ভুল করলে ক্ষমা চাইছি, হাল ছাড়িনি—নারী দিবসে সুমীর খোলাচিঠি
ছবি: সংগৃহীত
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ | ১৭:৩৭ | আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ | ১৭:৩৯
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নিজের দীর্ঘ সংগ্রাম, সাফল্য ও জীবনের দর্শন নিয়ে আবেগঘন এক খোলাচিঠি লিখেছেন শারমীন সুলতানা সুমী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সেই পোস্টে ছোট শহর থেকে উঠে এসে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীত ও সৃজনশীলতার জগতে নিজের অবস্থান গড়ে তোলার গল্প তুলে ধরেছেন তিনি।
পোস্টের শুরুতেই নিজের পরিচয় তুলে ধরেন সুমী। তিনি লিখেছেন, তিনি খুলনার খালিশপুরের মেয়ে—ঝিনাইদহের শৈলকূপার প্রয়াত মকবুল হোসেন ও শেলী মকবুলের চতুর্থ কন্যা। প্রায় ২৪ বছর ধরে ব্যান্ডসংগীতের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি প্রায় ১৯ বছর ধরে বিজ্ঞাপনশিল্পে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সৃজনশীল ও কৌশলগত কাজে যুক্ত থাকার কথাও জানান তিনি।

নিজের পথচলার কথা বলতে গিয়ে সুমী লিখেছেন, ছোট শহর থেকে উঠে এসে থেমে না গিয়ে কাজ করে যাওয়াটাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। এই দেশের ধুলোমাটির গল্পকে বড় করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি। সেই পথচলায় অনেক মানুষের সাহস হয়ে উঠতে পেরেছেন বলেও মনে করেন এই শিল্পী। প্রতিকূলতার মধ্যেও ভালোবাসা, হাসি আর মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন সব সময়।
পোস্টের একপর্যায়ে নিজের ভুল স্বীকার করার কথাও অকপটে বলেন সুমী। তাঁর ভাষায়, ভুল করলে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন, কাউকে কষ্ট দিলে ‘সরি’ বলতে দেরি করেননি। তবে এসবের মধ্যেও মাথা উঁচু করে পথচলা কখনো থামাননি। নারী হিসেবে আলাদা পরিচয়ের চেয়ে মানুষ হিসেবে কাজ করে যাওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। নিজের দর্শন, কথা ও সুরে অসংখ্য গানপ্রেমীর হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন।

সুমী আরও লিখেছেন, তিনি কখনো একা বড় হতে চাননি; বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াতেই বিশ্বাস করেন। মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে পথ চলার চেষ্টা করেছেন সব সময়। তবে এই পথে অপবাদ ও অভিযোগও এসেছে—তবু তিনি হাল ছাড়েননি।
পোস্টের শেষাংশে জীবন সম্পর্কে নিজের উপলব্ধির কথা তুলে ধরেন শিল্পী। তিনি বলেন, জীবন খুব ছোট, আর পৃথিবীর পথ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাই হতাশার মাঝেও ভালো থাকার উপকরণ খুঁজে নিতে হবে। কনসার্ট, স্টুডিও কিংবা বিজ্ঞাপনচিত্রের চিত্রনাট্য—যেখানেই থাকুন না কেন, কাজের মধ্য দিয়েই নতুন অধ্যায় তৈরি করে যেতে চান তিনি।
- বিষয় :
- আন্তর্জাতিক নারী দিবস
