আক্রমণভাগ নিয়ে মধুর সমস্যায় ফ্রান্স
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ১৩:১৬
কাতারের মতো যুক্তরাষ্ট্রেও ফেভারিট হিসেবে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে ফ্রান্স। দলটির কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্য এই আসর আরও স্পেশাল। মারিও জাগালো ও ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের পর দেশম হলেন ইতিহাসের তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি কিনা খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছেন। আর এবার যদি ফ্রান্স ফাইনালে উঠতে পারে, তাহলে দেশম হবেন ফুটবল ইতিহাসে টানা তিন ফাইনাল খেলা প্রথম কোচ। আর জিততে পারলে তো খেলোয়াড় হিসেবে একবার এবং কোচ হিসেবে দুবার বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য এক রেকর্ডের মালিক হয়ে যাবেন।
তাঁর এই বিরল রেকর্ডের পথে প্রধান ভরসা হলো ফ্রান্সের দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগ। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, দেজিরে দুয়ে, রায়ান চেরকি, মার্কাস থুরাম, ব্রাডলি বারকোলা– কাকে রেখে কাকে খেলাবেন কোচ! হুগো একিতিকির মতো বিশ্বমানের স্ট্রাইকারকে ফ্রান্স যে পাচ্ছে না, সেটা যেন কারও মনেই নেই!
তবে গত দুই আসরের ফাইনালিস্টদের গ্রুপ পর্বেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। ইউরোপিয়ান দল নরওয়ে বিশ্বকাপের ‘ডার্কহর্স’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। আর্লিং হালান্ড-মার্টিন ওডেগার্ডদের কাছ থেকে তো বটেই, এশিয়ার দেশ ইরাকও শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে সেনেগালের বিপক্ষে। এই সেনেগালের সঙ্গে আবার দেশমের একটি পুরোনো হিসাব আছে। ১৯৯৮ সালে তাঁর নেতৃত্বে ফ্রান্স প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০০২ সালে জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া আসরে এই সেনেগালের কাছে হেরেই গ্রুপ পর্ব থেকে লজ্জাজনক বিদায় নিতে হয়েছিল দেশম-জিদানদের।
তবে সেই হারের প্রতিশোধের কথা মনে ঠাঁই দিতেই রাজি নন দেশম, ‘আমার দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের তখন জন্মই হয়নি। যাদের জন্ম হয়েছিল, বিষয়টি বোঝার মতো জ্ঞান তাদের ছিল না। আর খেলায় এসবের (প্রতিশোধ) কোনো স্থান নেই। সেই হার এখন ইতিহাস। এটা নতুন অধ্যায়। সেনেগাল আফ্রিকার অন্যতম সেরা ফুটবল শক্তি। তাদের অবশ্যই শ্রদ্ধা করি।’ তবে মুখে না বললেও ১৬ জুন যে সেনেগালকে উড়িয়ে দেওয়ার মানসে তারা নামবেন, সেটা ফ্রান্সের বিস্ফোরক আক্রমণভাগ দেখেই বোঝা যায়।
দেশমের আক্রমণভাগে রয়েছেন ২০২৫ সালে ফিফা বর্ষসেরা ও ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলে। পিএসজির গত দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে মূল অবদান ছিল তাঁর। বায়ার্ন মিউনিখের অদম্য হয়ে ওঠার অন্যতম কারিগর হলেন আরেক উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের কথা তো বলাই বাহুল্য। রিয়াল মাদ্রিদ ট্রফিহীন থাকলেও এ মৌসুমে ১৫ গোল করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ স্কোরার তিনি। সেরা একাদশে এ তিনজনের থাকাটা প্রায় নিশ্চিত। তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন দেজিরে দুয়ে, রায়ান চেরকি, মার্কাস থুরাম, ব্রাডলি বারকোলারা।
আক্রমণভাগে এতো তারকার ছড়াছড়িতে মধুর সমস্যায় কোচ দেশম, ‘তাদের সবাইকে তো আর খেলানো সম্ভব নয়। ব্যক্তির ইগো সরিয়ে রেখে আমাদের এখন সঠিক রসায়নটা খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের এখন দলের মধ্যে ভারসাম্য আনতে হবে। সর্বোপরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ ফ্রান্সের এই দলে প্রতিভার ছড়াছড়ির পরও পা মাটিতে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন কোচ। অহংবোধ দলের লক্ষ্যকে নড়বড়ে করে দেয় বলেও অভিমত তাঁর।
সম্প্রতি ফিফার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজ দলের একটি দুর্বল দিকের কথাও বলেছেন দেশম, ‘২০২৬ বিশ্বকাপে একটি বিষয়ে আমাদের ঘাটতি রয়েছে। আমাদের দলে তরুণ খেলোয়াড় বেশি, যাদের বড় টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা কম।’ ফ্রান্সের ২০১৮ সালে বিশ্বকাপজয়ী দলটিও কিন্তু তারুণ্যনির্ভর ছিল!
- বিষয় :
- ফ্রান্স
- বিশ্বকাপ ফুটবল
- দিদিয়ের দেশ্যম
