পিয়ানো দিয়ে শুরু, গান নিয়েই উচ্চ শিক্ষা, সেই শ্রুতি এখন...
শ্রুতি হাসান। ছবি: সংগৃহীত
মীর সামী
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৫ | ১৫:০৫ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৫ | ১৫:৩২
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্রদের একজন শ্রুতি হাসান। জন্মের পর থেকেই তিনি ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। বাবা কমল হাসান ভারতের অন্যতম সেরা অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব; মা সারিকা ঠাকুর হিন্দি সিনেমার জনপ্রিয় মুখ। এমন পরিবারে বেড়ে ওঠা মানেই চারপাশে শিল্প, সংগীত, সিনেমা আর আলো-ঝলমলে দুনিয়ার উপস্থিতি। ছোটবেলা থেকেই সেই আবহ তাঁকে গড়ে তুলেছিল ভিন্নভাবে। তবে পারিবারিক পরিচয় তাঁর জন্য আশীর্বাদ যেমন, তেমনি এক চাপও বয়ে এনেছিল। প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। সবাই চাইত, কমল হাসানের মেয়ে বলেই তিনি অভিনয়ে নাম লিখবেন। কিন্তু ছোট শ্রুতি তখন অন্য স্বপ্ন দেখতেন গানের। তাই শ্রুতির গল্প শুরু হয়েছিল গান দিয়েই।

শ্রুতি স্কুলজীবন থেকেই পিয়ানো বাজাতেন, গিটার হাতে গান লিখতেন। প্লেব্যাকও করেছেন শিশু বয়সে। পড়াশোনার জন্য লন্ডনে গিয়ে সংগীতশাস্ত্রে ডিগ্রিও নিয়েছেন। সংগীতই ছিল তাঁর প্রথম প্রেম। নিজের রক ব্যান্ড দ্য এক্সট্রিম নিয়ে নিয়মিত কনসার্ট করেছেন, একাধিক ইংরেজি গানও প্রকাশ করেছেন তিনি। ২০০০ সালের শুরুর দিকে অনেকেই ভাবছিলেন, শ্রুতি হয়তো ভারতীয় সংগীত জগতে স্থায়ী হয়ে যাবেন। কিন্তু নিয়তি তাঁর জন্য সাজিয়ে রেখেছিল সিনেমার মঞ্চ। ২০০৯ সালে বলিউডের ‘লাক’ ছবির মাধ্যমে তিনি নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এই সিনেমায় তাঁর সহশিল্পী ছিলেন ইমরান খান, সঞ্জয় দত্ত, রবি কিষাণের মতো অভিনয় শিল্পীরা। প্রথম ছবিটি প্রত্যাশিত সাফল্য না আনলেও, শ্রুতি ভেঙে পড়েননি; বরং চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করেছিলেন নিজের মতো করেই। এরপর দক্ষিণী সিনেমায় পা রাখার পরেই শুরু হলো আসল চলচ্চিত্র যাত্রা।
২০১১ সালে তামিল সিনেমা ‘আম আরিভু’ আর তেলেগু ছবি ‘অনাগান’ তাঁকে দর্শকদের কাছে নতুনভাবে পরিচিত করে তোলে। তবে বড় মোড় আসে ২০১২ সালের গব্বর সিং দিয়ে। পবন কল্যাণের বিপরীতে সেই ছবিতে শ্রুতিকে দেখা যায় চঞ্চল অথচ দৃঢ় এক চরিত্রে। বক্স অফিসে ছবির সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে শ্রুতি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন ‘তারকা’ হিসেবে। এরপর একে একে ‘শ্রীমান্থুদু’, ‘রেস গুর্রাম’, ‘প্রেমম’, ‘ক্র্যাক’সহ প্রতিটি ছবিতে তিনি শুধু নায়িকা হিসেবেই নন; বরং অভিনেত্রী হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বিনোদন অঙ্গনের বহুমুখী এই শিল্পী কেবল অভিনয়েই থেমে থাকেননি। সংগীত ছিল তাঁর প্রথম প্রেম, তাই ব্যস্ত শিডিউলের মধ্যেও তিনি গান গাওয়া চালিয়ে গেছেন। নিজের রক ব্যান্ড নিয়ে দেশ-বিদেশে কনসার্ট করেছেন। ২০১৭ সালে ইংরেজি অ্যালবামও প্রকাশ করেন।

ফ্যাশন দুনিয়াতেও তাঁর উপস্থিতি দারুণ আলোচিত– গথিক ব্ল্যাক পোশাক, সাহসী মেকআপ, আর ভিন্নধর্মী লুক দিয়ে তিনি একেবারে আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া বিগ বাজেট ছবি সালার: পার্ট ১– সিজফায়ার তাঁর ক্যারিয়ারের আরেক বড় অর্জন। প্রভাসের বিপরীতে অভিনীত ছবিটি আলোচনার জন্ম দিলেও তার পর প্রায় দুই বছর বড় পর্দা বা ওটিটি কোথাও আর দেখা যায়নি তাঁকে। ভক্তদের কৌতূহল বাড়তে থাকে, তিনি কি অভিনয় থেকে সরে যাচ্ছেন? শ্রুতি বরাবরের মতোই নীরব ছিলেন। কিন্তু সেই নীরবতার মধ্যেই জমা হচ্ছিল নতুন প্রস্তুতি। সম্প্রতি মুক্তি পেল তাঁর নতুন তামিল সিনেমা ‘কুলি’। রহস্য আর থ্রিলারে ভরপুর এই সিনেমায় তাঁর সহশিল্পীদের তালিকা যেন রূপকথার মতো রজনীকান্ত, আমির খান, নাগার্জুন, উপেন্দ্র, সত্যরাজ। এত বড় তারকাখচিত প্রজেক্টে শ্রুতি নিজের জায়গা ধরে রাখলেন শক্তভাবে। দর্শক ও সমালোচকরা বলছেন– এ যেন শ্রুতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
পর্দার বাইরে শ্রুতি আলাদা এক চরিত্র। স্পষ্টভাষী, নির্ভীক আর স্বাধীনচেতা। সমাজের নিয়ম মেনে চলা নয়; বরং নিজের নিয়ম তৈরি করে চলাই যেন তাঁর বৈশিষ্ট্য। ফ্যাশন, সংগীত আর অভিনয় সবখানেই তিনি সমান আত্মবিশ্বাসী। তিনি স্পষ্টভাষী, স্বাধীনচেতা এবং নিজের নিয়মে চলতে অভ্যস্ত। ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, সম্পর্ক কিংবা ক্যারিয়ার সবকিছু নিয়েই তিনি খোলামেলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, নিজের মত প্রকাশ করেন নির্ভয়ে।
শ্রুতি এখন বেছে বেছে কাজ করতে চান। বাণিজ্যিক ছবির বাইরে কনটেন্ট-ভিত্তিক ছবিতেও তাঁকে দেখা যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। গান নিয়েও নতুন কিছু পরিকল্পনা আছে তাঁর। সব মিলিয়ে তিনি চান, শিল্পী হিসেবে বহুমাত্রিক রূপে নিজেকে উপস্থাপন করতে।
- বিষয় :
- শ্রুতি হাসান
- বলিউড তারকা
