চলচ্চিত্রের একাল-সেকাল
বড় পর্দায় ফ্রিতে দেখা যাবে ছয় সিনেমা
‘রইদ’ সিনেমার অন্যতম পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:১৩
সিনেমা দেখতে প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার ইচ্ছা আছে, কিন্তু টিকিটের দাম কিংবা সময়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না? আবার বাংলা চলচ্চিত্রে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিনেমা বড় পর্দায় দেখার সুযোগও হাতছাড়া করতে চান না? চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এবার সেই সুযোগই তৈরি করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। রোববার শিল্পকলায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন ‘চলচ্চিত্র উৎসব: একাল-সেকাল’।
উৎসবের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, তিন দিনে ছয়টি সিনেমা দেখানো হবে; কোনো সিনেমার জন্যই দর্শকদের গুনতে হবে না টিকিটের টাকা। ‘সবার জন্য চলচ্চিত্র, সবার জন্য শিল্প-সংস্কৃতি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত এ উৎসব শুরু হচ্ছে। চলবে ১১ আগস্ট পর্যন্ত।
তিন দিনের এই আয়োজনে একই সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের সমকালীন আলোচিত চলচ্চিত্র এবং অতীতের কালজয়ী কিছু নির্মাণ। ফলে উৎসবটি শুধু সিনেমা দেখার আয়োজন নয়, বরং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একাল ও সেকালের গল্পকে একই পর্দায় পাশাপাশি দেখারও সুযোগ করে দিয়েছে।
উৎসবের প্রথম দিন আজ সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শিত হবে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত আলোচিত সিনেমা ‘রইদ’। কোরবানির ঈদে মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। দেশের পাশাপাশি দেশের বাইরেও ছবিটি প্রশংসা পেয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি। গল্প, নির্মাণশৈলী ও অভিনয়ের কারণে সমকালীন বাংলা সিনেমার আলোচনায় থাকা এই চলচ্চিত্র দিয়েই শুরু হবে উৎসবের পর্দা।
প্রথম দিনের দ্বিতীয় প্রদর্শনীতে অবশ্য সময়ের চাকা ঘুরে যাবে অনেকটা পেছনে। রাত ৮টায় প্রদর্শিত হবে কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সিনেমা শুধু বিনোদনের জন্য নির্মিত কোনো চলচ্চিত্র নয়; বরং একটি নির্দিষ্ট সময়ের সমাজ, রাজনীতি ও মানুষের চেতনারও প্রতিচ্ছবি। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, সুচন্দা, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান, রওশন জামিল, আনোয়ার হোসেনসহ সে সময়ের খ্যাতিমান শিল্পীরা। নতুন প্রজন্মের দর্শকদের জন্য বড় পর্দায় এমন একটি কালজয়ী সিনেমা দেখার সুযোগও উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।

দ্বিতীয় দিন ১০ আগস্ট থাকছে আরও দুটি ভিন্ন স্বাদের চলচ্চিত্র। বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে প্রদর্শিত হবে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্মাণে উঠে এসেছে সময়, সমাজ ও মানুষের নানা বাস্তবতা। পুরোনো দিনের চলচ্চিত্রের দর্শকদের জন্য যেমন এটি হতে পারে নস্টালজিয়ার উপলক্ষ, তেমনি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের জন্য হতে পারে বাংলা সিনেমার ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ। সেদিন রাত ৮টায় পর্দায় আসবে মোহাম্মদ নূরুজ্জামান পরিচালিত ‘মাস্তুল’।
সমকালীন চলচ্চিত্রের এই নির্মাণের মধ্য দিয়ে উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও পুরোনো ও নতুনের মেলবন্ধন বজায় থাকবে। ফলে দর্শকদের জন্য প্রতিটি প্রদর্শনীতেই থাকছে আলাদা স্বাদের সিনেমা দেখার সুযোগ।
উৎসবের শেষ দিন ১১ আগস্ট বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে প্রদর্শিত হবে বরেণ্য নির্মাতা আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘দুই পয়সার আলতা’। এই সিনেমা সেই সময়ের গল্প বলার ধরন, অভিনয় ও নির্মাণরীতির সঙ্গে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে পারে বর্তমান প্রজন্মকে। পুরোনো দিনের জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র বড় পর্দায় দেখার সুযোগও তাই দর্শকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। এরপর রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে উৎসবের সমাপনী প্রদর্শনী। শেষ সিনেমা হিসেবে দেখানো হবে আকাশ হক পরিচালিত ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়েই শেষ হবে তিন দিনের চলচ্চিত্র উৎসব ‘একাল-সেকাল’।
উৎসবের ছয়টি সিনেমার তালিকায় চোখ রাখলেই বোঝা যায়, আয়োজনে সময়ের বৈচিত্র্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একদিকে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় থাকা সিনেমা, অন্যদিকে রয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ। ফলে একই উৎসবে দর্শক যেমন বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্রের ভাষা ও নির্মাণের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন, তেমনি ফিরে যেতে পারবেন দেশের চলচ্চিত্রের স্মরণীয় কিছু অধ্যায়েও।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ উৎসবের সহযোগিতায় রয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎসবটি সবার জন্য উন্মুক্ত। কোনো প্রবেশমূল্য ছাড়া সব কয়টি সিনেমার প্রদর্শনী উপভোগ করতে পারবেন দর্শক।
- বিষয় :
- সিনেমা
- চলচ্চিত্র উৎসব