টুকুর টমটম
ছবি এঁকেছেন সাফায়েত সাগর
গল্প লিখেছেন নীহার মোশারফ
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫২
| প্রিন্ট সংস্করণ
টুকু। রতন। মন্টু। ওরা মহাজনের ঘোড়ার গাড়ি চালায়। থাকে ঢাকার ফুলবাড়িয়ায়। রতনের বাবা নেই। মন্টুর মা নেই। টুকু ছোটকাকুর বাসায় থাকতো। একদিন কালু মিয়ার দোকানের সামনে টুকুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কালু মিয়া বললেন, ‘কী চাই? নাম কী রে?’
টুকু বললো, ‘বিল্লাল। মায় টুকু কইয়া ডাকে।’
‘বুঝছি। তয় এনে ক্যালা?’ মানে, বুঝতে পেরেছি। তবে এখানে কেনো? টুকু আগপিছ না ভেবে বলে বসে, ‘আমারে আপনের দোকানে রাখবেন?’
কালু মিয়া বলেন, ‘আমার টমটম গাড়ি আছে। হেনে কাম করবি?’
টুকু বলে, ‘হ, করুম।’
‘আয়। এদিকে আয়। কিছু খাইছস বে?’
‘না।’
‘ওই রত্তন, টুকুরে কিছু খাইবার দে তো।’
রতন টমটম থেকে নেমে টুকুকে একটা হোটেলে নিয়ে গেলো। সঙ্গে মন্টুও আছে। রতন টুকুকে পেটভরে ভাত খাওয়ালো । হোটেল থেকে বের হয়ে ওরা তিনজন ফের কালু মিয়ার কাছে গেলো।
কালু মিয়া বললেন, ‘পেট ভইরা খাইছোস তো?’
‘হ, খাইছি।’
‘হোন রতন, টুকু নয়া পোলা। অরে লগে রাইখা কাম হিগাইবি। টমটম চালান হিগাইবি। পারবি না?’ মানে টুকু নতুন ছেলে। তাকে সঙ্গে রেখে কাজ শেখাতে পারবি না?
রতন বলে, ‘হ, পারুম।’
টুকু, রতন ও মন্টু টমটমে গিয়ে বসলো। রতন টমটম চালিয়ে গোলাপ শাহ মাজারের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। মন্টু যাত্রীদের ডাকলো।
টুকুও ডাকলো।
টমটম সদরঘাটের দিকে ছুটে চললো। মন্টু ভাড়া নিলো। টুকু চেয়ে চেয়ে দেখলো। রতন রাতে টমটম বন্ধ করে ভাড়ার টাকা কালু মিয়াকে বুঝিয়ে দিলো। কালু মিয়া টুকুকে দেখে একটু হেসে বললেন, ‘ওই টুকু, কাম করা পারবি তো?’
টুকু বললো, ‘হ, পারুম।’
এরপর টুকু, রতন ও মন্টু ঘুমাতে গেলো। সকালে টমটম নিয়ে বের হতে হবে ওদের। বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই টুকুর বাবা-মায়ের কথা মনে পড়লো। স্মৃতি সাঁতরিয়ে বেড়াতে থাকলো। কতো ভাবনা মনে উঁকি দিলো!
ভাবতে ভাবতে টুকু ভাবনার জগতের রাজা বনে গেলো। ও তখন টুকু রাজা। প্রজারা ওকে ফুল দিয়ে সাজানো টমটমে রাজ্য ঘুরিয়ে দেখালো। ভাবনার ঘোর কাটতে না কাটতে রতন বললো, ‘টুকু কী ভাবতাছোস?’
টুকু চুপচাপ। খেপের আশায় মনের টমটম এগিয়ে গেলো সামনের দিকে!
- বিষয় :
- গল্প