ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর ও হেনস্থার জেরে খুলশী থানার ওসিও প্রত্যাহার
আরিফুর রহমান
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০১:৩৭
অবশেষে প্রত্যাহার করা হলো খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে। ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্থার ঘটনায় দিনভর আলোচনায় ছিলেন তিনিও। নাঈম হাসান ওসির বিরুদ্ধেও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনেছিলেন। রাতে ওসিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
আর খুলশী থানায় নতুন ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে। বাকলিয়া থানায় তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে সিটিএসবির পরিদর্শক জাহেদুল কবিরকে। রাতে সিএমপির এক অফিস আদেশে এসব রদবদল করা হয়।
আজ শনিবার বিকেলে নিজ বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নাঈম হাসান ওসির দুর্ব্যবহার নিয়েও কথা বলেন।
নাঈম বলেন, থানায় নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও খুলশি থানার ওসি আরিফুর রহমান আমাকে বললেন, ‘চোখ নিচে নামিয়ে কথা বল।’- এটা বলার কিছুক্ষণ পরই উনার মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনে কথা বলার পর তিনি আবার আমাকে বললেন, ‘ভাইয়া, আপনি বসেন।’ তখন তার কথার সুর পুরোপুরি বদলে যায়।
‘কোনো তথ্য থাকলে পুলিশ অবশ্যই আমাকে থামিয়ে ব্যাগ চেক করতে পারত। তল্লাশি করার অধিকার তাদের আছে। কিন্তু তারা সেটা করেনি। আমি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামার পর আবার উঠতে গেলে একজন পুলিশ সদস্য ভেতরে ঢুকে আমার গলা চেপে ধরে। আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। তারা আমার ব্যাগও চেক করেনি, কিছুই চেক করেনি। সবকিছু থানায় নিয়ে যায়। থানায় গিয়ে ওসির সামনে নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও সম্মানজনক আচরণ পাইনি’ -যোগ করেন নাঈম হাসান।
ঘটনার সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নাঈম বলেন, ‘রাতের ওই সময়ে আশপাশের মানুষ এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।’
তবে ওসি আরিফুর রহমান সকাল থেকেই এ ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি জানান, এসআই শফিকুলের টিম তাকে না জানিয়েই নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্থা করেছে। তিনি ঘটনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। নাঈম পরিচয় দেওয়ার পর তিনি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং নাঈমকে থানা থেকে বিদায় করেন। কিন্তু তার এই বক্তব্য আমলে নেয়নি পুলিশের উপর মহল। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তাই শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হলো ওসি আরিফকেও। এর আগে এসআই শফিকুলসহ তিন পুলিশকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। দুজনকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়। প্রসঙ্গত ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে শুক্রবার মধ্যরাতে মারধর ও হেনস্থা করে খুলশী থানা পুলিশের একটি টহল টিম। এসময় পুলিশের সোর্সও নাঈমের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম
- ক্রিকেটার
- নাঈম হাসান
- ওসি
- প্রত্যাহার
