিপিই) পাঠানো এক নির্দেশনায় প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে বইগুলোর একটি করে সেট সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছিল।
বই তিনটি হলো ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। প্রথম দুটি বইয়ের লেখক মাহফুজ উল্লাহ। তৃতীয় বইটি তারেক রহমানের রচনা। বই তিনটি প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রওশন আরা পলি নির্দেশনাপত্রে স্বাক্ষর করেন। গতকাল সোমবার বাতিলের আদেশেও তিনি সই করেন।
এ বিষয়ে ডিপিইর মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী বলেন, অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছিল। এখন মন্ত্রণালয় যা বলবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাখাওয়াৎ হোসেন সমকালকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আগের নির্দেশনা বাতিল করা হচ্ছে। এর বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি। সচিবের সঙ্গে সমকালের কথা হওয়ার একটু পরই মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশনা বাতিল করে আদেশ জারি করা হয়।
জানতে চাইলে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই সহায়ক পাঠ্য হিসেবে রাখা যেতে পারে। একই সঙ্গে মওলানা ভাসানী, জেনারেল এম এ জি ওসমানী, চার জাতীয় নেতা এবং দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কেও বই অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে প্রকাশিত বই সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
- বিষয় :
- শিক্ষা