বিতর্ক-আইনি জটিলতা, ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ মুক্তি প্রশ্নবিদ্ধ
ছবি-সংগৃহীত
উপমা পারভীন
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৬:২১ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৬:২৩
প্রথম ছবি ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ মুক্তির দিনগুলো মনে আছে কি? তখনই বোঝা গিয়েছিল, এটি কেবল একটি সিনেমা নয়; বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের গল্প। দেশের প্রতিটি প্রান্তে সিনেমাটি নিয়ে কথা হয়। কেউ প্রশংসা করেছিল সাহসী কাহিনির জন্য, আবার কেউ সমালোচনা করেছে ছবির ধারা ও বক্তব্যকে। সেই বিতর্কের ছায়ায় এবার এসেছে ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ড’।
প্রযোজক বিপুল শাহ ফের এমন এক গল্প নিয়ে ফিরে এসেছেন, যা মুক্তির আগেই তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ঘোষণা অনুযায়ী, ছবির মুক্তি আগামীকাল। তবে মুক্তি নিশ্চিত নয়। ক্রমবর্ধমান আইনি জটিলতা, সেন্সর বোর্ডের ১৬টি কাট, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং সামাজিক বিতর্ক– সব মিলিয়ে মুক্তির তারিখ এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
এবারের সিনেমায় শুধু কেরালার গল্প নয়। ট্রেলারের প্রথম দৃশ্যে দেখা যায়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং কেরালার তিনটি ভিন্ন শহরে তিন তরুণীর জীবন কেমনভাবে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় চাপের মধ্যে আটকে গেছে। রাজস্থানে ভুয়া পরিচয়ে বিয়ে, মধ্যপ্রদেশে ধর্মান্তরের চাপ, আর কেরালায় একটি আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক– এই তিনটি গল্প মিলিয়ে ছবির মূল কাঠামো গড়ে উঠেছে। টিজারে নির্মাতাদের দেওয়া বার্তাটি স্পষ্ট, ‘তারা আমাদের মেয়েদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে… এবার আমরা নীরব থাকব না।’
এই কথার মধ্যেই সিকুয়েলের থিম, অবস্থান ও সাহস ফুটে উঠেছে। ছবির গল্পে দেখা যায়, একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া চরিত্ররা সমাজের বাধা অতিক্রম করতে চায়। তাদের ভেতরের দ্বন্দ্ব, পরিবারের চাপ এবং সমাজের প্রত্যাশা– সব মিলিয়ে কাহিনিকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
প্রথম ছবির মতোই এবারও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র। অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত ছবিটিকে ‘ওয়েক-আপ কল’ বলে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা শশী থারুর এবং কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ি বিজয়ন নির্মাতাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মেরূকরণ ছবির প্রদর্শনকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে। ট্রেলার প্রকাশের পরেই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সিনেমার নাম কেরালার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এমনকি আদালতেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ছবিটি মুক্তি পেতে পারবে কিনা, তা এখন ভারতীয় কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র অনুমোদন পর্ষদের (সিবিএফসি) নির্দেশ এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভর করছে। সেন্সর বোর্ড ছবিতে ১৬টি কাট এবং কিছু পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে। এই পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে চুম্বন, হিংসাত্মক দৃশ্যসহ বেশ কিছু সংবেদনশীল দৃশ্য।
সেই সঙ্গে নির্মাতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ছবির শেষে একটি ডিসক্লেইমার যোগ করতে হবে, যেখানে বলা হবে, ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর পাশাপাশি ২ মিনিট ৩ সেকেন্ডের একটি ভয়েস-ওভারও যোগ করতে হবে। এই পরিবর্তনের পর ছবির দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে।
ভারতীয় সিনেমায় বিতর্ক নতুন কিছু নয়; বরং অনেক সময়ই বিতর্ক বক্স অফিসে কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়। প্রথম কিস্তিও সেই অভিজ্ঞতার সাক্ষী। প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিতর্ক কি সত্যিই অনাকাঙ্ক্ষিত, নাকি এটি পরিকল্পিত আলোচনার অংশ? যতই বিতর্ক বাড়ছে, ততই ছবিটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছেছে।
‘দ্য কেরালা স্টোরি ২: গোজ বিয়ন্ড’ কেবল একটি সিনেমা নয়। এটি সামাজিক সংকট, রাজনৈতিক মতাদর্শ, আইনি লড়াই এবং তরুণীদের সংগ্রামের এক সমান্তরাল কাহিনি। ২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তি হবে কিনা, তা এখনও অনিশ্চিত। কিন্তু এটুকু নিশ্চিত, ছবিটি ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিজের জায়গা তৈরি করেছে।
- বিষয় :
- সিনেমা মুক্তি
- সিনেমা
- বলিউড
