ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

মাটির পরীর গল্প

মাটির পরীর গল্প
×

পরীমনি -ছবি আহমেদ হোসেন নিঞ্জয়

অনিন্দ্য মামুন

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২০ | ০১:০৫ | আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২০ | ০১:০৮

সৌন্দর্য ও গুণের সংজ্ঞায় যা যা উল্লেখ থাকেন সবই আছে তার। এ দুইয়ের মিশেলে রুপালি পর্দায় পরীমনি কখনও নোলক, মহুয়া, দোলা, মায়া, সোনা ও শুভ্রার চরিত্রে জীবন্ত হয়ে উঠেছেন। তার সবিশেষ নিয়েই প্রচ্ছদ আয়োজন-

সৌন্দর্যে পরীমনিকে পরীর সঙ্গে তুলনা করলে মন্দ হবে না। বরং মানানসই হবে। ঢাকাই ছবির এই পরীমনি আরব্য রজনী আলিফ লায়লার কোহেকাফ নগরীর বা পরীস্তানের কল্পিত পরীর চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। সে জন্যই তিনি হয়ে উঠেছেন চিত্রনায়িকা। দর্শকের স্বপ্নসুন্দরী। অভিনেত্রী পরীমনিকে নিয়ে আলোচনার যেন শেষ নেই। প্রতিদিনই নানান ধরনের খবর ভেসে বেড়ায় তাকে নিয়ে। থাকে সমালোচনাও। আলোচক-সমালোচক দুই মহলেই এক জায়গায় এসে মিলিত হয় পরী ইস্যুতে। থমকে যায় তাদের বিরোধ। এক মতে আসেন। নির্দি্বধায় বলে দেন পরী পরীর মতোই সুন্দর। পরী তাই হাজার হাজার মানুষের স্বপ্নের রানী হয়ে আছেন। তাকে ভালোবাসে হাজারো তরুণ। তার মতো হতে চায় হাজারো তরুণীও। মজার বিষয় হচ্ছে, এই পরীমনির আরেকটি নাম রয়েছে। তা হলো 'স্মৃতি'। বাবার দেওয়া নাম এটি। বাবা চলে যাওয়ার পর স্মৃতি নামটিও যেন 'স্মৃতি' হয়েছে পরীমনির জীবন থেকে। কারণ নাম ধরে এখন আর কেউ তাকে ডাকে না।

স্মৃতি হারিয়ে পরী পরে শুভ্রা

ছোটবেলা থেকে দেখতে সুন্দর হওয়ার কারণে সবাই তাকে 'পরী' বলেই ডাকতেন। পরে পরিবারের স্বজনরাই পরীর সঙ্গে যোগ করেন 'মনি'। কিন্তু তার বাবা ডাকতেন 'স্মৃতি' নামে। পরীমনি বললেন, 'আমার জন্মের আগেই বাবা আমার নাম ঠিক করে রেখেছিলেন। সে অনুযায়ী আমাকে 'স্মৃতি' নামেই ডাকতেন তিনি। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পর এই নাম যেন সেলফে তুলে রাখা বইয়ের মতো হয়ে গেছে। এখন আর কেউ এই নামে তাকে ডাকেন না। বাবার মতোই আমার নামটিও যেন হারিয়ে গেছে।'- অতীতকে রোমন্থন করা মানুষ পরী। অতীতকে তিনি কখনও ভুলতে চান না। তাই তো পরী বলেন, আমার ধারণা সবাই কম-বেশি অতীত নিয়ে ভাবেন। আমিও অতীত নিয়ে ভাবি। অতীত সব সময়ই স্মৃতিময়। অতীত থাকা জরুরি। অতীত আছে বলেই জীবন এত সুন্দর। বাবার ডাকা নাম হারিয়ে গেলেও পরী হারাননি। সেলুলয়েড ফিতায় নিজেকে উজ্জ্বল করেছেন। ছোটবেলায় অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক না থাকলেও টেলিভিশনে সিনেমা দেখতেন নিয়মিত। নায়িকার জায়গায় মনে মনে নিজেকে বসিয়েছেন বহুবার।

তার শৈশব কেটেছে নানাবাড়ি বরিশালে। সেখানেই নিয়ম করে গান-নাচের শিক্ষক আসতেন। এসএসসি পাসের পর ঢাকায় চলে আসেন পরীমনি। ভর্তি হন মিরপুর বাঙলা কলেজের পাশাপাশি বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে। পড়াশোনা আর গান নিয়েই চলছিল তার। একদিন তার এক কাজিন 'সেকেন্ড ইনিংস' নামের একটি নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। রাজি হন পরীমনি। সেই নাটকে ইলিয়াস কাঞ্চন ও চম্পার মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন। চলচ্চিত্র পরিচালক শাহ আলম মণ্ডল নাটকটি দেখেই পরীমনির মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পান এবং তার 'ভালোবাসা সীমাহীন' ছবিতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। এরপর বাকিটা ইতিহাস। প্রথম ছবি মুক্তির আগেই এক ডজন ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন পরী। এরপর নজরে পড়েন 'মনপুরা' খ্যাত পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিমের। তার পরিচালনায় 'স্বপ্নজাল' ছবিটি যেন পরীকে অন্যরকম করে ভাবতে শেখায়। এই ছবির 'শুভ্র' চরিত্রটি করতে গিয়েই পরী অভিনয়ের প্রতি অন্য এক ভালোবাসা তৈরি হয়। তিনি বলেন, 'স্বপ্নজাল' ছবির শুভ্রার চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়েই আমি অনুভব করেছি, অভিনয় কী, কেন? তখন আমার মনে হয়েছে এর আগে আমি যা করেছি, সেগুলোতে ঠিক আমি অভিনয়ই করিনি! কারণ আমি তখন বুঝতামই না বিষয়টি। কিন্তু শুভ্রা আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে। এরপর থেকেই ছবির গল্প ও চরিত্র নিয়ে ভাবতে শুরু করি।

নবরূপে আনন্দময়ী

জন্ম তারিখ হিসাবে বৃশ্চিক রাশির জাতিকা পরীমনি। জ্যোতির্বিদরা মনে করে, ২০২০ সালে বৃশ্চিক রাশির জাতক ও জাতিকার জন্য অন্ধকার কেটে যাওয়ার বছর। তার মানে পরীর আকাশেও মেঘ কেটে আলোর রেখা ফুটে উঠবে। তাহলে পরীর আর চিন্তা কী! হাসিমুখে সামনে পা ফেলবেন পরীমনি। আর তাতেই জয় হবেই। যদিও রাশিফলে খুব একটা বিশ্বাস করেন না পরীমনি। তিনি বলেন, 'আমি রাশিফলে বিশ্বাস করি না। নিজের কাজের ওপরেই রয়েছে আমার অগাধ বিশ্বাস। পাশাপাশি আমি যেমনটি আছি তেমনই থাকতে চাই। মানুষ হিসেবে নিজেকে খুবই পছন্দ আমার। তবে এ বছর কাজের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ থাকবে। ফলে বলতে পারি, এ বছরে নতুন এক পরীমনিকে দেখতে পাওয়া যাবে।' এই কথা বলার পরই তিনি জানালেন, এ বছর আসছে তার অভিনীত 'বিশ্বসুন্দরী'। সিয়ামের সঙ্গে এই ছবিতে প্রথম জুটি হয়েছেন তিনি। রুম্মান রশীদ খানের লেখা ও চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত ছবিটি নিয়েও পরীর প্রত্যাশার পারদ বেশ উঁচু। ছবিটিতে নতুন এক পরীকে পাবেন ভক্তরা। তবে শিল্পী হিসেবে কাজটি পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি তাকে। পরীমনি মনে করেন 'শিল্পীর সন্তুষ্টি থাকতে নেই। থাকতে হয় ভালো কাজের ক্ষুধা। যা 'স্বপ্নজাল' করার পর আরও বেড়েছে।' পরীমনির মাথায় এখন ঘুরপাক খাচ্ছে 'বিশ্বসুন্দরী'। ছবিটি মুক্তির পর দর্শকের কাছে পৌঁছলেই তিনি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলবেন।এরপর শুরু করবেন নতুন ছবির কাজ। ফলে এটা বলতেই পারা যায়, নবরূপে আনন্দময়ীর দেখা পাওয়া যাবে এ বছর।

বদলাতে পারে মনের রংও

গেল বছরের শেষের দিকে বনানীর বাসা ছেড়ে নতুন বাসায় উঠেছেন পরী। নিজের মতো করে সাজিয়েছেন সে বাসা। পরীর বাসা তো পরীর মতোই হবে, হয়েছেও। মজার কথা হচ্ছে, শোবার ঘরের দেওয়ালের রং নয়বার বদলাতে হয়েছে বলে জানালেন এ নায়িকা। নতুন বছরে পরীর মনের রংও বদলে যেতে পারে। যার সঙ্গে বিয়ের কথা হয়েছিল, ভুল বোঝাবুঝিতে সেই কথা ফিরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। নতুন বাসার মতো নতুন সম্পর্কের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে বলেই পরীর কথায় আভাস পাওয়া গেল। পরীমনি বললেন, 'বলতে পারেন, নতুন করে আবার শুরু করার মধ্যে আছি। একটা বিরতি নিয়েছিলাম। দুজনের আবেগ-অনুভূতি যেন একটু বদলায়। ভালোবাসাকে সব কিছুর ওপরে দেখতে চেয়েছিলাম। বিরতির দিনগুলোতে কেউ কারও সম্পর্কে অসম্মানজনক আচরণ করিনি।'

ফেসবুকে বেশি পর্দায় কম

গত বছর পরীমনি অভিনীত মাত্র একটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। অথচ কয়েক বছর আগেও পরীর হাতে ছিল ডজন ডজন ছবি। এমন মাস গেছে পরপর তিন সপ্তাহে তার তিনটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। সেই পরী এখন হলে নেই, আছেন ফেসবুকে! ফেসবুকে পরীমনির পাতায় স্ট্ক্রল করলেই তাকে খুব সহজে পাওয়া যায়। কিন্তু আদতে পরীমনির নাগাল পাওয়া সহজ নয়। কী নিয়ে ব্যস্ত তিনি? সিনেমা? নাকি প্রেম? তার ভাবনায় কী এমন ভর করেছে যে, পরীমনির নতুন কোনো ছবির খবর আর পাওয়া যায় না। অথচ পরীকে বারবার দেখতে চায় দর্শক। তারা চায় পরীর মতো নায়িকা নিয়মিত হোক সিনেমায়। কিন্তু পরীকে মিলে না খুব একটা। কেন মিলে না তা পরীমনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে ফেসবুকে নিয়মিত ছবি আপলোড করে দর্শক ভক্তদের নজরে থাকছেন। আবেদনময়ী ছবি প্রকাশ করে বাহবা পাচ্ছেন কমেন্টে কমেন্টে। উষ্ণতা ছড়িয়ে শুধু যে প্রশংসা পাচ্ছেন তা কিন্তু নয়। হচ্ছেন সমালোচিতও। তবে পরী এগুলোকে পাত্তা দেন না খুব একটা। পরীর ভাষায়, 'নিন্দুকেরা আমি যাই করব তারই সমালোচনা করবে। করুক। এটা করে তারা যদি ভালো থাকে থাকুক। জীবনটা ছোট। এই ছোট জীবনকে জটিল করার কিছু নেই। আমি জীবনকে সব সময় উপভোগ করি। আমার যা ভালো লাগে তাই করি। করছি। তবে হ্যাঁ, সিনেমায় আমার আরও সময় বাড়ানো দরকার।' পরীমনি সিনেমায় নিয়মিত হবেন, এটাই আমরা বিশ্বাস করি।

আরও পড়ুন

×