ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অন্যদৃষ্টি

ইংরেজি মাধ্যমের চাহিদা

ইংরেজি মাধ্যমের চাহিদা
×

মো. ফজলুল হক

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০৮:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমানে দেশে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার চাহিদা বাড়ছে। শুধু উচ্চবিত্ত পরিবারের ক্ষেত্রেই নয়; অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারও সন্তানদের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াচ্ছে। দেশে বাংলা মাধ্যম শিক্ষাক্রমের কাঠামোগত কিছু চ্যালেঞ্জ ও ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে ইংরেজি মাধ্যমের দিকে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকার মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে। বিশ্বায়ন এবং আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে তাল মেলাতে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কারিকুলাম অনুসরণের কারণে এই মাধ্যমের ও-লেভেল এবং এ-লেভেল ডিগ্রি শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ অনেক সহজ করে দেয়। এ ছাড়া বহুজাতিক কোম্পানি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার সাবলীল দক্ষতা অত্যন্ত জরুরি হওয়ায় অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এই শিক্ষার প্রতি দিন দিন আরও বেশি ঝুঁকছেন। সরকার এখন সব ইংরেজি মাধ্যম স্কুলকে একক নীতিমালার আওতায় আনতে কাজ করছে, যাতে মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। 

বাংলাদেশে বর্তমানে কয়েকটি আন্তর্জাতিক কারিকুলাম বেশ জনপ্রিয়। এর মধ্যে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল কারিকুলাম, পিয়ারসন এডেক্সেল, ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালরিয়েট (আইবি) এবং অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল কারিকুলাম উল্লেখযোগ্য।

ব্যানবেইস ২০২৪-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৪৭টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ইংরেজি মাধ্যম স্কুল পিয়ারসন এবং ৪০ শতাংশ স্কুল কেমব্রিজ কারিকুলাম অনুসরণ করে। এসব প্রতিষ্ঠানে ৭৬ হাজার ৪২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। স্কুল, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক– সর্বক্ষেত্রে এই সংখ্যা বিগত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বর্তমানে দেশে এডেক্সেলের ৩১টি নিবন্ধিত সেন্টার রয়েছে। অন্যদিকে আইবি কারিকুলাম বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত সমাদৃত হলেও বাংলাদেশে এটি তুলনামূলক নতুন ও ব্যয়বহুল। সাধারণ ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের তুলনায় এর খরচ অনেক বেশি হওয়ায় দেশে বর্তমানে প্রায় ৯টি আইবি ওয়ার্ল্ড স্কুল রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানে এর সম্পূর্ণ প্রোগ্রাম (পিওয়াইপি, এমওয়াইপি, ডিপি) পড়ানো হয়।
আন্তর্জাতিক কারিকুলামগুলোর মধ্যে বর্তমানে দেশে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল কারিকুলামের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। পরিসংখ্যানেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের জুন মাসের কেমব্রিজ সিরিজে সারাবিশ্বে প্রায় ছয় লাখ ৮০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেয়, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি।

২০২৫ সালে দেশের ৮১টি স্কুল থেকে চার হাজার ৮০০-এর বেশি শিক্ষার্থী আইজিসিএসই এবং ও-লেভেল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এ সময় মোট এন্ট্রির সংখ্যা ছিল ২৩ হাজারের বেশি। এ ছাড়া ৭৩টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা এ-লেভেলের ১৭ হাজার ২০০টি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি।

তবে বাংলাদেশে কেমব্রিজ পরীক্ষার ক্ষেত্রে অনেক স্কুলকেই থার্ড-পার্টি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের ওপর নির্ভর করতে হয়। এসব ‘নন-ডাইরেক্ট’ স্কুলের শিক্ষার্থীদের অপরিচিত পরিবেশে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। অচেনা পরিবেশে পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপও বেড়ে যায়।

এই চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানে ‘ডাইরেক্ট কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ একটি দারুণ উদ্যোগ। এ ক্ষেত্রে স্কুল সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরিচিত পরিবেশে পরীক্ষা পরিচালনা করতে পারে। ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপও অনেক কম এবং তারা পরীক্ষার সর্বোচ্চ প্রস্তুতিও নিতে পারে। তা ছাড়া কেমব্রিজের মানদণ্ড অনুযায়ী পড়াশোনার কারণে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
ও-লেভেল এবং এ-লেভেল শেষ করে এই শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সফলতার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। ডাইরেক্ট কেমব্রিজ স্কুলগুলোর উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য বড় একটি সুযোগ তৈরি করছে এবং দেশে মানসম্মত আন্তর্জাতিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মো. ফজলুল হক: বোর্ড এক্সাম কো-অর্ডিনেটর, গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল
স্কুল, উত্তরা
[email protected]
 

আরও পড়ুন

×