গল্প
মায়ের খোঁজে...
ছবি এঁকেছেন সাফায়েত সাগর
গল্প লিখেছেন সাঈদ বারী
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
সকালের নরম রোদে বনটা ঝলমল করছে। গাছের পাতায় পাতায় শিশিরের ফোঁটা চিকচিক করছে। পাখিরা মিষ্টি সুরে গান গাইছে।
রিকি আর নিকি, দুই খরগোশছানা। তারা গাজর খেতে খেতে বনের পথ ধরে হাঁটছিল।
হঠাৎ তারা কান্নার শব্দ শুনতে পেলো।
‘হুঁ... হুঁ... আমি মাকে খুঁজে পাচ্ছি না...।’
দুই ভাই দৌড়ে এগিয়ে গেলো। দেখলো, ছোট্ট একটি কচ্ছপছানা কাঁদছে।
রিকি নরম গলায় জিজ্ঞেস করলো, ‘কী হয়েছে তোমার?’
কচ্ছপছানা বললো, ‘আমি নদীর ধারে খেলছিলাম। খেলতে খেলতে পথ ভুলে গিয়েছি। এখন মাকে খুঁজে পাচ্ছি না।’
নিকি বললো, ‘কেঁদো না। আমরা তোমাকে তোমার মায়ের কাছে পৌঁছে দেবো।’
রিকি সায় দিল, ‘চলো, সবাই একসঙ্গে খুঁজে দেখি।’
ঠিক তখনই টিয়া পাখি ইরা উড়ে এলো।
সে বললো, ‘আমি ওপর থেকে চারদিকে দেখে আসছি।’
কাঠবেড়ালি টিকুও এসে বললো, ‘আমি গাছের ওপর দিয়ে খুঁজে দেখি।’
হরিণী হিমানী বললো, ‘আমি নদীর দিকটা দেখে আসছি।’
হাতি এলিজা বললো, ‘আমি জোরে ডাক দিচ্ছি। যদি কচ্ছপমা শুনতে পান!’
সবাই কাজে লেগে গেলো।
কিছুক্ষণ পর ইরা উড়ে এসে বললো, ‘নদীর ধারে এক কচ্ছপমা খুব চিন্তিত হয়ে এদিক-ওদিক খুঁজছেন।’
সবাই তাড়াতাড়ি সেখানে গেলো।
কচ্ছপছানা দূর থেকেই চিৎকার করে বললো–‘মা... মা...!’
কচ্ছপমা ছুটে এসে ছানাকে জড়িয়ে ধরলো। তার চোখে আনন্দের জল।
সে বললো, ‘তোমাদের কীভাবে ধন্যবাদ দেবো? আমার ছানাকে ফিরে পেয়েছি তোমাদের জন্য।’
নিকি লজ্জা পেয়ে বললো, ‘ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই। একসময় আমি শুধু নিজের কথা ভাবতাম। এখন বুঝেছি, অন্যকে সাহায্য করলে মনটা অনেক ভালো থাকে।’
রিকি হেসে বললো, ‘আজ আমাদের সবচেয়ে বড় পুরস্কার হলো তোমাদের হাসিমুখ।’
সব প্রাণী আনন্দে হাততালি দিল।
ইরা আকাশে চক্কর দিল। টিকু গাছের ডালে ডালে লাফিয়ে উঠলো। এলিজা শুঁড় উঁচু করে আনন্দের শব্দ করলো। বিকেলে সবাই মিলে নদীর ধারে খেললো। কচ্ছপছানাও বন্ধুদের সঙ্গে হাসতে হাসতে খেলতে লাগলো।
সেদিন বনজুড়ে যেন আরও একটু বেশি আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছিল!
- বিষয় :
- গল্প প্রতিযোগিতা