বিএসএফের গুলিতে নিহত মুজিবের মরদেহ ২৫ ঘণ্টা পর হস্তান্তর
মরদেহ হস্তান্তর
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০০:২৪
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত মুজিবুর রহমানের (২২) মরদেহ প্রায় ২৫ ঘণ্টা পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিজিবি-বিএসএফের কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের পর আজ শনিবার রাত ৮টার দিকে চাতলাপুর স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহটি বাংলাদেশে ফেরত দেয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
নিহত মুজিবুর রহমান উপজেলার দত্তগ্রাম ইউনিয়নের লাখাইরচর এলাকার আজিজুর রহমান ওরফে অজিব আলীর ছেলে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে মরদেহ হস্তান্তর করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ৯টার দিকে মরদেহটি পরিবারের কাছে দেওয়া হয়।
এ সময় নিহতের স্বজন, উভয় দেশের পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্য, বিজিবি ও বিএসএফের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৫টার পর দত্তগ্রাম সীমান্তসংলগ্ন মনু নদীর চরে ভারতের তারবেড়া এলাকার কাছে গেলে বিএসএফের গুলিতে মুজিবুর রহমান নিহত হন। পরে বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ভারতের উনকোটি জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। শনিবার বিজিবি-বিএসএফের বৈঠকের পর মরদেহ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে ৪৬ বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় ভূখণ্ডে চোরাচালান করতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ৬-৭ জনের একটি দল ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহযোগিতায় চোরাই মালামাল আনার উদ্দেশ্যে সীমান্ত পিলার ১৮৫২/৫-এস এলাকা দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা বাধা দিলে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করে। পরে আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ ২ থেকে ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে মুজিবুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে দাবি করা হয়।
বিজিবি আরও জানায়, নিহত মুজিবুর পূর্বেও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।
তবে নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। মুজিবের মা লায়লা বেগম, স্ত্রী রহিমা বেগম ও স্বজনদের ভাষ্য, মাছ ধরার জন্য মনু নদীতে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে হত্যা করে।
