ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘বাবা বেঁচে থাকলে আজকের দিনটি অন্যরকম হতো’

‘বাবা বেঁচে থাকলে আজকের দিনটি অন্যরকম হতো’
×

বশির আহমেদের স্বাধীনতা পুরস্কার হাতে ছেলে রাজা বশির ও মেয়ে হোমায়রা বশির। ছবি সংগৃহীত

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪:৫৬ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৫:০১

বাংলা সংগীতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী বশির আহমেদ-এর মৃত্যুর পর কেটে গেছে ১২ বছর। ২০১৪ সালের এই দিনে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আজ ১৯ এপ্রিল তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী।

বাংলা গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করা এই গুণী শিল্পীর অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘অনেক সাধের ময়না আমার’, ‘আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো’, ‘আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে’, ‘যারে যাবি যদি যা; পিঞ্জর খুলে দিয়েছি’, ‘ডেকো না আমাকে তুমি’, ‘খুঁজে খুঁজে জনম গেল’ ও ‘সজনী গো ভালোবেসে এত জ্বালা কেন বল না’। তিনি শুধু কণ্ঠশিল্পীই নন, ছিলেন সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালকও।

১৯৩৯ সালের ১৯ নভেম্বর কলকাতার খিদিরপুরে জন্ম নেওয়া বশির আহমেদ দিল্লির সওদাগর পরিবারের সন্তান। তার বাবার নাম নাসির আহমেদ। ১৯৬৪ সালে সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। ঢাকায় আসার আগেই উর্দু চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার মাধ্যমে সংগীতজীবন শুরু করেন।
সম্প্রতি এই কিংবদন্তি শিল্পীকে মরনোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর হাত থেকে এ সম্মান গ্রহণ করেন তার মেয়ে হোমায়রা বশির।

বশির আহমেদের ছেলে রাজা বশির বলেন, ‘আজ বাবার মৃত্যুবার্ষিকী । বাবা যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তবে আজকের দিনটি সত্যিই অন্যরকম হতো।  তিনি বেঁচে থাকলে এটি আমাদের পরিবারের সবচেয়ে আনন্দের দিন হয়ে উঠত। বুকের ভেতর কষ্ট থাকলেও এই সম্মান আমাদের আনন্দিত করেছে।’ তিনি রাষ্ট্র, দেশবাসী ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং সবার কাছে বাবা-মায়ের জন্য দোয়া কামনা করেন।

হোমায়রা বশিরও আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমাদের প্রিয় পাপা বশির আহমেদ এবং আম্মি মীনা বশিরের পক্ষ থেকে আমরা বাংলাদেশ সরকার, গণমাধ্যম, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা সত্যিই গর্বিত তাদের সন্তান হতে পেরে।’

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে। 
চলতি বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে এ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। বশির আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার ভক্ত ও সংগীতপ্রেমীরা স্মরণ করবেন এই কিংবদন্তিকে—যার কণ্ঠ আজও অনুরণিত হয় বাংলা গানের আকাশে।
 

আরও পড়ুন

×