ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতিমুহূর্ত আনন্দ নিয়ে বাঁচতে চাই

প্রতিমুহূর্ত আনন্দ নিয়ে বাঁচতে চাই
×

এমদাদুল হক মিলটন

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ০৩:৩৯

রিয়াজ। অভিনেতা। প্রায় আড়াই দশক ধরে সুঅভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করে যাচ্ছেন তিনি। চলচ্চিত্র, ছোটপর্দা সব মাধ্যমেই তার উপস্থিতি। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে ভূষিত হয়েছেন নানা সম্মাননায়। অভিনয় জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, এ সময়ের ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে নন্দনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

এক দিন পর আপনার জন্মদিন। সমকালের পক্ষ থেকে জন্মদিনের আগাম শুভেচ্ছা। দিনটি কীভাবে কাটানোর পরিকল্পনা করছেন?
সমকাল পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ। জন্মদিন এলে মনে হয়, একটা বছর চলে গেল, মানুষের কল্যাণে তেমন কিছু করতে পারলাম না। জন্মদিন কখনোই ঘটা করে পালন করি না। তবে দিনটি আমাকে অন্যরকম আনন্দ দেয়। প্রতিমুহূর্ত আনন্দ নিয়েই বাঁচতে চাই। এতদিন যা করেছি তা ভক্তদের জন্যই। তাইতো জন্মদিন এলেই ভক্তরা কার্ড, ফোন বা ফেসবুকে শুভেচ্ছা জানায়। কেউ উপহার পাঠান, কেক নিয়ে হাজির হন। স্ত্রী, সন্তান আর ভক্তদের নিয়ে আনন্দ আড্ডায় কিছুটা সময় কাটাই। পাশাপাশি টিভি চ্যানেলে আমন্ত্রণে বিশেষ আয়োজনে হাজির হই। জন্মদিনকে ঘিরে নাগরিক টিভি তিনদিন আমার অভিনীত ১২টি ছবি প্রচার করবে। ফলে ভক্ত-দর্শকের সঙ্গে পর্দায় উপস্থিতির মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি হবে বেশ।

অভিনয় ক্যারিয়ারের দুই যুগ পার করেছেন। এ দীর্ঘ পথচলা কেমন ছিল বলে মনে করেন?
কতশত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বছরগুলো কেটেছে, তা অল্প কথায় বলে বোঝানো যাবে না। মনে হয় এই তো সেদিনের কথা। 'বাংলার নায়ক' দিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। মনে ভয় থাকলেও অনেক কাছের মানুষের উৎসাহে বেশ সাহসের সঙ্গে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি। এখনও সেই সময়ের স্মৃতি চোখে জ্বল জ্বল করছে। সাফল্যের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে দিনের পর দিন। দর্শকের ভালোবাসর ডানায় ভর করে পথ চলছি। বিশ্বাস ভাঙিনি কখনও। এখন কিছু মানুষ আমাকে চেনেন। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছি। তবে অভিনয় করে এতকিছু পাব, কখনও ভাবিনি।

জনপ্রিয়তা থাকার পরও ছবিতে অভিনয় কমিয়ে দিয়েছেন। এর পেছনে বিশেষ কোনো কারণ আছে কি?
সর্বশেষ 'কৃষ্ণপক্ষ'র পর আর নতুন ছবিতে অভিনয় করা হয়নি। বলা যেতে পারে, চলচ্চিত্রে আমার বিরতি চলছে। একসময় অভিমান করে চলচ্চিত্র থেকে দূরে ছিলাম। অশ্নীলতা, পাইরেসি, নকল- এসব চলচ্চিত্রের মৌলিকত্ব নষ্ট করে দিয়েছিল। ভালো পরিচালকরা বেকার হয়ে পড়ছিলেন। বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছিল। তাই সরে না গিয়ে উপায় ছিল না। মাঝে অভিমান ভেঙে পুরোদমে কাজ শুরু করেছিলাম। আবারও হঠাৎ পাল্টে যেতে থাকে পরিবেশ। এর পেছনে অনেক কারণও রয়েছে। আমার কাছে অনেক স্ট্ক্রিপ্ট আসে। যাতে আমার চরিত্রের কোনো গুরুত্ব নেই। গুরুত্বহীন চরিত্রে কাজ করতে চাই না। আমাকে কাজে লাগাতে পারে সে রকম স্ট্ক্রিপ্ট নিয়ে নির্মাতা আসছেন না। ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করতে আমার কোনো আপত্তি নেই।

শিল্পীজীবনে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে কখনও ভাবেন?
কখনও ভাবিনি, তা নয়। ভেবেছি এবং বিস্মিত হয়েছি। দেশের অগণিত মানুষ আমাকে ভালোবাসে। অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন কিছুটা হলেও জয় করতে পেরেছি। এতেই আমি সন্তুষ্ট। দর্শকের ভালোবাসাই বড় প্রাপ্তি।

দিন দিন ছবি মুক্তির সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে...
শুধু ছবি মুক্তি কমছে তা নয়, ভালো ছবির সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। অনেকদিন হলো ব্যবসাসফল ছবি নেই। আমরা নিজেরাই চলচ্চিত্রকে ধ্বংস করেছি। একের পর এক তামিল ছবির নকল করতে গিয়ে নিজেদের মৌলিক গল্প ভুলে গেছি। ফলে দর্শক হলবিমুখ হচ্ছে। ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রযোজকরা। তাই তারা দূরে সরে যাচ্ছেন। হল বন্ধসহ হলের পরিবেশও খারাপের দিকে যাচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রি মরে যাচ্ছে- এটা দেখতে এখন আর ভালো লাগছে না। এই ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটি ইটের সঙ্গে আমার মতো অনেকের ঘাম লেগে আছে।

এ থেকে উত্তরণের পথ কী?
আমরা খুব কঠিন অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। কিছু ছবি আছে, যা ফেসবুকে হিট হচ্ছে। শুধু ফাঁকা আওয়াজ। কিন্তু সেসব ছবি দর্শক হলে দেখছেন না। আমরা কিন্তু প্রকৃত সত্যকে আড়াল করছি। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ঢাকাই চলচ্চিত্রে ভালো কনটেন্টের অভাব রয়েছে। অভাব রয়েছে গুণী নির্মাতার। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে চলচ্চিত্রের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। তবে আমি হতাশ নই। চলচ্চিত্র একদিন ঘুরে দাঁড়াবেই।

শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে। এ রকম অভিযোগ উঠেছে। একজন শিল্পী হিসেবে এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
শিল্পীদের সবাই ভালোবাসার চোখে দেখেন। তাদের নির্বাচনে কাদা ছোড়াছুড়ি মোটেও কাম্য নয়। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পরিবেশ ভয়াবহ রকমের দূষিত হয়ে গেছে। শিল্পীদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। অনেক সদস্যের অন্যায়ভাবে ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। প্রার্থীকে অপমান করা হচ্ছে। আমি নিজেও কথা বলতে পারিনি বলে বার্ষিক সাধারণ সভা থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম। শিল্পীদের মঙ্গল তখনই হবে যখন এফডিসিতে প্রচুর ছবি নির্মাণ হবে। এ বিষয়ে বর্তমান কমিটির কারও মাথাব্যথা নেই। সবাই ব্যস্ত চেয়ার দখলের প্রতিযোগিতায়।

আগামীকাল নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন?
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হোক- এটাই প্রত্যাশা। ভোটাররা এমন যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন যারা আগামীদিনের শিল্পীদের কল্যাণে সবসময় পাশে থাকবেন। শিল্পীরা যোগ্য ব্যক্তিকেই রায় দেবেন।

আরও পড়ুন

×