উত্তেজনা, কুশল বিনিময় আর বহুদিন পর দেখা-দিনভর যেমন ছিল এফডিসি
ছবি: সংগৃহীত
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ১৯:১১ | আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ১৯:২২
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। একসময় যে প্রাঙ্গণ ছিল ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রাণকেন্দ্র, আজ সেখানে আগের মতো প্রতিদিন তারকাদের ভিড় দেখা যায় না। বিশাল ফ্লোরগুলো অনেক সময়ই নীরব থাকে। শুটিংয়ের ব্যস্ততাও কমেছে অনেক আগেই। বছরের বেশির ভাগ সময় চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের আনাগোনাতেই সীমাবদ্ধ থাকে এফডিসির প্রাণচাঞ্চল্য। তবে শুক্রবারের দৃশ্য ছিল একেবারেই ভিন্ন।
সকালের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই যেন বহুদিনের চেনা সেই এফডিসি ফিরে পেল পুরোনো দিনের রূপ। প্রধান ফটক পেরোতেই চোখে পড়ে শিল্পীদের ভিড়। একের পর এক গাড়ি এসে থামছে, নামছেন পরিচিত মুখ।

নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে শুরু করে ঢালিউডের প্রবীণ তারকারাও হাজির হয়েছেন একই ছাদের নিচে। কোথাও কুশল বিনিময়, কোথাও আলিঙ্গন, কোথাও আবার বহুদিন পর দেখা হওয়ার আনন্দ। কেউ ব্যস্ত সেলফিতে, কেউ স্মৃতিচারণায়। চারদিকে সংবাদকর্মীদের দৌড়ঝাঁপ আর ক্যামেরার ঝলকানিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এফডিসি।
কারণ একটাই-বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন।

সকাল ৯টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত জুমার নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের জন্য ছিল এক ঘণ্টার বিরতি। এবারের নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৫৭৩ জন। তাঁদের ভোটেই নির্ধারিত হবে আগামী দুই বছরের জন্য শিল্পী সমিতির নতুন নেতৃত্ব।
এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুটি প্যানেলের মধ্যে। একদিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন আরমান ও রুমানা ইসলাম মুক্তি। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শিবা শানু ও জয় চৌধুরী।
সকালের প্রথম দুই ঘণ্টায় ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জমে ওঠে নির্বাচনী উৎসব। দল বেঁধে ভোট দিতে আসতে থাকেন শিল্পীরা। বিশেষ করে প্রবীণ শিল্পীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁদের ঘিরেই তৈরি হয় আলাদা আগ্রহ।

সকাল ১০টার দিকে ভোট দিতে আসেন অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, যে-ই নির্বাচিত হোন না কেন, তিনি যেন বাংলা চলচ্চিত্র ও শিল্পীদের স্বার্থে কাজ করেন।
এরপর ভোটকেন্দ্রে দেখা যায় অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিমকে। ভোট দিয়ে বেরিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ। এই সময়ে শিল্পী সমিতির জন্য যোগ্য, সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব খুব প্রয়োজন। আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প আবার ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এমন নেতৃত্ব দরকার, যারা শিল্পীদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

জুমার বিরতির আগে ভোট দিতে আসেন নায়ক আলমগীর ও উজ্জ্বল। দুজনই ছিলেন বেশ নীরব। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলেই বর্তমান সভাপতি মিশা সওদাগরের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন এবং ভোট দিয়ে বেরিয়ে যান।
অন্যদিকে অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনার কণ্ঠে ছিল দীর্ঘদিনের অভিমান। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, “আমি একজন শিল্পী হিসেবে আমাদের সংগঠনের স্বার্থে ভোট দিতে এসেছি। কিন্তু আমাদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। আমরা অভিনয় করতে চাই এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অভিনয়ের সঙ্গে থাকতে চাই। যারা নেতৃত্বে আসবেন, তাঁরা যেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।”

বর্ষীয়ান অভিনেতা আবুল হায়াতও ভোট দিতে আসেন এফডিসিতে। ভোট শেষে শিল্পীদের রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর মতে, শিল্পীদের প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো উচিত নয়। কেউ রাজনীতি করতে চাইলে অভিনয় ছেড়ে পূর্ণসময়ের জন্য রাজনীতিতেই মনোযোগ দেওয়া উচিত।
বিকেলের দিকে ভোট দেন বরেণ্য অভিনেতা সোহেল রানা। তাঁর উপস্থিতিও ভোটকেন্দ্রে বাড়তি উৎসাহ তৈরি করে।
সন্ধ্যা ৬টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এরপর স্বল্প বিরতি দিয়ে শুরু হয় ভোট গণনার কাজ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভোট গণনা চলছিল।
বিরতিতে উত্তেজনা
দিনজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও দুপুরের বিরতিতে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। ভোটকক্ষের দরজায় তালা দেওয়া এবং ভেতরে কয়েকজনের অবস্থান নিয়ে আপত্তি তোলেন আরমান-মুক্তি প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকেরা।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রুমানা ইসলাম মুক্তি অভিযোগ করে বলেন, এমন কোনো নিয়ম তো নেই। নির্বাচন কমিশনারকে ফোন দিচ্ছি, কিন্তু ফোন বন্ধ। ভেতরে লোক রেখে বিরতি দেওয়া হলো-এটা কেমন নিয়ম?
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন নির্বাচন কমিশনার কিবরিয়া লিপু। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। ভোটকক্ষের সব কার্যক্রম প্রজেক্টরের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাকভাবেই হয়েছে। ভোটগ্রহণও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।’
- বিষয় :
- এফডিসি
- চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি
