ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এনএসইউ ফার্মা ফেস্ট ২০২৫

গবেষণা ও উদ্ভাবনে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়ার সেতুবন্ধন

গবেষণা ও উদ্ভাবনে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়ার সেতুবন্ধন
×

পুনরায় নকশা করা, পুনরায় বিন্যাস করা, পুনরুজ্জীবিত করা এই স্লোগানে ৫ ও ৬ নভেম্বর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এনএসইউ ফার্মা ফেস্ট ২০২৫

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫ | ২০:০৯

দেশের ওষুধ শিল্প ও একাডেমিয়ার পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনব্যাপী “ফার্মা ফেস্ট ২০২৫”।

পুনরায় নকশা করা, পুনরায় বিন্যাস করা, পুনরুজ্জীবিত করা এই স্লোগানে এ উৎসব ৫ ও ৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১২ বছর ধরে দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের উন্নয়নে একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই ফেস্ট আয়োজন করে আসছে এনএসইউ ফার্মাসিউটিক্যাল ক্লাব। এ বছরও দেশের শীর্ষ ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একই প্ল্যাটফর্মে মিলিত হয়ে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ভাগাভাগি করেন।

ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়ার মেলবন্ধন
এনএসইউ ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হোসেন শারিয়ারে বলেন, আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছি, যেখানে ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিশিয়ানরা একে অপরের প্রয়োজন বোঝে এটি এক ধরনের উইন-উইন সিচুয়েশন।

তিনি জানান, দেশের শীর্ষ দশ ওষুধ কোম্পানির সিইও, এমডি ও ডিরেক্টরদের নিয়ে ইতোমধ্যে একটি ইন্ডাস্ট্রি অ্যাডভাইজরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম হালনাগাদ ও গবেষণার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে বাস্তব অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

ড. শারিয়ারে আরও বলেন, আমরা বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে ন্যানো ডেলিভারি ভিত্তিক অ্যান্টি-ক্যান্সার গবেষণা করছি, যেখানে শিক্ষার্থীরাও সরাসরি যুক্ত। এই ফেস্টের মাধ্যমে আমরা ইন্ডাস্ট্রি, একাডেমিয়া ও হেলথকেয়ার সেক্টরকে একত্রিত করছি, যাতে দেশের স্বাস্থ্যখাত আরও সমৃদ্ধ হয়।

ফেস্টের শেষ পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, হাসপাতাল ফার্মেসি ফার্মেসি পেশার আগামী দিনের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হতে যাচ্ছে। আমি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করব যেন তারা হাসপাতাল ফার্মেসির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জারিন করিম বলেন, ফার্মাসিস্টরাই এই শিল্পের মূল শক্তি। এটি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে আমরা জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নিয়ে কাজ করি, এমন ওষুধ তৈরি করি যা মানুষের স্বাস্থ্য পরিবর্তন করে এবং তাদের আরও উন্নত জীবন উপহার দেয়।

তিনি বলেন, Redesign, Reformulate, and Regenerate’—এই থিমটি কেবল কিছু শব্দের সমষ্টি নয়। এটি একটি কর্মের আহ্বান, একটি দৃঢ় অঙ্গীকার। আমাদের দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প এখন ৩৭,০০০ কোটি টাকার, যা দেশের ৯৮% প্রাথমিক ওষুধের চাহিদা পূরণ করে, ১৫০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা পৌঁছে দেয়। এটি আমাদের দেশের সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী শক্তির প্রকৃত প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের স্বাস্থ্যসেবার চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে, নতুন ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রয়োজন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের মনে রাখতে হবে শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা দরকার; দক্ষতা উন্নয়ন, জ্ঞান বিনিময়, উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য।

কর্পোরেট সংযোগ ও ক্যারিয়ার দিকনির্দেশনা 
ফেস্টে উপস্থিত ছিলেন ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র অফিসার (এইচআর) নজরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকে। এই ধরনের ফেস্টে আমরা এসে তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলি, সুযোগ ও দিকনির্দেশনা দিই।

তিনি আরও জানান, ইনসেপ্টা এখন সম্পূর্ণ পেপারলেস রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়া চালু করেছে শিক্ষার্থীরা যদি “ফার্মা ফেস্ট ২০২৫”। লিখে ইমেইলে আবেদন করেন, তবে তারা অগ্রাধিকার পাবেন। তবে, নিয়োগ প্রক্রিয়া থাকবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও ন্যায্য।

আয়োজকরা জানান, ফার্মা ফেস্ট শুধু একটি অনুষ্ঠান নয় এটি এমন একটি উদ্ভাবনী প্ল্যাটফর্ম, যা শিক্ষার্থী, গবেষক ও ইন্ডাস্ট্রি প্রতিনিধিদের একত্রিত করে ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও মানসম্মত ও কার্যকর করে তুলতে কাজ করছে।

আরও পড়ুন

×