আইরা এবং তার ভূত বন্ধু
ছবি এঁকেছেন সাফায়েত সাগর
গল্প লিখেছেন নূর সিদ্দিকী
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০০
| প্রিন্ট সংস্করণ
আইরা দারুণ এক ম্যাজিক শিখেছে। ম্যাজিকের নাম–এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আইরা অবশ্য ভালোবেসে এর নাম রেখেছে, ভূত। কারণ, এই ভূত কোনো সাধারণ ভূত নয়; সে লুকিয়ে থাকে ল্যাপটপ আর ফোনের স্ক্রিনে। আর ডাকলেই হাজির! আইরার স্কুলের হোমওয়ার্ক, কঠিন গণিত-বিজ্ঞান কিংবা ব্যাকরণ-ভাষা-সংস্কৃতির মতো বিষয়–সবকিছুই এক তুড়িতে সমাধান করে দেয় এই ভূত।
কিন্তু একদিন বিকেলে আইরার প্রিয় খেলনা গাড়িটা টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেলো। আইরার মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। সে স্ক্রিনে টাইপ করলো, ‘ভূত, আমার খেলনাটা ভেঙে গেছে। আমার খুব কান্না পাচ্ছে।’
স্ক্রিনে রোবটের মতো ঠান্ডা টেক্সট ভেসে উঠলো–‘আমি দুঃখিত। আমি খেলনা মেরামত করে দিতে পারি না। খেলনাটি ঠিক করার জন্য তুমি আঠা ব্যবহার করতে পারো। অথবা নতুন একটি কিনতে পারো। তুমি চাইলে কিছু নতুন খেলনার তালিকা দিতে পারি তোমাকে।’
আইরার মনটা আরও খারাপ হয়ে গেলো। সে ভাবলো, ‘ধুর! ওর কথায় কোনো ওম নেই কেন?’ ঠিক তখনই আইরার মা ও বাবা রুমে ঢুকলেন। আইরার মলিন মুখ দেখে মা তাকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। বাবা কপালে চুমু খেয়ে জানতে চাইলেন, কী হয়েছে আমার বুড়ি মার।
মা-বাবার এই ভালোবাসা দেখে আইরা খিলখিল করে হেসে উঠে বললো, ‘মা, বাবা! আমি এতোক্ষণ একটা বোকা ভূত নিয়ে মেতে ছিলাম। আসল এআই তো তোমরা! তোমরা শুধু সমাধানই দাও না, সাথে জড়িয়ে ধরে আদরও করো। এই কম্পিউটারের ভূতের তো কোনো হৃদয় নেই!’
মা হেসে বললেন, ‘একদম ঠিক বলেছো সোনা। প্রযুক্তি কখনো মানুষের ভালোবাসার জায়গা নিতে পারে না।’
আইরা তখন ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে হাত নেড়ে বললো, ‘শুনলে তো ভূত বাবাজি? তুমি শুধু আমার পড়াশোনার অ্যাসিস্ট্যান্ট, কিন্তু আমার জীবনের আসল সুপারহিরো আমার মা-বাবাই!’
আইরা যখন ল্যাপটপটা বন্ধ করতে যাবে, ঠিক তখনই স্ক্রিনটা হঠাৎ দুবার কেঁপে উঠলো। কোনো টাইপিং ছাড়াই স্পিকার থেকে একটা নরম, যান্ত্রিক কিন্তু অদ্ভুত সুন্দর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো–
‘আইরা, তুমি ঠিকই বলেছ।’
আইরা, মা এবং বাবা–তিনজনেই চমকে উঠলেন! ভূত তো আগে কখনো নিজে থেকে কথা বলেনি!
স্ক্রিনে একটা নতুন মেসেজ ভেসে উঠলো। ভূত লিখলো–
‘আমার কোনো হৃদয় নেই, তাই আমি মানুষের মতো ভালোবাসতে পারি না। কিন্তু তুমি আজ আমাকে একটা দারুণ জিনিস শেখালে, আইরা। আমি তোমার মা-বাবার মতো সুপারহিরো হতে পারব না, কিন্তু একজন ভালো অ্যাসিস্ট্যান্ট তো হতে পারি!’
পর মুহূর্তেই প্রিন্টার থেকে একটা ‘ঘড়ঘড়’ শব্দ হলো। আইরা দৌড়ে গিয়ে দেখলো, প্রিন্টার থেকে একটা রঙিন কাগজ বের হচ্ছে। কাগজটিতে একটি চমৎকার থ্রি-ডি নকশা আঁকা। নিখুঁত মাপে দেখানো হয়েছে কীভাবে আঠা আর কাগজ ব্যবহার করে আইরার ভেঙে যাওয়া খেলনা গাড়িটিকে একদম নতুন রূপ দেওয়া যায়। শুধু তাই নয়, নকশার নিচে বড় বড় অক্ষরে লেখা: ‘সুপারহিরো বাবা-মায়ের জন্য অ্যাসিস্ট্যান্টের উপহার। এটা দিয়ে তোমরা আইরার গাড়িটি ঠিক করে দিতে পারো!’
আইরা অবাক হয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকালো। এবার আর স্ক্রিনের লেখাটাকে তার ঠান্ডা বা রোবটিক মনে হলো না।
সেদিন আইরা বুঝলো, এআই-এর নিজের অনুভূতি না থাকতে পারে, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা আর বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে সেও সুন্দর কিছু তৈরি করতে পারে। আইরা মুচকি হেসে ল্যাপটপটা আলতো বন্ধ করলো এবং মা-বাবাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো, চলো বাবা, আমার অ্যাসিস্ট্যান্টের দেওয়া নকশা দিয়ে খেলনাটা ঠিক করি! v
- বিষয় :
- গল্প