ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

স্মৃতিতে বেঁচে থাকা, অল সোলস ডে-তে ফিরে আসে ‘কোকো’

স্মৃতিতে বেঁচে থাকা, অল সোলস ডে-তে ফিরে আসে ‘কোকো’
×
×

দ্রোহী তারা

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ২০:১৯

সন্ধ্যা নামলে কবরের পাশে জ্বলে ওঠে মোমবাতি। সমাধিফলকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় সাদা ফুলের পাপড়ি। প্রার্থনায় স্মরণ করা হয় প্রয়াত স্বজনদের। আজ ২ নভেম্বর, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অল সোলস ডে। প্রিয়জন হারানোর বেদনা আর তাদের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এই দিনে মনে পড়ে পিক্সারের অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘কোকো’র কথা। ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি মৃত্যু, স্মৃতি ও পারিবারিক বন্ধনের গল্প বলে এক ভিন্ন ভুবনের মধ্য দিয়ে।

ছবির গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মিগেল, মেক্সিকোর ১২ বছর বয়সী এক কিশোর। সংগীতের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা। কিন্তু পারিবারিক ইতিহাসের কারণে তাদের বাড়িতে সংগীত নিষিদ্ধ। গিটার হাতে সংগীতশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখে মিগেল। মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী ‘ডে অব দ্য ডেড’ বা মৃতদের দিবসের রাতে এক অদ্ভুত ঘটনার মধ্য দিয়ে সে পৌঁছে যায় মৃত পূর্বপুরুষদের জগতে। সেখানে একে একে উন্মোচিত হয় তার পরিবারের চাপা পড়ে থাকা ইতিহাস।

লি আনক্রিচ পরিচালিত এবং আদ্রিয়ান মোলিনার সহ-পরিচালনায় নির্মিত ‘কোকো’ মেক্সিকোর ‘ডে অব দ্য ডেড’ উৎসবের সাংস্কৃতিক আবহকে তুলে ধরেছে। প্রতিবছর ১ ও ২ নভেম্বর মেক্সিকোতে পালিত হয় এই উৎসব। এ সময় প্রিয়জনদের ছবি, গাঁদা ফুল, মোমবাতি ও তাদের পছন্দের খাবার সাজিয়ে মৃত স্বজনদের স্মরণ করেন পরিবারের সদস্যরা।

অল সোলস ডে ও ‘ডে অব দ্য ডেড’—দুটি আয়োজনের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট আলাদা। তবে প্রিয়জনদের স্মরণ করার আকুতিতে রয়েছে মিল। একদিকে প্রার্থনা ও মোমবাতি, অন্যদিকে ফুলের পাপড়ি, ছবি আর প্রিয় খাবারের আয়োজন। দুই সংস্কৃতিতেই জীবিত মানুষের জীবনে মৃত স্বজনদের স্মৃতির গুরুত্ব ফুটে ওঠে।

‘কোকো’র সবচেয়ে গভীর ভাবনাগুলোর একটি হলো ‘শেষ মৃত্যু’। ছবির কল্পিত মৃতদের জগতে কেউ তখনই চিরতরে হারিয়ে যায়, যখন জীবিতদের কেউ আর তাকে মনে রাখে না। অর্থাৎ মৃত্যুর পরও স্মৃতির মধ্য দিয়ে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে। প্রিয়জনকে মনে রাখা তাই শুধু আবেগ নয়, ভালোবাসারও এক ধরনের দায়িত্ব।

ছবির ‘রিমেম্বার মি’ গানটি এই ভাবনাকেই আবেগঘনভাবে তুলে ধরে। গানটি ২০১৮ সালে অস্কারে সেরা মৌলিক গানের পুরস্কার পায়। একই বছর ‘কোকো’ সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার চলচ্চিত্রের অস্কারও জেতে। বিশ্বজুড়ে ছবিটির আয় ৮০ কোটি ডলারের বেশি।

মৃত্যু নিয়ে শিশুদের সঙ্গে কথা বলা অনেক পরিবারের জন্য সহজ নয়। প্রিয়জনের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বড়রা কখনো নীরব থাকেন, কখনো প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। ‘কোকো’ সেই নীরবতা ভাঙার একটি সুযোগ তৈরি করে। রং, সংগীত ও কল্পনার জগৎ ব্যবহার করে ছবিটি শিশুদের সামনে মৃত্যু, বিচ্ছেদ ও স্মৃতির মতো কঠিন বিষয়গুলো সহজভাবে তুলে ধরে।

আরও পড়ুন

×