ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গল্প

রায়ানের শার্টে নীল তারা

রায়ানের শার্টে নীল তারা
×

ছবি এঁকেছেন রজত

গল্প লিখেছেন অস্ট্রিক আর্যু

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

সাদা শার্ট আর নীল প্যান্ট রায়ানদের স্কুল-ড্রেস। স্কুলে টিফিন পিরিয়ডে সবাই খেলাধুলা করে। রায়ানও বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করছিল। রায়ানের বন্ধু সিহান হঠাৎ বললো, ‌‘রায়ান, তোমার শার্টে ছিদ্র হলো কী করে!’
রায়ান অবাক হলো। দেখলো, সত্যিই শার্টটা বুকের কাছে ছিদ্র হয়ে আছে। কেমন করে এমন হলো! কিছু মনে পড়ছে না তার। হয়তো খেলতে গিয়ে কিছু একটা বিঁধেছিল। 
রায়ানের খুব মন খারাপ হলো। সে ভাবলো, ‘এখন তো সবাই আমাকে নিয়ে হাসবে!’ আশ্চর্যের বিষয়, কেউ হাসলো না। বরং তার বন্ধু তানহা বললো, ‘আরে, এটা তো 
ঠিক করা যাবে!’
স্কুল ছুটির পর রায়ান মন খারাপ করে 
বাড়ি ফিরল। মা শার্টটা দেখে বললেন, 
‘ওহ! তাই নাকি?’
রায়ান কাঁদো কাঁদো গলায় বললো, 
‘এখন কী হবে মা! আমি কালকে কী 
পরে স্কুলে যাবো?’
মা কিছু না বলে সুঁই-সুতা বের করলেন। তারপর খুব যত্ন করে জামাটা সেলাই 
করতে লাগলেন। 
রায়ান অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছিল। মা নীল সুতা দিয়ে শার্টের ছেঁড়া জায়গার ওপর সুন্দর একটা তারা এঁকে দিলেন। ছোট্ট একটা নীল তারা। 
মা বললেন, ‘দেখো, জামাটা আগের চেয়েও কী সুন্দর হয়েছে।’
রায়ান শার্টটা গায়ে দিল। আয়নায় 
নিজেকে দেখে খুশিতে হেসে ফেললো। সত্যিই জামাটা আগের চেয়েও সুন্দর হয়েছে। দারুণ!
পরদিন রায়ান স্কুলে গেলো। সহপাঠীরা যে দেখে সে-ই বলে, ‘ওয়াও! তোমার শার্টের তারাটা কতো সুন্দর!’
রায়ান গর্ব করে বললো, ‘এটা আমার মা বানিয়েছেন।’
টিফিনের সময় সে দেখলো, তার বন্ধু সিহান এক কোণে চুপচাপ বসে আছে। রায়ান জিজ্ঞেস করলো, ‘কী হয়েছে?’ সিহান আস্তে করে বললো, ‘আমার জুতাটা ছিঁড়ে গেছে। সবাই দেখলে হাসবে…।’
রায়ান একটু ভেবে বললো, ‘জানো, কাল আমারও এমন মনে হয়েছিল। কিন্তু মা বলেছেন, কিছু নষ্ট জিনিসও ঠিক 
করা যায়।’
তারপর রায়ান বললো, ‘স্কুল ছুটির পর আমরা মুচির কাছে যাবো। যারা জুতা সেলাই করে, জুতা পলিশ করে তাদের 
মুচি বলে। জানো তো সিহান?’ 
সিহান বললো, ‘জানি।’
রায়ান বললো, আমাদের বাড়ির কাছেই গলির মোড়ে একজন মুচি আছেন। 
রোজ বসেন। 
তারপর তারা দুজনে মুচির কাছে গেলো। মুচি সিহানের ছেঁড়া জুতা সেলাই করে দিলেন। শুধু সেলাই করলেন না, সাথে পলিশ করে দিলেন। এখন জুতা জোড়া 
কী চকচক করছে! একেবারে নতুনের 
মতো লাগছে! সিহানের মুখে হাসি 
ফুটে উঠলো।
সেদিন রাতে রায়ান মাকে জড়িয়ে ধরে বললো, ‘মা, তুমি শুধু আমার শার্ট ঠিক করনি, আমার মনটাও ঠিক করে 
দিয়েছো।’ মা রায়ানের মাথায় হাত 
বুলিয়ে দিলেন।
রায়ান জানালার বাইরে আকাশে তাকিয়ে রইলো। মনে হলো, তার শার্টের ছোট্ট 
নীল তারাটা যেন সত্যিই আকাশে 
জ্বলজ্বল করছে! 

আরও পড়ুন

×