সৈয়দ জামিল আহমেদ
শিল্পকলাকে আমার সততার শক্তি দিয়ে ঠিক করার চেষ্টা করব
সৈয়দ জামিল আহমেদ। ছবি: ফয়সাল সিদ্দীক কাব্য
এমদাদুল হক মিল্টন
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ১২:৪৩ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ১৩:৩০
সৈয়দ জামিল আহমেদ। নাট্য নির্দেশক ও শিক্ষক । বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গুণী এ নাট্যব্যক্তিত্ব। নতুন দায়িত্ব ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে
সমকাল: শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন। আপনাকে অভিনন্দন।
সৈয়দ জামিল আহমেদ: ধন্যবাদ।
সমকাল: শুরুতে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব আপনি নিতে চাননি। কোন ভাবনা থেকে দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হলেন?
সৈয়দ জামিল আহমেদ: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হাজারো প্রাণ গেছে। অনেক আহত হয়েছেন। কেউ কেউ এখনও যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে দায়িত্ব নিয়েছি। মূলত আমার পরিচয় আমি একজন নাট্যকর্মী। অনেক বয়স হয়েছে। সময়টা নাটক করার। আমি ভেবেছি আমি যদি এ দায়িত্বটা নিই তাহলে অনেক সময় ব্যয় হবে। প্রথমে আমি দায়িত্ব নিতে একেবারে রাজিই ছিলাম না। উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ অনেকেই আমাকে বোঝালেন। পরে সবকিছু ভেবেচিন্তে আমার ভাবনাকে পাশ কাটিয়ে দায়িত্ব নিতে হয়েছে।

সমকাল: শিল্পকলা একাডেমিতে থাকা একটি অরাজক অবস্থার মধ্যে আপনি দায়িত্ব নিয়েছেন। এ সময়ে কাজ করা কতটা চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছেন?
সৈয়দ জামিল আহমেদ: অনেক চ্যালেঞ্জিং। তবে আমি যদি পরিষ্কার থাকি, আমার যদি নীতি, স্বচ্ছতা থাকে তাহলে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। নীতি বলতে বোঝাতে চাচ্ছি আমি আইন ও নিয়ম কানুনের বাইরে যাব না। নিজের কোনো সুবিধা নেব না। শিল্পকলায় নানা অনিয়ম রয়েছে। আমি আমার সততার শক্তি দিয়ে সবকিছু ঠিক করতে পারব বলে আশা করছি।
সমকাল: কেমন শিল্পকলা একাডেমি দেখতে চান?
সৈয়দ জামিল আহমেদ: একাডেমির সকল কাজকর্ম হবে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক। আইন অনুযায়ী সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। আইন ও নিয়ম-নীতিবহির্ভূত কোনো কিছুই এখানে ঘটবে না। শিল্পীদের জন্যই হবে শিল্পকলা। এমন একটি প্রতিষ্ঠান শিল্পকলা একাডেমির স্বপ্ন দেখি। একাডেমির কর্মকাণ্ডকে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে চাই।

সমকাল: একাডেমিতে অনেক সমস্যা বিরাজ করছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোন কাজগুলো করার ইচ্ছা রয়েছে?
সৈয়দ জামিল আহমেদ: প্রথমেই প্রশাসনিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই। অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা আনয়ন করার জন্য সবকিছু ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার ব্যবস্থা করব। অতি দ্রুতই শিল্পকলা একাডেমির হলগুলো চালুর চেষ্টা করা হবে। জেলা পর্যায়ে অনেক অভিযোগ আছে–তারা সেখানে ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। কী প্রক্রিয়ার তারা কাজ করতে পারবে সে ব্যবস্থা করব। সম্প্রতি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিগুলোর সংস্কার ও কার্যক্রম দ্রুত চালুর ব্যাপারেও উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিল্পকলা একাডেমিতে কিছু অরাজক অবস্থা রয়েছে, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভও রয়েছে। আমি বোঝার চেষ্টা করব এই ক্ষোভের জায়গাটা কী এবং সেটি সংশোধন করে শৃঙ্খলা ফেরানোর কাজ করব। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাই।
সমকাল: অনেকেই শিল্পকলার গঠনতন্ত্র, প্রবিধানসহ মৌলিক জায়গায় কিছু সংস্কার আনার কথা বলছেন। আপনি কী মনে করছেন।
সৈয়দ জামিল আহমেদ: আমিও তাই মনে করি। শিল্পকলা এখনও চলে ১৮৮৯ সালের আইনে। নতুন একটি আইন পাসের চেষ্টা চলছে। এর আনুষ্ঠানিক কাজ এখনও শুরু করিনি। আমি চাই এটি বাংলা একাডেমির মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হবে; যার প্রধান হবে একটি পরিষদ। পরিষদের প্রধান থাকবেন বাংলাদেশের একজন বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ, জ্ঞানী ব্যক্তি। যিনি শিল্প-সংস্কৃতি বোঝেন। পরিষদেই সব আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ছোট-বড় শহর থেকে মানুষ নিয়ে আসতে হবে; যারা নতুন নতুন চিন্তা করেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে; যারা ঝগড়া করবে, যুক্তি দেবে, তারা রাবার স্ট্যাম্প হিসেবে কাজ করবে না। সেখান থেকে আসবে নতুন সিদ্ধান্ত। প্রবিধানেও অনেক গন্ডগোল আছে। এটি নিয়েও কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। সবকিছুতে মানুষের সদিচ্ছা থাকতে হবে। আমার ধর্ম হয় যদি চুরি করা হয় তাহলে যে কোনো ফাঁক খুঁজে বের করবোই। ধর্ম যদি হয় সৎভাবে চেষ্টা করব, তাহলে ভালো কিছু কিছু হবে।