ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল আলফা স্টার ফাউন্ডেশন

দক্ষতা উন্নয়ন কোর্সের সনদ ও মেধাবৃত্তি প্রদান

কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল আলফা স্টার ফাউন্ডেশন
×
×

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | ০১:৪৯

এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, মেধাভিত্তিক বৃত্তি ও ইউনিসেফের দক্ষতা উন্নয়ন কোর্সের সনদ দিয়েছে আলফা স্টার ফাউন্ডেশন। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতিতে উৎসাহিত করতে এ আয়োজন করা হয়। গতকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের গ্যালারি-১০১ মিলনায়তনে ইউনিসেফের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া। আলফা স্টার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের কনসালট্যান্ট লিড (পাস টু আর্নিং) ইস্তানুল কবির, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম (বাদরু), ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হোরায়রা, ফেইথ এডুকেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান প্রমুখ। 

আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, সংবর্ধনা পাওয়া শিক্ষার্থীরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সাফল্যের পেছনে অভিভাবকদেরও বড় অবদান রয়েছে। সন্তানদের গড়ে তুলতে বাবা-মায়েরা যে সময়, শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেন, তার স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শহর ও গ্রামের শিক্ষার ব্যবধান কমানো জরুরি। বর্তমান বিশ্বে শুধু প্রচলিত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; শিক্ষার্থীদের বহুমুখী জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও ল্যাব স্থাপন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো কার্যকর নেই। এসব অবকাঠামো সচল রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে তরুণদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে কামরুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে চায় আলফা স্টার ফাউন্ডেশন। এ ধারাবাহিকতায় শিগগির আইনগত সহায়তা কার্যক্রম এবং উপজেলা ও জেলাভিত্তিক মেডিকেল ক্যাম্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ফাউন্ডেশন। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী ও একজন চিকিৎসকের নেতৃত্বে এসব কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কামরুল হাসান জানান, ইউনিসেফের সহযোগিতায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে দক্ষতা উন্নয়ন কোর্সের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইউনিসেফের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে কয়েকটি বিষয় বিবেচনার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও অ্যাক্রেডিটেশন, খেলাধুলার সুযোগ এবং পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানে সহায়তার বিষয়গুলো যাচাই করে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা উচিত। শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ও পেশাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগও বিবেচনায় নিতে হবে।

ইস্তানুল কবির বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে প্রচলিত অনেক কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে। তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট দক্ষতার ওপর নির্ভর না করে শেখার সক্ষমতা, সমস্যা সমাধান এবং সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক, কৃষি, ওষুধশিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে ভবিষ্যতে কাজের সুযোগ বাড়তে পারে। তাই এসব খাতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নিজেদের দক্ষতা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করে জয়কলি পাবলিকেশন, নিপা গ্রুপ, ফেইথ এডুকেশন, জেসিএক্স, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আলফা স্টার ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক শাহিদুজ্জামান মিলু। 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ২০০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও এসএসসিতে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে ইউনিসেফের দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক সার্টিফিকেট ও মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

×