গল্প
ঝুমবৃষ্টিতে একদিন
তুনাজ্জিনা বিনতে মিজান
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
বর্ষাকাল। প্রায়ই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে। স্কুলে থাকাকালীন বৃষ্টি হলে আমরা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখি। কখনো ক্লাসরুমের জানালায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি উপভোগ করি। তো একদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। আমরা বন্ধুরা একসঙ্গে বৃষ্টি দেখছি। অনেক বৃষ্টি হলো। বাইরে হেঁটে যাওয়া মানুষের হাঁটু পর্যন্ত পানি। আমরা তো খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি; বাসায় যাব কী করে? রাস্তায় গাড়িও চলছিল না। কোথায় রাস্তা, কোথায় পুকুর বা কোথায় ড্রেন কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। সব পানির নিচে ডুবে একাকার।
এতোক্ষণ ধরে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছি বলে ম্যাডাম ধমকে উঠলেন, ‘সবাই নিজের কাজে মন দাও। আর ৪৫ পৃষ্ঠার অঙ্কটা করে দাও দেখি।’
সবাই খাতা-কলম বের করলো। অঙ্ক করছে ঠিকই কিন্তু মনটা পড়ে আছে জানালার দিকে। গণিত ম্যাম যাওয়ার পর বাংলা স্যার এলেন, তারপর টিফিন টাইম। টিফিন টাইমে শেষে বৃষ্টি কমেছে। ইংরেজি ম্যাম এলেন ক্লাস নিতে। এ ক্লাসের পরই ছুটি। সবার মনে আনন্দ-উল্লাস। কিছুক্ষণ পরেই ছুটির ঘণ্টা বাজলো। সবাই তো খুশিতে গান গাইতে গাইতে স্কুল থেকে বাসার উদ্দেশে যেতে লাগলো। যাদের কাছে ছাতা ছিল তারা আগেই বাসায় চলে গেছে। আমি আর আমার বান্ধবী সবার শেষে বের হয়ে হাঁটা শুরু করলাম। রাস্তায় অনেক পানি। একদম আমাদের কোমর পর্যন্ত পুরাই ভেজা পানিতে। তো সেই পানির মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করে আমার বান্ধবী পানিতে পড়ে যায়। আর অমনি আমাদের পেছনে থাকা সবাই হইহই করে হেসে উঠলো। কেউই সাহায্য করতে এগিয়ে এলো না। আমি তার হাত ধরে টেনে তুললাম। বেশ ব্যথা পেয়েছিল পায়ে। বেচারি হাঁটতে পারছে না। কী করা যায় আমি তা ভেবেও পাচ্ছিলাম না। সে ব্যথায়, ঠান্ডায় আর সবার নজরে পড়ায় লজ্জায় কাঁপছিল। তখনই পাশ দিয়েই হেঁটে যাচ্ছিলেন আমাদের স্কুলেরই একজন ম্যাডাম। আমি কাছে গিয়ে বললাম, ‘ম্যাম, আমাদের ক্লাসেরই একজন গর্তে পড়ে গেছে। পায়ে বেশ ব্যথাও পেয়েছে। একটু সাহায্য করুন।’
এ কথা শুনে ম্যাডামও আমার সঙ্গে মেয়েটিকে সাহায্য করতে এলেন। সে হাঁটতে না পারায় ম্যাডাম বললেন, ‘ও তো ব্যথায় হাঁটতে পারছে না। ওর জন্য আমাদের ভেলার ব্যবস্থা করতে হবে।’
আমি বললাম, ‘ভেলা? সেটা আবার কী?’
ম্যাডাম বললেন, ‘দেখো তবে।’
তারপর স্কুলে ফিরে ম্যাডাম স্কুলের সহকারীদের ডেকে কয়েকটি কলাগাছ কেটে দড়ি দিয়ে বেঁধে নৌকার মতো বানালেন। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। কী সুন্দর ভেলা ভাসছে। এরপর আমরা তাকে ভেলায় বসিয়ে ঠেলতে ঠেলতে বাড়ি পৌঁছে দিলাম। আমি আর ম্যাডাম দুজনেই মেয়েটার বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে বাসার পথ ধরলাম। পথে ম্যাডাম আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, ‘আজ তুমি অনেক ভালো একটা কাজ করেছো। নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে প্রমাণ করেছো!’ অবশেষে আমি আমার বাড়ি আর ম্যাডাম ম্যাডামের বাড়ি ফিরে গেলেন। এভাবেই ব্যাঙদের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর শব্দে আর বৃষ্টির মাঝে আজকের দিনটিও শেষ হয়ে গেলো! v
বয়স : ২+৩+৩+৩ বছর; পঞ্চম শ্রেণি, গ শাখা, বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বগুড়া
- বিষয় :
- গল্প