ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যতদিন পারব, আপনাদের জন্য গাইব: রুনা লায়লা

যতদিন পারব, আপনাদের জন্য গাইব: রুনা লায়লা
×

রুনা লায়লা। ছবি: সংগৃহীত

মীর সামী

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ | ১৩:৪০ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ | ১৪:৫২

রুনা লায়লা। উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ও সুরকার। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে গান গাইছেন বরেণ্য এই সংগীতশিল্পী। ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন তিনি। যুক্ত আছেন সমাজসেবামূলক নানা কার্যক্রমে। ১৯৫২ সালের আজকের দিনে বরেণ্য এই শিল্পী জন্মগ্রহণ করেন, আজ জীবনের আরেকটি নতুন বছর শুরু করলেন তিনি। জন্মদিনসহ নানা প্রসঙ্গে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

শুভ জন্মদিন, দৈনিক সমকালের পক্ষ থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা।
ধন্যবাদ। আমার জন্য দোয়া করবেন, যাতে আগামী দিনগুলো আনন্দে কাটাতে পারি। আল্লাহ যেন আমার পরিবারের সবাইকে সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন। আমি যেন আরও সুন্দর সুন্দর গান শ্রোতাদের উপহার দিতে পারি।

আজকের দিনটি কীভাবে উদযাপন করবেন?
খুব সাধারণভাবেই দিনটি কাটবে। জন্মদিনে সবসময় যা হয়, এদিন সন্ধ্যায় সহকর্মী ও বন্ধুরা আসে। এ ছাড়াও এমনিতে সারাদিন ধরে ফোনে শুভেচ্ছা জানান শুভাকাঙ্ক্ষীরা। পরিবারের পাশাপাশি সবাই বিশেষ দিনটিতে আমাকে মনে করেন। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে আমাকে নিয়ে নানাজন কত কথা লেখেন, সেগুলো আমি মন দিয়ে পড়ি।

গত বছর বলেছিলেন, আপনার বয়স ১৭ বছর। এবার বাড়ল...
বয়স আমার ওখানেই আটকে আছে (হাসি)। আসলে মনের তারুণ্যই বড় কথা। মনে তারুণ্য থাকলে সবকিছুই ভালো লাগে। আমি সব সময় বিশ্বাস করি, মানুষের দেহের বয়স বাড়ে, মনের নয়। 

জন্মদিন উপলক্ষ্যে গতকাল কোক স্টুডিওতে প্রকাশ হয়েছে, আপনার গাওয়া বিখ্যাত গান ‘দমা দম মাস্ত কালান্দার’। এই আয়োজনে অংশ নিয়ে কেমন লেগেছে…
দারুণ। জন্মদিনে আমার জন্য বেশ দারুণ একটা উপহার দিল কোক স্টুডিও বাংলা। গতকাল প্রকাশ পেলেও গানটি রেকর্ড হয়েছে অনেক দিন আগে। মাঝে প্রায় এক বছর কোক স্টুডিও বাংলার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় গানটি প্রকাশ করতে এত সময় লাগল। বেশ আয়োজন করে গানটি করেছে তারা। আমার বিশ্বাস, শ্রোতাদেরও ভালো লাগবে।

এই গানের জন্য আপনাকে ‘দামদাম গার্ল’ ডাকা হতো..
হ্যাঁ, ‘দমা দম মাস্ত কালান্দার’ গানটির জন্য ভারতে আমাকে ‘দামদাম গার্ল’ ডাকা হতো। এই গানটি আমার ক্যারিয়ারের একটি বড় মোড় বলতে হয়। এই গানটি এমনভাবে জনপ্রিয় হলো যে। রাস্তাঘাটে, রেডিওতে, দোকানে, যেখানেই যেতাম, শুনতাম আমার কণ্ঠ। এখনও প্রায় প্রতিটি কনসার্টে গানটির জন্য দর্শকরা অনুরোধ করেন।  

শুনলাম জন্মদিনে আপনাকে নিয়ে লেখা একটা উপন্যাস প্রকাশ হচ্ছে…
ঠিকই শুনেছেন। আমাকে নিয়ে উপন্যাস লিখেছেন কথাসাহিত্যিক আবদুল্লাহ আল মুক্তাদির। নাম ‘মায়ার সিংহাসন’। বইটি প্রকাশ করছে চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন। আমাকে নিয়ে লেখা বইটি আশা করি আমার ভক্ত ও শ্রোতাদের ভালো লাগবে। 

আপনাকে নিয়ে আজ চ্যানেল আইতেও থাকছে বিশেষ আয়োজন…
আমার জন্মদিনে প্রতি বছরই চ্যানেল আই নানা ধরনের আয়োজন করে। এবারও জেনেছি, তারা বেশ কিছু আয়োজন করেছেন। দিনভর নানা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আমাকে নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘চিরদিন আমি রব’ প্রচার হবে আজ রাত সাড়ে ১০টায়। অনন্যার রুমার প্রযোজনায় এই আয়োজনে আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছে চ্যাপনেল আই সেরাকণ্ঠের কোনাল, ঝিলিক এবং ইউসুফ।

আপনার কাছে জীবন মানে কী?
জীবন একটাই। তাই জীবন যতটা উদযাপন করা যায় ততটাই ভালো। এ উদযাপন কাজে, সম্পর্কে ও জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে হতে হয়। আমার জীবন হচ্ছে, আমার গান ও পরিবার। দুঃখ তো সবার জীবনেই থাকে। বাবা-মা-বোনের কথা মাঝেমধ্যেই মনে পড়ে। 

সংগীতজীবনের যাট বছরের বেশি সময় পার করেছেন। বিষয়টি ভাবতে কেমন লাগে? 
কীভাবে এতগুলো বছর গানের সঙ্গে কেটে গেল, বুঝতেই পারিনি। মহান আল্লাহতায়ালার প্রতি অসম্ভব কৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে শিল্পীজীবন দিয়েছেন। সৃষ্টিকর্তার রহমত, বাবা-মায়ের সহযোগিতা এবং আমার গুরুদের আশীর্বাদ, সবার দোয়া ও ভালোবাসায় আমাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। এ ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও শ্রদ্ধা যেন চিরকাল থাকে আমার সঙ্গে। 

এত বছর ধরে আপনি আপনার গায়কি ধরে রেখেছেন; যা অনেক শিল্পীর ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না...
আমি মনে করি একজন শিল্পীকে দীর্ঘকাল তাঁর শিল্পসত্তার মধ্যে নিবিষ্ট থাকতে হলে তার চারপাশটা সুস্থ ও সুন্দর রাখতে হয়। পজিটিভ চিন্তাভাবনা, পজিটিভ এনার্জির সঙ্গে ওঠাবসা এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত ইমপ্রুভ করার মানসিকতা থাকতে হয়। শুধু নিয়ম করে রেওয়াজ নয়। পুরো জীবনপ্রণালি হতে হয় নিয়মতান্ত্রিক। এ ক্ষেত্রে সারগাম করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি খাদ্যাভ্যাস, শরীরের প্রতি যত্নশীল, ঠিক ততটাই মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান।

জীবনের এই সময়ে এসে পাওয়া না পাওয়ার হিসাব কি মেলান?
একদমই না। আল্লাহর রহমতে অনেক পেয়েছি। এক জীবনে দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এত এত পেয়েছি, শুকরিয়া আদায় করেও শেষ করতে পারব না। এখনও পাচ্ছি। আমার ভক্ত আর শ্রোতাদের বাইরে সংগীতাঙ্গনের অগ্রজ, অনুজ এবং সমসাময়িক সবার স্নেহ, সম্মান, ভালোবাসা তো অতুলনীয়। একজন শিল্পীর জন্য এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে?

বর্তমান প্রজন্মের সংগীতশিল্পীদের নিয়ে আপনার মত কী?
নতুন প্রজন্মকে আমি খুব কাছ থেকে দেখি, অনেকেই অসাধারণ কাজ করছে। তাদের ভয়েস টেক্সচার, মেলোডি বোধ, পরীক্ষার আগ্রহ। সবই প্রশংসনীয়। শুধু একটা কথাই বলব। ধারাবাহিকতা রক্ষা কর, শুদ্ধ সুরে নিজেকে গড়ে তোলো। সাফল্য তখন আপনিই চলে আসবে।

আপনি এত দেশের ভাষায়, এত সিনেমায় গান করেছেন। কীভাবে এই বহুমুখিতা তৈরি হলো?
আমি সবসময় বিশ্বাস করি, একজন শিল্পী যদি মন খুলে শেখে, তবে তার ভুবনই প্রসারিত হয়। কণ্ঠে যদি মেলোডি থাকে, তবে ভাষা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। আমি ছোটবেলা থেকেই সব ভাষার গান শুনতাম, ফলে যখন যে ভাষায় গানের সুযোগ পেয়েছি, করেছি। আর গান মানেই তো আবেগ। আবেগ তো সব ভাষায় একই।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আপনি কী মনে করছেন?
আমি আশাবাদী একজন মানুষ। আমার বিশ্বাস, একদিন দেশের সব সংকট দূর হবে।

আপনার ভক্ত ও শ্রোতাদের জন্য আপনার বার্তা কী?
আমার ভক্ত আর শ্রোতারা হলো আমার পরিবার। তারা আমায় এত বছর ভালোবেসেছেন, আগলে রেখেছেন। ফলে তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। শিল্পী হিসেবে আমার একটাই প্রতিশ্রুতি, যতদিন পারব, আপনাদের জন্য গাইব।

আরও পড়ুন

×