ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলায় ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমাহার

আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলায় ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমাহার
×
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:০০

| প্রিন্ট সংস্করণ

পাহাড়ের পাজন, বাঁশের কুঁড়ি, কলাপাতায় রান্না করা হেবাং কিংবা রাখাইনদের বিনি চালের পিঠা– বৈচিত্র্যময় এসব খাবারের সমাহার ঘটেছে মিরপুরে। একই আয়োজনে জায়গা পেয়েছে মণিপুরী, গারো ও অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য।

দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতিকে পরিচিত করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী পঞ্চম আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা। গতকাল শুক্রবার মিরপুর-১৩ এলাকায় পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধন করা হয়। উন্নয়ন সংগঠন নাগরিক উদ্যোগ ও আদিবাসী সুহৃদরা যৌথভাবে এ আয়োজন করেছে।

প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংস্কৃতিকর্মী তনয়া দেওয়ান। এতে আরও বক্তব্য দেন নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান ও মানবাধিকারকর্মী শিরিন পারভিন হক এবং অধিকার কর্মী মেইনথিন প্রমীলা।
দীপেন দেওয়ান বলেন, ‘আদিবাসীদের খাবারের স্বাতন্ত্র্য দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যেরই অংশ। বাঙালির পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস যে বাংলাদেশের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তা স্পষ্ট হবে।’ পাহাড়ের খাদ্য ও কৃষিপণ্য দেশের সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
খাদ্য সংস্কৃতির সঙ্গে আদিবাসীদের জীবনযাপন, ভূমি ও জীববৈচিত্র্যের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে শিরিন পারভিন হকের বক্তব্যে। পাহাড়ে খাদ্য উৎপাদনের প্রধান ভিত্তি ভূমি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভূমি দখলের কারণে আদিবাসীদের অনেকে নিজেদের চিরাচরিত উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন। তাদের ভূমির অধিকার ও উৎপাদন ব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে ঐতিহ্যবাহী খাদ্য শস্যের ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হবে।’

মেইনথিন প্রমীলা মনে করেন, আদিবাসীদের খাদ্য উৎপাদনের অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার জন্য এ মেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসর। তাদের প্রচলিত পদ্ধতিতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের যে চর্চা রয়েছে, তা হারিয়ে যেতে দেওয়া উচিত নয়। এ জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা।
আদিবাসীদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য রাজধানীতে পৃথক বাজার গড়ে তোলার দাবি জানান অনুষ্ঠানের সভাপতি জাকির হোসেন।
মেলার স্টলগুলোতে খাবারের পাশাপাশি রয়েছে আদিবাসীদের উৎপাদিত নানা ধরনের পণ্য। দর্শনার্থীরা মেলায় এসে পার্বত্য অঞ্চলের জনপ্রিয় পাজন, বাঁশের কুঁড়ি বা ব্যাম্বু শুট, কলাপাতায় রান্না করা বিভিন্ন পদের হেবাং এবং জুমে উৎপাদিত সবজির স্বাদ নিতে পারছেন।

সমতলের মণিপুরী, গারো ও রাখাইন সম্প্রদায়ের উদ্যোক্তারা তাদের নিজস্ব খাবার নিয়ে অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে কালো ও সাদা বিনি চালের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পিঠা নিয়ে এসেছেন রাখাইনরা। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মুন্ডিও রয়েছে মেলার খাবারের তালিকায়।
খাবারের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়েও আদিবাসীদের ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান। এতে সংগীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশ আইডল মং, বর্ষা চাকমা, বুলু তঞ্চঙ্গ্যা এবং গারো সম্প্রদায়ের উদীয়মান গায়ক মার্কুস চিসিম। পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যও পরিবেশিত হবে। মেলা আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।

আরও পড়ুন

×