তিনি সারাজীবন নাটক নিয়েই থেকেছেন,এর বাইরে কিছু ভাবেননি: মামুনুর রশীদ
ছবি: সংগৃহীত
মামুনুর রশীদ
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ১৩:৪১ | আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ | ১৩:৪২
আতাউর রহমানের মৃত্যু কেবল একজন নাট্যব্যক্তিত্বকে হারানো নয়; বরং দীর্ঘদিনের একজন সহযোদ্ধাকে হারানো। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই তাঁর সঙ্গে পরিচয়। পাকিস্তান আমল থেকেই তিনি নাটকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্বাধীনতার পর নতুন উদ্যমে নাট্যচর্চা শুরু করেন। পরে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেন।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় তিনি নাটকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশেষ করে মঞ্চনাটকে তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। মঞ্চের জন্য অসংখ্য কাজ করেছেন তিনি। নাটক লিখেছেন, নাট্যরূপ দিয়েছেন, নির্দেশনা দিয়েছেন, অভিনয়ও করেছেন। শুধু নিজের দলের জন্য নয়, অন্য নাট্যদলের জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর কাজ দর্শকদের প্রশংসা ও ভালোবাসা পেয়েছে।
‘রক্তকরবী’ ছিল অত্যন্ত সাড়া জাগানো ও প্রশংসিত একটি নাটক। এটি তাঁর নির্দেশিত অসাধারণ একটি মঞ্চনাটক। এ ছাড়া ‘গ্যালিলিও’সহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন তিনি। এসব কাজই তাঁকে মানুষের মনে বাঁচিয়ে রাখবে। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ছিল। প্রচুর পড়তেন, জানতেন অনেক কিছু। সেই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তিনি নাট্যদলের জন্য উজাড় করে দিয়েছেন।
একসময় বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, তিনি সারাজীবন নাটক নিয়েই থেকেছেন। এর বাইরে আর কিছু ভাবেননি। শিল্পের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা ছিল। সমসাময়িক ও কিছুটা সিনিয়র অনেকেই চলে গেছেন। এবার আতাউর রহমানও চলে গেলেন। এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হলো। এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। এই শূন্যতা নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে। মঞ্চে তাঁর অনেক কাজ দেখেছি, প্রশংসাও করেছি। এত বছরের পথচলায় কত স্মৃতি, কত কথা মনে পড়ছে। সবকিছু ছেড়ে তিনি চলে গেলেন। তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রইল।
- বিষয় :
- আতাউর রহমান
- মামুনুর রশিদ
