ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাক্ষাৎকার

জীবনে যা পেয়েছি, সেটুকুই আমার জন্য যথেষ্ট: সুচন্দা

জীবনে যা পেয়েছি, সেটুকুই আমার জন্য যথেষ্ট: সুচন্দা
×

কোহিনূর আক্তার সুচন্দা। ছবি: সংগৃহীত

মীর সামী

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:০৭

কোহিনূর আক্তার সুচন্দা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল এক নাম। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা ও নির্মাণেও রেখেছেন নিজের স্বাক্ষর। আজ তাঁর জন্মদিন। দীর্ঘ শিল্পীজীবনে পেয়েছেন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান। জন্মদিনের স্মৃতি, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি ও নানা প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মীর সামী

শুভ জন্মদিন। দৈনিক সমকাল-এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। কেমন আছেন?
অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভালো আছি। এ বয়সে এসেও আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি, এটাও কিন্তু কম নয়। আপনারা আমাকে এভাবে মনে রেখেছেন– এতে আমি খুব খুশি হয়েছি। এখন তো মানুষ অতীত মনে রাখতে চায় না। আমাদের মতো শিল্পীদেরও হয়তো এখন আর কারও মনে রাখার দরকার নেই। তবুও জন্মদিন এলে অনেকে আমাকে স্মরণ করেন, ভক্তরা শুভেচ্ছা জানান। এটা আমার অনেক বড় প্রাপ্তি। আমি সত্যিই আনন্দিত।

জন্মদিন এলেই জীবনের কোন সময়টির কথা সবার আগে মনে পড়ে?
অবশ্যই ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। খুব ঘটা করে কখনও জন্মদিন উদযাপন করা হতো না। আমি যখন ছোট ছিলাম, মা সুন্দর সুন্দর খাবার রান্না করতেন। প্রত্যেক জন্মদিনে পছন্দ করে নতুন জামা কিনে দিতেন। সেই জামা পরে সারাদিন ঘুরে বেড়াতাম। পারিবারিকভাবেই আয়োজন হতো। তখন তো আর এখনকার মতো কেক কাটা কিংবা এ ধরনের আধুনিকতা ছিল না। মায়ের হাতের রান্না, নতুন জামা আর পরিবারের সবার ভালোবাসাই ছিল জন্মদিনের আনন্দ। সেই দিনগুলোর কথা এখন খুব মনে পড়ে।

কোহিনূর আক্তার সুচন্দা। ছবি: সংগৃহীত

জন্মদিন উপলক্ষে আজকের পরিকল্পনা কী?
জন্মদিন নিয়ে আমার আগেও কোনো পরিকল্পনা থাকতো না, এখনও নেই। কিন্তু আমার সাঙ্গোপাঙ্গ আছে– নাতি-নাতনিরা। ওরাই নানারকম সারপ্রাইজের আয়োজন করে। আমাকে বাধ্য হয়েই তাদের সঙ্গে যোগ দিতে হয়। বলা যায়, এ বয়সে এসে জন্মদিন আরও বেশি করে পালন করা হয়। ছেলেমেয়ের ঘর মিলিয়ে আমার নাতি-নাতনির সংখ্যা নয়জন। তাদের যে কত রকম আয়োজন! জন্মদিন উপলক্ষে তারা নানারকম খাবার রান্না করে, উপহার দেয়, আমার পছন্দের ফুল দিয়ে পুরো বাড়ি সাজিয়ে ফেলে। আমিও ওদের এসব আয়োজন খুব উপভোগ করি।

আপনার কাছে জীবনের সংজ্ঞা কী?
আমার কাছে জীবন একটি রঙিন বেলুনের মতো। রঙিন বেলুন যেমন দেখতে সুন্দর, জীবনও তেমনই সুন্দর ও আনন্দময়। কিন্তু বেলুনটা যে কোনো সময় ফেটে যেতে পারে— জীবনও ঠিক তেমনই ক্ষণস্থায়ী। তাই যতদিন বেঁচে আছি, জীবনকে আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করতে চাই। জীবনের ছোট ছোট আনন্দ, প্রিয় মানুষদের সঙ্গ আর ভালোবাসার মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করাই আমার কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।

জন্মদিনে নিজের জীবনকে ফিরে দেখলে কী মনে হয়, প্রাপ্তি না অপূর্ণতা?
জীবনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত এসেছে, কষ্ট-দুঃখও পেয়েছি। তবে সেসবের হিসাব-নিকাশ করে কখনও বসিনি। জীবনে যা পেয়েছি, সেটুকুই আমার জন্য যথেষ্ট। মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি, দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি—একজন শিল্পীর জীবনে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে? তাই অপূর্ণতার দিকে না তাকিয়ে জীবনের প্রাপ্তিগুলো নিয়েই আমি তৃপ্ত।

কোহিনূর আক্তার সুচন্দা। ছবি: সংগৃহীত

জন্মদিনে ভক্ত, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা আপনার কাছে কতটা বিশেষ?
আমার কাছে এই ভালোবাসা সত্যিই অনেক বিশেষ। একজন শিল্পীর জীবনে দর্শকের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। জীবনের এতগুলো বছর পেরিয়ে এসেও যখন মানুষ আমাকে মনে রেখে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানান, ভালোবাসা প্রকাশ করেন, তখন ভীষণ ভালো লাগে। মনে হয়, এত বছরের পথচলা, এত পরিশ্রম— কিছুই বৃথা যায়নি। মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পেরেছি, এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্র নিয়ে আপনার অভিমত কী?
সময় বদলেছে, চলচ্চিত্র নির্মাণের ধরনও বদলেছে। প্রযুক্তির কারণে এখন অনেক কিছুই সহজ হয়েছে। গল্প বলার মাধ্যমও অনেক বিস্তৃত হয়েছে। তবে আমি মনে করি, চলচ্চিত্রের মূল জায়গাটি সবসময় গল্প ও অভিনয়। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, ভালো গল্প এবং ভালো অভিনয়ের বিকল্প নেই। আমাদের সময়েও অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা মন দিয়ে কাজ করেছি। এখনকার প্রজন্মের হাতে অনেক বেশি সুযোগ ও প্রযুক্তি আছে। তারা যদি সেই সুযোগকে সঠিকভাবে কাজে লাগায়, তাহলে আরও ভালো চলচ্চিত্র তৈরি সম্ভব।

বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাজ কেমন লাগে?
নতুন প্রজন্মের অনেকেই খুব ভালো কাজ করছে। তাদের মধ্যে প্রতিভা আছে, শেখার আগ্রহ আছে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রজন্মই আমাদের আবার সেই সোনালি দিনের চলচ্চিত্রে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। তাদের শুধু আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে এবং নিজেদের কাজের প্রতি নিষ্ঠা রাখতে হবে। তাহলেই তারা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে। 

এই জন্মদিনে নিজের জন্য আপনার সবচেয়ে বড় চাওয়া কী?
আমার নিজের জন্য এখন চাওয়ার খুব বেশি কিছু নেই। সুস্থ থাকি, ভালো থাকি এবং আপনাদের সবার ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারি–এটাই চাওয়া। যতদিন বেঁচে আছি, মানুষের ভালোবাসা নিয়ে থাকতে চাই।

আরও পড়ুন

×