ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দেশের ঐতিহাসিক সব ঘটনার সাক্ষী আমি: নূর

দেশের ঐতিহাসিক সব ঘটনার সাক্ষী আমি: নূর
×

আসাদুজ্জামান নূর

মীর সামী

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২২ | ০০:৩০

আসাদুজ্জামান নূর। বরেণ্য অভিনেতা, আবৃত্তিকার, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। এত পরিচয়ের মধ্যেও তিনি নিজেকে একজন আত্মপ্রত্যয়ী মানবতাবাদী মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। ১৯৪৬ সালের এই দিনে তিনি নীলফামারী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। আজ তিনি ৭৭ বছরে পা দিচ্ছেন। জন্মদিন ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মীর সামী

আপনার জন্মদিনে সমকালের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। দিনটি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কেমন?
ধন্যবাদ। জন্মবার্ষিকী নিয়ে কখনও কোনো পরিকল্পনা করিনি। ফলে এবারও নেই। বিশেষ কিছু বলতে যা হয়, তা পরিবারের মধ্যেই। কাছের বন্ধুরা বাসায় আসে শুভেচ্ছা জানাতে। ছেলেমেয়েরা প্রতিবারই আমায় নানাভাবে চমকে দেয়। এবারও হয়তো ঠিক তেমনটাই হবে। যদিও আমাকে এখনও কেউ কিছু বলেনি। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা হোস্টেলে থাকেন, তাঁরা একটা বিষয় জানেন, সেখানে 'ইমপ্রুভমেন্ট নাইট' বলে একটা কথা ছিল। সেদিন ভালোমন্দ খাওয়া-দাওয়া হতো। আমার জন্মদিনের বিষয়টিও তেমনই। একটু ভালো খাওয়া-দাওয়া হয় আর কি [হাসি]।

আর একেবারে ছোটবেলার জন্মদিনে...
মা-বাবা কখনও আমার জন্মদিন ঘটা করে উদযাপন করেননি। আর করবেনই বা কী করে, আমার যতদূর মনে পড়ে, তখন নীলফামারী শহরে আমি যখন বেড়ে উঠেছি, সেই সময় কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করা যায়- এ ভাবনাও কারও মনে ছিল না। জন্মদিনের কেকও পাওয়া যেত না। বাড়িতে মা পোলাও আর পায়েস রান্না করতেন।

জীবনের এই প্রান্তে এসে পেছনে ফিরে কী মনে হয়?
এই এক জীবনে আমি কত কী করেছি। কত কী দেখেছি, হিসাব নেই। বলা যেতে পারে, আমার এই ৭৬ বছরের জীবনে বাংলাদেশের সব ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী আমি। ছাত্র রাজনীতির সুবাদে অংশ নিয়েছিলাম '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে। দেখেছি ছয় দফা আন্দোলন, '৭০-এর নির্বাচন। তার পর মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলাম। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজনীতি থেকে চাকরির পাশাপাশি অভিনয় শুরু করলাম। কতশত প্রখ্যাত সব মানুষের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। অংশ নিয়েছি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আমাকে আবারও রাজনীতিতে নিয়ে এলেন। বলা যায়; চাকরি, অভিনয়, রাজনীতি যখন যা করেছি, মনোযোগ দিয়ে করেছি।

কোনো কারণে হতাশা বোধ করেন?
না, আমি হতাশা বোধ করি না। তবে মাঝেমধ্যে মনে হয়, সময়টা ঠিকমতো কাজে লাগাইনি। হয়তো আরও অনেক কিছু করার ছিল। আবার এও মনে হয়, যা পেয়েছি, সেটা কি পাওয়ার কথা ছিল? এই দেশ আমাকে অনেক দিয়েছে। আমি মনে করি, আমার এই এক জীবনে প্রাপ্তির খাতা অনেক বেশি।

রাজনীতি, অভিনয় ও ব্যবসা সবখানেই সাফল্যের দেখা পেয়েছেন। কী করে সম্ভব?
প্রতিটি কাজের জন্য যদি আলাদাভাবে সময় ভাগ করে নেওয়া হয়, তাহলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। যেখানেই থাকি না কেন, আগের দিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠিক করে নিই পরের দিনের কাজ। অনেক সময় হয়তো পরিকল্পনা অনুযায়ী সব হয় না। কিন্তু বেশিরভাগই হয়। বাকিগুলো আবার পরের দিনের তালিকায় রাখি। এভাবেই প্রতিটি কাজের সঙ্গে নিজের সময় সমন্বয় করে নিই।

আপনার আবৃত্তি চর্চার কী খবর...
আবৃত্তি নিয়মিত করা হয়। যখন সময় পাই, তখনই আবৃত্তি চর্চা করি।

বর্তমানে দেশের আবৃত্তি চর্চা কোন অবস্থানে আছে?
নাটক, নাচ বা গানে যেমন খ্যাতি রয়েছে, আবৃত্তি তা না থাকার পরও প্রতিবছর হাজার হাজার ছেলেমেয়ে আবৃত্তি সংগঠনে কাজ করছেন। এটা বড় ব্যাপার।

এবার অভিনয়ের কথা বলুন?
কিছুদিন আগে খ ম খুরশীদের 'জয় বাংলার ধ্বনী' নামের একটি সিনেমায় কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। এতে আমাকে রাজাকার চরিত্রে দেখা যাবে। আমি এর আগেও নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেছি। তবে এমন রাজাকারের চরিত্রে কখনও অভিনয় করিনি। সে জন্যই করতে রাজি হয়েছি। দেখি না নতুন কিছু করে।

আরও পড়ুন

×