ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

দুই বছর অপেক্ষার পর মুক্তি, ১৮ পুরস্কারে সাড়া ফেলল ‘পায়ার’

দুই বছর অপেক্ষার পর মুক্তি, ১৮ পুরস্কারে সাড়া ফেলল ‘পায়ার’
×
×

ছবি: বিবিসি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৩

ভারতের যে চলচ্চিত্র মুক্তি দিতে কোনো পরিবেশক রাজি হননি, সেটিই শেষ পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহে দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। ১১১ মিনিটের সিনেমা ‘পায়ার’ মুক্তির আগে দুই বছর অপেক্ষায় ছিল। এরই মধ্যে ছবিটি পেয়েছে ১৮টি পুরস্কার। উত্তর ভারতের উত্তরাখন্ডের এক পাহাড়ি গ্রামের বৃদ্ধ দম্পতির ভালোবাসা, নিঃসঙ্গতা ও অপেক্ষার গল্প নিয়ে নির্মিত ছবিটি দর্শকদের আবেগাপ্লুত করছে।

টেলিভিশন সাংবাদিক থেকে চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়া বিনোদ কাপরির পরিচালনায় ছবিটিতে অভিনয় করেছেন সাধারণ দুই গ্রামবাসী পদম সিং ও হীরা দেবী। তাদের অভিনয়ের অভিজ্ঞতা আগে ছিল না। ছবিতে তারা দাদু-দিদা চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

ছবির গল্পে ৬৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে থাকা এই দম্পতি গত ২৮ বছর ধরে অপেক্ষা করছেন তাদের ছেলে হারিয়ার জন্য। কাজের সন্ধানে মুম্বাইয়ে যাওয়া ছেলে একদিন ফিরবে, এই আশায় দিন কাটে তাদের। এর মধ্যে গ্রামের তরুণেরা কাজের খোঁজে একে একে চলে যান। জনশূন্য হয়ে পড়ে পাহাড়ি জনপদ। একসময় তাদের সাহায্য করার মতো প্রতিবেশীও আর থাকে না।

মৃত্যুর পর মরদেহ পাহাড় থেকে নামানোর লোক পাওয়া যাবে না- এই আশঙ্কায় পদম সিং বাড়ির সামনে পাশাপাশি দুটি চিতা তৈরি করেন, একটি নিজের জন্য, অন্যটি স্ত্রীর জন্য। বিষণ্নতার পাশাপাশি ছবিতে দম্পতির খুনসুটি ও হাস্যরসও তুলে ধরেছেন পরিচালক।

২০১৮ সালে উত্তরাখন্ডের মুন্সিয়ারিতে এক বৃদ্ধ দম্পতির সঙ্গে দেখা হওয়ার পর ছবিটির ভাবনা আসে কাপরির। প্রথমে তাদের নিয়েই সিনেমা বানাতে চেয়েছিলেন তিনি। পরে নিজের চাচা পদম সিং ও অন্য গ্রামের হীরা দেবীকে অভিনয়ের জন্য বেছে নেন।

২০২৪ সাল থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘পায়ার’। পরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটি সেরা ফিচার ফিল্মের তিনটি পুরস্কারসহ মোট ১৮টি পুরস্কার পেয়েছে। এত সাফল্যের পরও পরিবেশক না পাওয়ায় গত ৩০ অক্টোবর মাত্র ৭০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এটি। দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় পরে প্রদর্শনীর সংখ্যা বাড়ানো হয়।

হীরা দেবীর মতে, ছবিটি দর্শকের মনে দাগ কাটছে, কারণ অনেক গ্রামেই বৃদ্ধ মা-বাবারা সন্তানদের অপেক্ষায় একা দিন কাটান। পদম সিংয়ের আহ্বান, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হোক, যাতে জীবিকার জন্য তরুণদের মাতৃভূমি ছেড়ে যেতে না হয়।

সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন

×