কানে নিজেদের গল্প নিয়ে চার বাংলাদেশি নির্মাতা
ছবি: সংগৃহীত
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ১৩:১৮ | আপডেট: ২০ মে ২০২৬ | ১৩:৩৪
ফ্রান্সের সমুদ্র-তীরবর্তী শহর কান এখন বিশ্ব চলচ্চিত্রের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিনেমার পাশাপাশি আয়োজিত হচ্ছে প্রামাণ্যচিত্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কানস ডক। সেই আয়োজনেই এবার নিজেদের গল্প, স্মৃতি, সংকট ও সমাজবাস্তবতার চলচ্চিত্র নিয়ে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের চার নির্মাতা–কাজী আরেফিন আহমেদ, চিত্ত আনন্দী, এস এম কামরুল আহসান এবং সুমন দেলোয়ার।
ফরাসি ফরাসি সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল শিল্প কর্মসূচি পিআইসিসির পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্রুনো লাক্রাম্প। আয়োজনে যুক্ত রয়েছে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চিটাগাং, বিসুবো আর্ট অর্গানাইজেশন এবং ফরাসি সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল শিল্প কর্মসূচি পিআইসিসি।
মার্শে দ্যু ফিল্মের বিভিন্ন পিচিং সেশন, নেটওয়ার্কিং আয়োজন ও আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশ নিয়ে নির্মাতারা তাদের প্রামাণ্যচিত্রের জন্য সহপ্রযোজক, পরিবেশক ও অর্থায়নের সম্ভাবনা খুঁজছেন। কানস আয়োজকদের মতে, সমসাময়িক বাংলাদেশের বাস্তবতা ও মানবিক সংকটকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরতে এই উদ্যোগ।
নির্মাতা কাজী আরেফিন আহমেদ উৎসবে হাজির হয়েছেন প্রামাণ্যচিত্র ‘অপেক্ষা’ নিয়ে। এই প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে তাঁর ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত দাদিকে ঘিরে। স্মৃতি হারিয়ে ফেলার মধ্য দিয়ে একজন মানুষের ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার বেদনাময় যাত্রা তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরছেন। একই ভাবনার একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য তিনি এর আগে আন্তর্জাতিক সমালোচক সংগঠন ফিপরেস্কি পুরস্কারও অর্জন করেছিলেন।
অন্যদিকে সুমন দেলোয়ারের কান উৎসবে হাজির রয়েছেন ‘মাই কাজিন’ নিয়ে। এতে উঠে এসেছে এইচআইভি পজিটিভ হয়ে দেশে ফেরা এক প্রবাসী শ্রমিকের সামাজিক বঞ্চনা ও টিকে থাকার সংগ্রামের গল্প। এস এম কামরুল আহসান কানে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করছেন ‘ইন সার্চ অব হার’ নিয়ে। যার গল্প এগিয়েছে দুই ডাচ দত্তক সন্তানের বাংলাদেশে ফিরে নিজেদের শিকড় খোঁজার আবেগঘন যাত্রা নিয়ে। আর চিত্ত আনন্দী কানে ‘ব্লু-কলারস ফ্রম দ্য ফ্রন্টলাইন’ নিয়ে বাংলাদেশের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। তাঁর এই প্রজেক্টে উঠে এসেছে তিন প্রজন্মের নারীর শ্রম, সংগ্রাম ও বেঁচে থাকার লড়াই।
কাজী আরেফিন আহমেদ বলেন, ‘কানের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশ নেওয়া আমাদের জন্য শুধু সম্মানের নয়, এটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রযোজক, পরিবেশক ও দর্শকের কাছে বাংলাদেশের গল্প পৌঁছে দেওয়ার বড় সুযোগ।’
চিত্ত আনন্দী বলেন, বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিক তাদের স্বপ্ন এবং বর্তমানের বাস্তবতাকে ঘিরে তিন প্রজন্মের তিন নারীকে নিয়ে আমার এই গল্প। এটি মূলত বাংলাদেশেরই গল্প। তবে বাংলাদেশের হলেও দারুণভাবে এটি বৈশ্বিকও। সেই গল্পকে আমরা বিশ্বদরবারে দেখানোর সুযোগ পাচ্ছি–এটি অবশ্যই দারুণ সুযোগ আমাদের জন্য।
আয়োজকদের ভাষ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে উন্মুক্ত আহ্বানের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো নির্বাচন করা হয়। পরে একটি স্বচ্ছ ও বিস্তারিত জুরি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত চারটি প্রকল্প বাছাই করা হয়। শৈল্পিক উৎকর্ষ, পরিচালনাগত স্বাতন্ত্র্য এবং আন্তর্জাতিক সম্ভাবনার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নির্বাচনে।
এবারের কান উৎসবে বাংলাদেশি নির্মাতাদের এই অংশগ্রহণ শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রামাণ্যচিত্রের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। বিশ্বের নানা প্রান্তের নির্মাতাদের ভিড়ে নিজেদের গল্প নিয়ে উপস্থিত থাকা এই চার নির্মাতা যেন বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন।
- বিষয় :
- কান চলচ্চিত্র উৎসব
