ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

শরীয়তপুরে নির্যাতনের পর নারীকে বাঁধা হলো বৈদ্যুতিক খুঁটিতে

শরীয়তপুরে নির্যাতনের পর নারীকে বাঁধা হলো বৈদ্যুতিক খুঁটিতে
×

ফাইল ছবি

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ২২:৪৬

শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকায় শনিবার এক নারীকে নির্যাতনের পর বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই নারী উত্তর পালং এলাকায় থাকেন। তাঁর দুই সন্তান আছে। স্বামী বিদেশে থাকেন। সম্প্রতি আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেলোয়ার দপ্তরি ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে ওই নারীর বিরোধের সৃষ্টি হয়। শনিবার সকালে আপস মীমাংসার কথা বলে ওই নারীকে দেলোয়ার দপ্তরির পরিবারের সদস্যরা তাদের বাড়িতে ডেকে নেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে দেলোয়ার দপ্তরির ছেলে পলক, মেয়ে, স্ত্রী ও এক আত্মীয় ওই নারীকে মারধর করেন। পরে তাঁর চুল কেটে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে মাদক বিক্রির অভিযোগ তুলে মুখে আলকাতরা মাখা হয়। এরপর গলায় জুতার মালা পরিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী বলেন, ‘আমি কোনো মাদক বিক্রি করি না। যদি কোনো প্রমাণ মেলে, তাহলে যেই শাস্তি হবে তা আমি মেনে নেব। দেলোয়ার দপ্তরি আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। সেই প্রমাণ হিসেবে সে নিজেই ঢাকায় গিয়ে আমাকে সই করে স্ট্যাম্প দিয়েছে। এখন সেই টাকার স্ট্যাম্প ফেরত নেওয়ার জন্য তাঁর পরিবারের লোকজন দিয়ে আমাকে মারধর করেছে, চুল কেটে দিয়েছে এবং মুখে আলকাতরা মেখে বেঁধে রেখেছে। পলক আমাকে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়েছে। আমি বাঁচার জন্য এক বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখান থেকে টেনে এনে মারধর করা হয়। আমি অন্যায় করলে তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারত। এভাবে কেন আমাকে মারধর করা হলো? আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচার চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দেলোয়ার দপ্তরির মেয়ে বলেন, ‘ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন এবং তাঁর কারণে পারিবারিক অশান্তির সৃষ্টি হয়েছে।’ তাঁর দাবি, এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজন নারী তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে ঘটনা জানাজানি হলে উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তিনি সুস্থ হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

×