ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টানা ৩ দিন সেটে আমাকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি: মৌসুমী হামিদ

টানা ৩ দিন সেটে আমাকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি: মৌসুমী হামিদ
×

মৌসুমী হামিদ। ছবি:সংগৃহীত

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৪:৩২ | আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৫:০১

মৌসুমী হামিদ। অভিনেত্রী। গতকাল ওটিটি মাধ্যম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ওয়েব সিনেমা ‘জ্বীনের বাচ্চা’। অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান পরিচালিত এই সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন বাকপ্রতিবন্ধী নারীর চরিত্রে। এই সিনেমা নিয়ে কথা হলো তাঁর সঙ্গে–

‘জ্বীনের বাচ্চা’। নামটাই কৌতূহল জাগায়...
সত্যি বলতে, শুরুতে নাম শুনে একটু ধাঁধায় পড়েছিলাম। আমাদের সংস্কৃতিতে ‘জ্বীন’ শব্দটি শুনলেই এক ধরনের অতিপ্রাকৃত বা লোকবিশ্বাসের ইঙ্গিত আসে। মনে হয়েছিল হয়তো ভৌতিক বা লোককাহিনি ঘরানার কিছু হবে। কিন্তু স্ক্রিপ্ট হাতে পাওয়ার পর পুরো ধারণাই বদলে যায়। এটা আসলে এক নারীর গভীর মানসিক যন্ত্রণার গল্প। 
আপনার অভিনীত চরিত্রটি নিয়ে বলুন? 
এই গল্পে আমি যে চরিত্রে অভিনয় করেছি। সে সমাজের চোখে ‘অপূর্ণ’। একেতো নিঃসন্তান, অন্যদিকে বাকপ্রতিবন্ধী। ফলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অবহেলা, প্রতিবেশীদের কটূক্তি। সব মিলিয়ে চরিত্রটি হয়ে ওঠে নিঃশব্দ যন্ত্রণার প্রতীক। সমাজের চাপ, কুসংস্কার, অবহেলা আর নিঃসঙ্গতার ভেতর দিয়ে এক নারীর মানসিক যাত্রার মধ্য দিয়ে তুলে ধরতে চেয়েছেন নির্মাতা। এই গল্পের চিত্রনাট্য পড়তে পড়তে কয়েক জায়গায় থেমে গেছি, কারণ চরিত্রটির নিঃসঙ্গতা খুব স্পষ্টভাবে অনুভব করেছি। তখনই মনে হয়েছিল, এটা শুধু আরেকটা প্রজেক্ট নয়। এটা আমার জন্য একটা দায়িত্বও।

সংলাপহীন চরিত্রে অভিনয় কতটা চ্যালেঞ্জিং?
ভীষণ কঠিন। আমরা সাধারণত সংলাপের ওপর অনেকটা নির্ভর করি। এখানে সেটা ছিল না। শুধু চোখ, মুখের পেশি, দেহভঙ্গি। এসব দিয়ে আবেগ প্রকাশ করতে হয়েছে। অনেক সময় মনে হয়েছে, কথা বলতে পারলে হয়তো সহজ হতো। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতাই চরিত্রটিকে আরও বাস্তব করেছে। 

চরিত্রটির জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন?
প্রায় তিন সপ্তাহ আমি নিজেকে আলাদা করে রেখেছিলাম। কথা কম বলতাম, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন অনুভূতির অনুশীলন করতাম। ইউটিউবে ও বাস্তবে বাকপ্রতিবন্ধী নারীদের জীবনযাপন দেখেছি। বুঝতে চেয়েছি। তারা কীভাবে অভিমান প্রকাশ করেন, কীভাবে প্রতিবাদ করেন, কীভাবে ভালোবাসেন। শুধু অভিনয় নয়, মানসিকভাবে নিজেকে সেই জায়গায় নিতে হয়েছে। এর পাশাপাশি চরিত্রটির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে টানা তিন দিন সেটে আমাকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।

শুটিংয়ের সময়কার কোনো মুহূর্ত দাগ কেটেছে?
হ্যাঁ, একটি দৃশ্য ছিল যেখানে চরিত্রটি নিঃশব্দে কাঁদছে। কোনো সংলাপ নেই, শুধু ক্যামেরা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। সেই দৃশ্যের আগে পরিচালক বলেছিলেন, ‘কথা বলতে পারবে না, কিন্তু দর্শক যেন তোমার ভেতরের চিৎকার শুনতে পায়।’– এই লাইনটা আমাকে খুব নাড়া দিয়েছিল। আরেকটি দৃশ্যে পানির মধ্যে শুট করতে গিয়ে শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু দৃশ্যটির আবেগ এত তীব্র ছিল যে, ক্লান্তি ভুলে গিয়েছিলাম। পুরো ইউনিট খুব সহযোগিতা করেছে।

দর্শকদের জন্য এই গল্পটি কতটা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন?
খুবই প্রাসঙ্গিক। আমাদের সমাজে এখনও নিঃসন্তান নারী বা ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষদের নিয়ে নানা কুসংস্কার আছে। অনেক সময় তাদের দোষী বানানো হয়, অপমান করা হয়। এই গল্প সেই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। আমি চাই দর্শক যখন কাজটি দেখবেন, তখন শুধু বিনোদন খুঁজবেন না। একটু ভাববেনও। হয়তো তাদের আশপাশে এমন কেউ আছেন, যাঁকে তারা না বুঝেই বিচার করছেন। যদি এই গল্প কারও দৃষ্টিভঙ্গি সামান্যও বদলাতে পারে, তাহলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে। শেষ পর্যন্ত ‘জ্বীনের বাচ্চা’ অলৌকিক গল্প নয়– এটা খুব বাস্তব, মানবিক এক কাহিনি।

আরও পড়ুন

×