মেসির হাতে লেখা তিন পাতার বিদায়চিঠিতে কী ছিল?
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:২৩
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণাটা লিওনেল মেসি দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কিন্তু সেই ঘোষণার ধরনেই ছিল আলাদা আবেগ। আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতির বদলে নিজের হাতে লেখা তিন পাতার একটি চিঠিতে আর্জেন্টিনার জার্সিকে বিদায় জানিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা। আর সেই চিঠির পাশে রাখা একটি বিশেষ কলমও জন্ম দিয়েছে কৌতূহলের।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর থেকেই মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান তিনি। সাধারণ একটি নোটপ্যাড থেকে ছিঁড়ে নেওয়া তিনটি পাতার মধ্যে ছড়িয়ে ছিল মেসির বিদায়ী বার্তাটি। সেখানে উঠে এসেছে দীর্ঘ দুই দশকের পথচলা, সাফল্য-ব্যর্থতা, সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো সময় এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
_1788254577.jpg)
মেসি লিখেছেন, অনেক ভাবনা-চিন্তার পরই তিনি জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে এখন মনে হচ্ছে, বিদায়ের জন্য উপযুক্ত সময় এসে গেছে।
আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের পুরোটা উজাড় করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মেসি। শুধু শিরোপা জয়ের সাম্প্রতিক সময়েই নয়, তারও বহু আগে থেকে জাতীয় দলের জার্সির জন্য লড়াই করে গেছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। দেশের মানুষকে আনন্দ দেওয়া এবং আর্জেন্টাইন হিসেবে তাদের গর্বিত করাই ছিল তার অন্যতম প্রেরণা।
বিদায়ী বার্তায় মেসি আরও জানান, জাতীয় দলের অংশ হওয়া তিনি সবসময় ভালোবেসেছেন এবং ভবিষ্যতেও ভালোবাসবেন। তবে তার মনে হচ্ছে, দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের বেশ কিছু প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসায় তাদের জায়গা করে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
সমর্থকদের উদ্দেশে মেসির কৃতজ্ঞতাও ছিল আবেগঘন। দুই দশক ধরে পাওয়া ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, মাঠে গ্যালারি থেকে সমর্থকদের গর্জন তিনি ভীষণভাবে মিস করবেন। এখন থেকে মাঠের বাইরে থেকেই আর্জেন্টিনার জন্য গলা ফাটাবেন।
পরিবার, কোচ, সতীর্থ ও কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মেসি। তার ভাষায়, এই দীর্ঘ যাত্রায় যেমন অসাধারণ কিছু মুহূর্ত এসেছে, তেমনি কঠিন সময়ও পেরোতে হয়েছে। তবে সব মিলিয়ে সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন অসংখ্য অবিস্মরণীয় স্মৃতি। চিঠির একেবারে শেষে আর্জেন্টিনার হয়ে পাওয়া গর্ব ও শান্তির কথা জানিয়ে সমর্থকদের ভালোবাসার কথা বলেছেন তিনি।
আর চিঠির শেষ অংশে মেসি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দিয়েছেন। তিনি জানান, ফাইনালের দুই দিন পর, ২১ জুলাই এই কথাগুলো লিখেছিলেন। এরপর তার বাবাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পরই সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করেন তিনি।
- বিষয় :
- লিওনেল মেসি
- আর্জেন্টিনা