ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

ল্যাবে হয় না ব্যবহারিক ক্লাস, নষ্ট হচ্ছে ৩৮ লাখ টাকার কম্পিউটার

ল্যাবে হয় না ব্যবহারিক ক্লাস, নষ্ট হচ্ছে ৩৮ লাখ টাকার কম্পিউটার
×

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ২১:২৭

একটি ল্যাব, ৪৮টি কম্পিউটার। কিন্তু নেই কোনো টেকনিশিয়ান। নিয়মিত হয় না ব্যবহারিক ক্লাস। দীর্ঘদিন ব্যবহারহীন পড়ে থাকায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কম্পিউটার বিকল হয়ে গেছে। ব্যবহারিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কম্পিউটার ল্যাবের।

ব্যবস্থাপনা শিক্ষা, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, মার্কেটিং এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য কম্পিউটার ল্যাবটি স্থাপন করা হয়। তবে ল্যাবটি ব্যবহারের জন্য অনুষদের ডিনের অনুমতি প্রয়োজন হয়। বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালে কেবল মার্কেটিং ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ মিলিয়ে চারটি ল্যাব ক্লাস হয়েছে। ২০২৫ সালে কোনো বিভাগ ল্যাব ব্যবহার করেনি। আর ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত শুধু মার্কেটিং বিভাগ একটি ক্লাস নিয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় বর্তমানে ৪৮টি কম্পিউটারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই বিকল হয়ে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ল্যাবে থাকা ৪৮টি কম্পিউটারের মধ্যে প্রায় ২০টি প্রকৌশল দপ্তরের মাধ্যমে কেনা হয়েছে। ভ্যাট-ট্যাক্সসহ প্রতিটি কম্পিউটারের পেছনে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া বাকি কম্পিউটারগুলোসহ ল্যাবটি স্থাপনে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ল্যাবটির জন্য কোনো স্থায়ী টেকনিশিয়ান বা রক্ষণাবেক্ষণকারী নেই। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কার্যালয়ের কর্মীরাই প্রয়োজন অনুযায়ী ল্যাবটি দেখভাল করেন। ফলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে যন্ত্রপাতিগুলো ধীরে ধীরে বিকল হয়ে পড়ছে।

ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিমান্ত মিয়া জানান, চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একদিনও কম্পিউটার ল্যাবে ক্লাস করার সুযোগ পাননি তারা। অথচ তাদের অনেক কোর্সে ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন ছিল। ল্যাবটি নিয়মিত ব্যবহার হলে বিভিন্ন সফটওয়্যার, ডেটা বিশ্লেষণ ও ব্যবহারিক কাজ শেখার সুযোগ হতো, যা কর্মক্ষেত্রেও কাজে লাগত। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় এখন যন্ত্রপাতিও নষ্ট হচ্ছে, যা সরকারি অর্থের অপচয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ল্যাবটি সচল করে সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ব্যবহারিক ক্লাস নিশ্চিত করা।

মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মেহের নেগারের ভাষ্য, কম্পিউটার ল্যাব পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। আবার ল্যাবে প্রজেক্টর না থাকায় শিক্ষকদের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে বিষয়বস্তু বুঝিয়ে দিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। এই কারণে অনেক শিক্ষক ল্যাব ক্লাস নিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। বিষয়টি ডিনকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। একজন টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ল্যাব ক্লাস করতে পারবেন।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক বলেন, ল্যাব ক্লাস হচ্ছে না, বিষয়টি সত্য। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। শিক্ষার্থীরা যেন নিয়মিত ল্যাব ক্লাস করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন সরকারের ভাষ্য, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কিছু কোর্সে কম্পিউটার ল্যাবভিত্তিক ক্লাসের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় কিছু কম্পিউটার বিকল হয়ে গেছে। সেগুলো সচল রাখতে একজন টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ল্যাব ক্লাস করতে পারবেন। পাশাপাশি শিক্ষকরা স্বাচ্ছন্দ্যে ক্লাস নিতে পারবেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম বলেন, ‘বিষয়টি আজই (মঙ্গলবার) জেনেছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে। যেসব কম্পিউটার নষ্ট হয়েছে, সেগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনুষদের নতুন ডিন দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন

×