ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সংগঠন

দেশের জন্য খেলোয়াড় গড়েন যে তরুণ

দেশের জন্য খেলোয়াড় গড়েন যে তরুণ
×

‘রনকনকমা স্পোর্টস ক্লাব’-এর এলআই ভাইপারসের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সিয়াম সায়ের (পেছনে ডান থেকে তৃতীয়)

মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২৩ | আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৭:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলে ফেব্রুয়ারিতেই ডাক পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার আমির সামি। অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্পে যোগও দিয়েছেন তরুণ এই ফুটবলার। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের প্রতিভাবান আমির শৈশব থেকেই ফুটবল খেলেন। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কের পরিচিত ‘রনকনকমা স্পোর্টস ক্লাব’-এর হয়ে খেলছেন। ক্লাবটির প্রধান বাংলাদেশি তরুণ ক্রীড়া সংগঠক সিয়াম সায়ের। তরুণ এই সংগঠক ব্যস্ত প্রবাসজীবনের মাঝেও ক্রীড়া সংগঠন এবং শিক্ষাভিত্তিক সামাজিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আলোচনায় আসেন। খেলাধুলা এবং শিক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রবাসী কমিউনিটিতে ঐক্য, আবেগ ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরির নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এই তরুণ ফুটবল ছাড়াও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলায় নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের পাশাপাশি বাংলাদেশে শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমির সামি ছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয় টেনিস দলে খেলছেন সিয়ামের ক্লাবের আসমা মিস্তি এবং সুমন বারি।

ক্রিকেট লিগের দল
ক্রিকেট লিগে সিয়ামের দুটি দল বেশ আলোচিত যুক্তরাষ্ট্রে। এর একটি লং আইল্যান্ড ভাইপার্স। ক্লাবটি এলআইপিএল রানার্স-আপ হয়। কেবল তাই নয়; তার বিডি জায়ান্টস এনওয়াইবিসিএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে তাক লাগিয়ে দেয়! প্রবাসী তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করতে এবং টেপ টেনিস ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করতে সিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁর উদ্যোগে প্রতি বছর নিয়মিত দুটি টেপ টেনিস ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। 

নিয়মিত আয়োজন
ক্রিকেটের গণ্ডি পেরিয়ে ফুটবল, টেনিস, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনেও সিয়াম সায়েরের কার্যকর ভূমিকা রয়েছে। প্রতি বছর তার তত্ত্বাবধানে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট, একটি টেনিস টুর্নামেন্ট, একটি ভলিবল টুর্নামেন্ট এবং দুটি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব আয়োজন প্রবাসী তরুণদের জন্য সুস্থ বিনোদন ও নিয়মিত শারীরিক চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। 

সামাজিক উন্নয়ন ও শিক্ষায় উদ্যোগ
খেলাধুলার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ও শিক্ষা খাতেও সিয়াম সায়েরের সম্পৃক্ততা প্রশংসনীয়। যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত সংগঠন ‘কাণ্ডারি’-এর মাধ্যমে তিনি ও তাঁর স্ত্রী আফসারা আলভী বাংলাদেশে শিক্ষা বিস্তারে কাজ করছেন। এই সংগঠনের অধীনে বর্তমানে বাংলাদেশে অবহেলিত শিশুদের জন্য স্কুল ও লাইব্রেরি পরিচালিত হচ্ছে। এই স্কুল এবং লাইব্রেরি সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জন্ম ও বেড়ে ওঠা 
সিয়াম সায়েরের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার ডেমরায় দাদার বাড়িতে। বাবা কফিলউদ্দিন মিয়া এবং মা শিরিন খান। শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়া অবস্থায় পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন কোয়ান্টিটেটিভ ফাইন্যান্সে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই তিনি বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলায় যুক্ত হন। সিয়াম সায়ের বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমি খেলাধুলা পছন্দ করতাম। স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার প্রথম ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হয়। মানুষের আগ্রহ আর নিজের ইচ্ছে থেকেই পরবর্তীকালে  রনকনকোমা স্পোর্টস ক্লাব গড়ে তুলি। বর্তমানে ক্লাবটি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও বেশ আলোচিত। এটি আমার জন্য সত্যিই গর্বের!’

বিচিত্র জীবন ও আগামীর স্বপ্ন
শৈশবে সিয়াম স্বপ্ন দেখতেন রকস্টার হওয়ার। সংগীতচর্চার শুরু থেকেই তিনি যুক্ত ছিলেন দেশের কিংবদন্তি ব্যান্ড ওয়ারফেজ-এর সদস্যদের সঙ্গে। গিটার শেখেন ওয়ারফেজের কমল-এর কাছে এবং কিবোর্ডে দীক্ষা নেন ওয়ারফেজেরই শামস-এর কাছ থেকে। সংগীতের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন দেখা যায় তাঁর সংগ্রহেও। সিয়ামের কাছে রয়েছে একটি বিশেষ জেপি সিরিজ গিটার, যাতে রয়েছে বিশ্বখ্যাত গিটারিস্ট জন পেট্রুচ্চি এবং তাঁর ব্যান্ড ড্রিম থিয়েটারের স্বাক্ষর। সংগীতের পাশাপাশি কমিকস সংগ্রাহকও সিয়াম। স্পাইডার-ম্যান, স্পন, এক্স-মেন, উইচব্লেড এবং অ্যাভেঞ্জার্সের মতো জনপ্রিয় কমিক সিরিজগুলো রয়েছে তাঁর সংগ্রহে।
তরুণ এই সংগঠক এবং সংগ্রাহকের কাছে তাঁর আগামীর স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‌‘আগামীতে আরও নতুন খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই, যারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ দলকে প্রতিনিধিত্ব করবে। পাশাপাশি কান্ডারির মাধ্যমে মানবিক কাজও করে যেতে চাই!’ 

আরও পড়ুন

×