এইচএসসি পরীক্ষায় ভোগান্তি
দিনভর রাস্তায় শিক্ষার্থীরা, শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ
দেশের অন্তত ১৭ স্থানে বিক্ষোভ-অবরোধ
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দাবিতে ঙ্গলবার সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেয় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ। পুলিশ লাঠিপেটা করে সরিয়ে দিলেও ঘণ্টা দুয়েক পর আবার তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এর প্রভাবে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয় সাজ্
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫২ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে হঠাৎ আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর তাদের আন্দোলনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বৈঠকে ডাকেন শিক্ষামন্ত্রীকে। এরপর সন্ধ্যায় সংসদে দাঁড়িয়ে নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, প্রয়োজনে পরীক্ষাগুলো আবার নেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে।
বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও উত্তরা এলাকায় বিক্ষোভের পর বিকেলে শিক্ষার্থীরা সংসদের সামনে অবস্থান নেন। সন্ধ্যার আগে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে তাদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। রাতে আবারও তারা সেখানে জড়ো হন। আজ বুধবারের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়ে তারা গতকালের আন্দোলনের ইতি টানেন এবং ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আজকের পরীক্ষার পর এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
এর আগে গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর বাইরে অন্তত ১৭টি স্থানে কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন। চট্টগ্রামে শিক্ষা বোর্ডের ফটক খুলে নিয়ে গেছেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন স্থানে অবরোধের কারণে যানজটে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’র সঙ্গে তুলনা করার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামার পর জাতীয় সংসদেও তোপের মুখে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী। সংসদের পূর্বনির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বের পর এহছানুল হক মিলনকে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধানের সংসদ কার্যালয়ে বৈঠক হয়।
প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সমকালকে জানিয়েছেন, দ্রুত কীভাবে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরানো যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। শিক্ষামন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। গত সোমবার বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি বা ওই দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যাদের পরীক্ষা বিঘ্নিত হয়েছে, তাদের আবার পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে নির্দিষ্ট সময়েই বাকি পরীক্ষাগুলোর আয়োজন করা হবে।
গত ২ জুলাই শুরু হয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। তবে অন্য সব বোর্ডের পরীক্ষা ঘোষিত সময়সূচি ধরে চলছে।
গত সোমবার ভারী বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে বিশেষ করে ঢাকা ও কুমিল্লা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়েন। এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে দুটি প্রশ্ন ভুল ছিল বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
এ ছাড়া গতকালের আন্দোলনের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও। এতে একজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সময় শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা তো ফার্মের মুরগি, একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।’
আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, এ মন্তব্যে পরীক্ষার্থীদের অপমান করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রতি মন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। তবে একই কথোপকথনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে ছিলেন। জেলা প্রশাসক, শিক্ষা বোর্ড ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতামতের ভিত্তিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই প্রেক্ষাপটে গতকাল সকালে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি উপেক্ষা করে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ায় হাজারো শিক্ষার্থী দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। অনেককে কোমরপানি ও কাদা পার হয়ে ভেজা জামাকাপড়েই পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সায়েন্স ল্যাবে অবরোধ
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার পর রাজধানীর বিভিন্ন কলেজ, বিশেষ করে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজসহ আশপাশের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে জড়ো হন। ১১টা ৪০ মিনিটে তারা ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেটমুখী সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশ এলাকায় তীব্র যানজট হয়।
অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীর পদত্যাগসহ নানা স্লোগান দেন। তাদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত, পুনঃপরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মহসিন শেখ সাংবাদিকদের বলেন, দুর্যোগে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়নি। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে কেন্দ্রে যেতে পারেননি। তাই এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
আট দফা দাবি
প্রাথমিকভাবে আন্দোলনকারীরা তিন দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো– দেশে দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
পরে তারা আট দফা দাবি ঘোষণা করেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে– দুর্যোগকালে পরীক্ষা বন্ধ রাখা, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুলের জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চাওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের নম্বর প্রদান, শিক্ষামন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা, শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, ভবিষ্যৎ প্রশ্নপত্র পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রণয়ন এবং পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার।
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবিগুলো পূরণ না হলে তাদের আন্দোলন আরও কঠোর হবে এবং একমাত্র দাবি হবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সায়েন্স ল্যাব থেকে এক দল শিক্ষার্থী জাতীয় সংসদ ভবনের উদ্দেশে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা
দুপুরে শিক্ষা ভবন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে আন্দোলনকারীদের বাধা দেয় পুলিশ। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তি হয়। এরপর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে আন্দোলনকারীরা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়।
সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। একই সময়ে আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সিনেট ভবনের পাশের এলাকায় অবস্থান নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানিয়েছেন, তিন দফা দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধের পর মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের উদ্দেশে রওনা হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আটকে দেয় পুলিশ। পরে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ইডেন কলেজের সামনে দিয়ে শিক্ষা ভবনের দিকে রওনা হন।
উত্তরায় অবরোধ
রাজধানীর উত্তরার আজমপুর থেকে বিএনএস সেন্টার পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে জড়ো হয়ে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিমানবন্দর, আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী ও গাজীপুরমুখী সড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হেঁটে যেতে দেখা যায়। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা কয়েক দফায় রাস্তা বন্ধ ছিল।
শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ
ঢাকা বোর্ডের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা জানান, সকাল থেকেই তারা ঢাকা বোর্ডের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। দুপুর ২টার পরপর দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বোর্ডের সামনে এসে স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে প্রধান দুটি ফটকই বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফটক ধাক্কাধাক্কি করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। শেষ পর্যন্ত তারা ঢুকতে না পেরে ইটপাটকেল ছোড়েন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সমকালকে বলেন, বোঝানোর পর ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে চলে যায়।
সংসদ ভবনের সামনে অবরোধ
সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধের পর সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা। এতে কিছু সময়ের জন্য মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এক দল শিক্ষার্থী জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধান ফটক থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত নিয়ে যায়। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কিছুক্ষণ পর শতাধিক শিক্ষার্থী আবার সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এবার তারা স্লোগান না দিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন। দ্বিতীয় দফায় রাত ৮টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে যান চলাচল বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর করা হয়। অ্যাভিনিউর দুই পাশ আটকে রাখার ফলে আসাদগেট থেকে খামারবাড়ির দিকে এবং খামারবাড়ি থেকে আসাদগেট অভিমুখে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ঢাকার বাইরেও দিনভর বিক্ষোভ
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ নানা দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ১৭টি স্থানে রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুরে দিনাজপুর শহরের ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। দিনাজপুর স্টেশনে আটকা পড়ে ঢাকাগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ট্রেন ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বগুড়া নগরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের সাতমাথায় বীরশ্রেষ্ঠ স্কয়ারের পূর্ব পাশের সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের পর তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শিক্ষার্থীরা দাবি-দাওয়া জানিয়ে আবারও সাতমাথায় ফিরে সড়কে অবস্থান নেন।
নওগাঁয় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে ‘সব কলেজের সচেতন শিক্ষার্থী’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। দুপুরে রংপুর জিলা স্কুল মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করা হয়। দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং পাবনার শহীদ চত্বরে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। বিকেলে জয়পুরহাট শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ করা হয়েছে।
দুপুর দেড়টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের উত্তরবঙ্গগামী লেনে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও অংশ নেন। এর আগে সকালে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। ময়মনসিংহে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে নগরের টাউন হল এলাকায় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এতে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে তারা সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
বিকেলে জামালপুর শহরের ফৌজদারি এলাকায় শিক্ষার্থীরা সড়কে বিক্ষোভ করেন। বরিশালে দুপুর ১২টা থেকে আড়াই ঘণ্টা ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। ঝালকাঠিতে বিক্ষোভ ও ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ‘সিলেটের সার্বজনীন শিক্ষার্থী’র ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লার কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। পরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে তারা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
কক্সবাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুর ২টা থেকে সাত ঘণ্টা শহরের গুনগাছতলা এলাকায় প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন ও টায়ার জ্বালিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিকেল খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে শিববাড়ী মোড়ের সাতটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিকেলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নরসিংদীর জেলখানা মোড় অবরোধ করা হয়। দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজার মোড়ে শহীদ ইয়ামিন চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। বিকেলে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।
(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা)
- বিষয় :
- এইচএসসি
- শিক্ষামন্ত্রী
- দুঃখ প্রকাশ
- আন্দোলন