ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘দেয়াল’ দিয়ে শুরু চার দিনব্যাপী সেলিম আল দীন নাট্যোৎসব

‘দেয়াল’ দিয়ে শুরু চার দিনব্যাপী সেলিম আল দীন নাট্যোৎসব
×

‘দেয়াল’ নাটকের রিহার্সেলের একটি দৃশ্য

আনন্দ প্রতিদিন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫ | ১৩:২৫ | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৫ | ১৩:৫৪

নাট্যাচার্য ড. সেলিম আল দীনের ৭৬তম জন্মবার্ষিকী আগামী সোমবার। নানা আয়োজনে তাঁর জন্মদিন উদযাপন করছে ঢাকা থিয়েটার ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। শুক্রবার মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে শুরু হয়েছে সেলিম আল দীন ৭৬ জয়ন্তী নাট্যোৎসব।

উৎসবের উদ্বোধন করেন নাট্যব্যক্তিত্ব ও ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন ইউসুফ। সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে মুক্তিযুদ্ধের গল্পের ‘দেয়াল’ নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়েছে।

উদ্বোধনী আয়োজনে নাটকটি মঞ্চায়ন প্রসঙ্গে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘‘ঢাকা থিয়েটারের ৫৩তম প্রযোজনা ‘দেয়াল’ অপেক্ষাকৃত কম চর্চিত নাটক। আজ থেকে ৫২ বছর আগে মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকা থিয়েটার। গত ৫২ বছরে মুক্তিযুদ্ধের নানা নাটক মঞ্চায়ন করলেও সেলিম আল দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধের নাটক আগে কখনও মঞ্চায়ন করা হয়নি। সেদিক থেকে এ নাটকটির মঞ্চায়ন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।’’

তিনি আরও বলেন, ‘নাটকটির নির্দেশক সেলিম আলদীনে ছাত্র অনিক। নাটকটি নিশ্চয়ই সময় ও ইতিহাসের দায় মেটাবে এবং গুরুর প্রতি শিষ্যের এ নৈবেদ্য সেলিমকে স্বস্তি দেবে। এটি ঢাকা থিয়েটারের নবীনতম ব্যাচ ২০২৪-এর প্রথম নাটক। নতুন [অনভিজ্ঞ] ও অভিজ্ঞদের মিলনে দেয়াল নিশ্চয়ই মঞ্চশিল্পের বন্ধ্যত্বের দেয়াল ভাঙতে সক্ষম হবে।’

আজ ও আগামীকাল সন্ধ্যায় থাকছে একই নাটকের আরও দুটি প্রদর্শনী। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন অনিক ইসলাম। এতে অভিনয় করেছেন ঢাকা থিয়েটারের নাট্যকর্মীরা।

১৯৭১ সালের এক সন্ধ্যায় একটি মফস্বল শহরের এক পাকিস্তানি ডিফেন্সের ভেতরে চলছে ক্ষমতা, ভয় আর অনিশ্চয়তার খেলা। পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন কিশলু খান, যিনি নিজের সৈন্যদের যুদ্ধের শপথ করাচ্ছেন, তিনি অহংকারী এবং ক্রূর। তার পাশে আছে পিস কমিটির চেয়ারম্যান আশরাফ খান এবং একজন সম্পাদক, যারা নিজেদের স্বার্থ টিকিয়ে রাখতে পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করছে। তাদের আলোচনায় উঠে আসে যুদ্ধের ভয়াবহতা, নিজেদের সুবিধাবাদী মনোভাব এবং একজন উন্মাদ পাকিস্তানি সৈনিকের আর্তনাদ, যে যুদ্ধের কারণে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে। দালানের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় একদল বন্দিকে। তাদের মধ্যে আছেন একজন উকিল, একজন অধ্যাপক এবং একজন তরুণ গেরিলা, যার নাম নুরুল হোসেন। তারা একে অপরের কাছে নিজেদের ভয়, জীবনের প্রতি হতাশা এবং প্রতিরোধের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে একজন রমণী সেখানে আশ্রয় চাইতে আসেন, যিনি তাঁর স্বামী ও সন্তানকে হারিয়েছেন। বন্দিরা তাঁকে সাহস জোগাযন। ধীরে ধীরে একজন একজন করে বন্দিদের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এগিয়ে যায় গল্প।

উৎসবের সমাপনী দিনে প্রদর্শিত হবে সেলিম আল দীনের আরেকটি নাটক ‘নিমজ্জন’। এদিন নাটকটির ৯০তম মঞ্চায়ন হবে। নির্দেশনা দিচ্ছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ। উৎসব শেষ হবে ১৮ আগস্ট।

ফেনী জেলার সোনাগাজীর সেনেরখিল গ্রামে ১৯৪৯ সালে ১৮ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন সেলিম আল দীন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলা নাটকের যে আন্দোলন, তার পেছনেও রয়েছে এই গুণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলাসাহিত্যের শিকড়ের সন্ধানে মগ্ন ছিলেন। ঔপনিবেশিক সাহিত্যধারার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বাংলা নাটককে আবহমান বাংলার গতিধারায় ফিরিয়ে এনেছিলেন। বাংলা নাটকে বিষয়, আঙ্গিক আর ভাষা নিয়ে গবেষণা ও নাটকে তার প্রতিফলনও তুলে ধরেন তিনি।

আরও পড়ুন

×