সিনেমায় অভিনয় করার কথা তো কোনোদিনই ভাবিনি: মারিয়া শান্ত
মারিয়া শান্ত। ছবি: ফেসবুক
রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৫:১৩ | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৫:৫০
মারিয়া শান্ত। অভিনেত্রী ও মডেল। সম্প্রতি ‘হৃদয় গভীরে’সহ আরও বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করে দর্শক মনোযোগ কেড়েছেন তিনি। নাটকের পাশাপাশি এবার সিনেমায় কাজ শুরু করেছেন ছোট পর্দায় আলোচিত এই তারকা। অভিনয় নিয়ে নিজস্ব ভাবনা, বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তাঁর সঙ্গে...
অনেকের মুখে আপনার ‘হৃদয় গভীরে’ নাটকের প্রশংসা শোনা যাচ্ছে। কেমন লাগছে বিষয়টি?
অভিনীত কোনো নাটক দর্শক প্রশংসা পেলে ভালো লাগা স্বাভাবিক। এরপর যখন শুনছি, অল্প সময়ে রেকর্ডসংখ্যক দর্শক ‘হৃদয় গভীরে’ নাটকটি দেখে ফেলেছেন, তখন আনন্দের পাশাপাশি কিছুটা হতাশা কাজ করছে। কারণ, এ নাটকে আমার চরিত্রটি যেভাবে উপস্থাপন করার কথা ছিল, যেখানে পর্দায় পুরোপুরি তুলে ধরা হয়নি। কাহিনিতে কিছুটা রদবদল আনা হয়েছে। সেটি না হলেও এই নাটকের সাফল্য আমাকেও দারুণভাবে আপ্লুত করত।
‘হৃদয় গভীরে’ নাটকে আপনার চরিত্রটি নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, এটা কী আগে থেকে জানতেন না?
আমি জানতাম, চরিত্রের দুটি দিক থাকবে। যেখানে দেখা যাবে, আমি একই সঙ্গে মানবিক এবং স্বাধীনচেতা বলে কিছুটা স্বার্থপর স্বভাবের। কিন্তু নাটকের যেভাবে আমার চরিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে, সেখানে স্বার্থপর নারীসত্তা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এমন নয় যে, কাহিনি পুরোপুরি বদলে ফেলা হয়েছে। একটু উনিশ-বিশ হলেও যে চরিত্র আলাদা অবয়ব পায়, অভিনয়ের সময় তা বুঝতে পারিনি। তবে এ নিয়ে কারও প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। কারণ, কাজ শেষে পুরো গল্পটা কী রূপ নেবে, তা বুঝতে না পারার ভুলটা আমারই।

গল্প ও চরিত্র নির্বাচনে আগে আপনার ভাবনাটা কী থাকে?
অভিনয়ের বিষয়ে ভালো গল্প ও চরিত্র ছাড়া আমার আসলে চাওয়ার বেশি কিছু নেই। যে গল্প মানুষকে কিছুটা হলেও ভাবাবে, চরিত্রগুলোয় পাওয়া যাবে চেনা মানুষের ছায়া– এটাই চাই।
যে মানুষগুলোকে কাজ থেকে দেখার সুযোগ হয়নি, এমন চরিত্র পর্দায় তুলে ধরতে কীভাবে প্রস্তুতি নেন?
যাদের জীবনযাপন কাজ থেকে দেখার সুযোগ পায়নি, তাদের ভাবনার জগৎ সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা নেই, এমন চরিত্রে কাজ করা সত্যি চ্যালেঞ্জিং। তারপরও সেসব চরিত্রের প্রতি দুর্বলতা আছে বলেই অভিনয় করতে চাই। এ ক্ষেত্রে নিজের কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগাই। ভেবে নেওয়ার চেষ্টা করি, তাদের জীবনযাপন থেকে শুরু করে ভাবনার জগতটা কেমন হতে পারে। অবশ্যই এ ক্ষেত্রে পরিচালকদের সহযোগিতা নেই। কারণ, এখনও আমি পরিচালকনির্ভর অভিনেত্রী। নির্মাতারাই আমার প্রতিটি কাজের শক্তি ও সাহসের জোগানদার।
ছোট পর্দায় কম-বেশি সবাই জুটি গড়ে অভিনয় করে যাচ্ছেন। আপনাকে কারও সঙ্গে যেভাবে জুটি গড়তে দেখা যায়নি, এর কারণ কী?
কারও সঙ্গে জুটি গড়ে এক নাগাড়ে কাজ করে যেতে হবে– এই বিষয়টা এখনও সহজভাবে নিতে পারিনি। কারণ, আমার ক্যারিয়ার বেশি দিনের নয়। আমি মনে করি, অনেকটা পথচলা বাকি আছে। এখনই জুটি গড়ে উঠলে অনেক শিল্পী ও তারকার সঙ্গে সুযোগ ততটা পাব না। সবার আগে জরুরি অভিনয়ে নিজেকে আরও ভালোভাবে গড়ে নেওয়া। সেই সুবাদে যদি ভবিষ্যতে কারও সঙ্গে জুটি গড়ে ওঠবে কিনা, সেটি সময়ই বলে দেবে।

‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় আসছেন। সিনেমায় অভিনয়ের স্বপ্ন কি আগে থেকেই ছিল?
সিনেমায় অভিনয় করার কথা তো কোনোদিনই ভাবিনি। তাই বড় পর্দার অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন লালন করেছি, এমন দাবিও করি না। হঠাৎ করেই রাফী ভাইয়ের কাছ থেকে [পরিচালক রায়হান রাফী] সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়া। ভীষণ পছন্দের একজন পরিচালকের কাছ থেকে আসা প্রস্তাব কোনোভাবেই ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল না। তা ছাড়া ‘প্রেশার কুকার’ গল্পটাও দারুণ, চরিত্রেও আছে গভীরতা। তাই সিনেমায় অভিনয় নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়েছি।
‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায় গল্প ও আপনার চরিত্র নিয়ে জানতে চাই। এই সিনেমার দর্শক কী মারিয়া শান্তকে নতুনরূপে আবিষ্কারের সুযোগ পাবেন?
এই একটি প্রশ্নের উত্তরে মুখে কুলুপ এঁটে রাখতে চাই। কারণ নির্মাতাদের পক্ষ থেকে ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমা নিয়ে মুখ খোলা বারণ আছে। এই সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছি, এটাও বলতাম না, যদি না এর খবর আগেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত। তবে এটুকু আশ্বাস দিতে পারি, দু-চার দিনের মধ্যেই এই সিনেমার ডিটেলস সবাই জানতে পারবেন। নির্মাতাদের পক্ষ থেকেই সবকিছু জানিয়ে দেওয়া হবে।
- বিষয় :
- মারিয়া শান্ত
- ঢালিউড
- নাটক
- সিনেমা
