ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চলচ্চিত্রপাড়ায় কালো দিবস, স্মৃতিতে নেই, আয়োজনেও নেই

চলচ্চিত্রপাড়ায় কালো দিবস, স্মৃতিতে নেই, আয়োজনেও নেই
×

ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:৪১ | আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:৫১

কয়েক বছর আগেে আজকের দিনটিকে ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গন। সেই ২৩ এপ্রিল আজ অনেক নিঃশব্দেই পেরিয়ে যাচ্ছে। ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে কোথাও তার প্রতিফলন নেই। না কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি, না কোনো স্মরণসভা।

ঘটনাটি ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিলের। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি-এর নবনির্বাচিত কমিটির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। একপর্যায়ে তা রূপ নেয় সহিংসতায়-সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে কিছু শিল্পীর বিরুদ্ধে। এতে আহত হন একাধিক গণমাধ্যমকর্মী।

এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিনোদন অঙ্গনে। ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক জয় চৌধুরী। তবে সেই সংবাদ সম্মেলনেও সাংবাদিকদের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘটনার সময় নেতৃত্বে ছিলেন শিবা শানু, জয় চৌধুরী এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আলেকজান্ডার বো। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক মহল থেকে জয় চৌধুরীকে আজীবনের জন্য বয়কটের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতি বছর ২৩ এপ্রিল ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে সেই ঘোষণা আজ অনেকটাই ম্লান। সময়ের পরিবর্তনে বদলেছে প্রেক্ষাপট, বদলেছে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাও। ফলে একসময় আলোচিত এই দিনটি এখন আর তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের কোনো চলচ্চিত্র সাংবাদিক সংগঠনই এবার দিনটি উপলক্ষে কোনো কর্মসূচি নেয়নি। এমনকি ছোট পরিসরেও কোনো স্মরণ আয়োজন চোখে পড়েনি। বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিনোদন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, “সবাই এখন নিজ নিজ কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তাই দিনটি হয়তো সবার মনে থাকেনি।”

তবে পুরোপুরি নিভে যায়নি স্মৃতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দিনটি স্মরণ করে পোস্ট দিতে দেখা গেছে। সেখানে উঠে এসেছে সেই দিনের অভিজ্ঞতা, ক্ষোভ ও হতাশার কথাও।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ওই দিনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে একপর্যায়ে শিল্পী সমিতির সদস্য শিবা শানুর সঙ্গে কিছু ইউটিউবারের কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গেও বাগ্‌বিতণ্ডা তৈরি হয়। সন্ধ্যার দিকে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে হামলার ঘটনায় রূপ নেয়। পরে জয় চৌধুরী দাবি করেছিলেন, একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করেই মূলত এই উত্তেজনার সূত্রপাত।

সব মিলিয়ে, ‘কালো দিবস’ আজ আর আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত না হলেও, ঘটনাটি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনের ইতিহাসে এক বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবেই রয়ে গেছে। প্রশ্ন রয়ে যায়—সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কি এই স্মৃতিগুলোও হারিয়ে যাবে, নাকি কোনো একসময় আবার ফিরে আসবে আলোচনার কেন্দ্রে?
 

আরও পড়ুন

×