শিশুর সুস্থ বিকাশে স্মার্টফোন আসক্তি: ঝুঁকি ও প্রতিকার
ছবি: এআই জেনারেটেড
অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন
প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৩:১১
শৈশবে মোবাইলের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার শিশুর সামাজিক এবং মানসিক বিকাশের ওপর ক্রমবর্ধমান বিরূপ প্রভাব ফেলে। অনেক মা শিশুকে খাওয়ানোর সময় মোবাইল দেখিয়ে খাওয়ান অথবা কান্না করলেই শান্ত করার জন্য মোবাইল হাতে দেন। এতে শিশু মোবাইলকে খেলনা মনে করে ধীরে ধীরে কার্টুন বা ভিডিওতে আসক্ত হয়ে পড়ে। এর পরিণতিতে শিশুরা দেরিতে কথা বলা শিখছে এবং দিন দিন খিটখিটে ও জেদি হয়ে উঠছে।
আসক্তির কারণ ও শারীরিক প্রভাব
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মা-বাবা দুজনেই কর্মজীবী হওয়ার কারণে শিশু একাকী টিভিতে আসক্ত হয়ে পড়ে। যেসব শিশু খেলাধুলা, দৌড়ানো বা সাইকেল চালানোর মতো শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তারাই মূলত মোবাইল বা ভিডিও গেমে বেশি আসক্ত হয়। এর ফলে তাদের কোনো বিষয়ে মনোনিবেশ করার ক্ষমতা কমে যায় এবং বাস্তবজীবনে কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা বিঘ্নিত হয়। পাশাপাশি চোখেরও গুরুতর ক্ষতি হয়।
আসক্তির বিজ্ঞান: ডোপামিন ও মস্তিষ্ক
মোবাইল, সামাজিক মাধ্যম ও ইন্টারনেট গেমের আসক্তি অন্যান্য মাদকাসক্তির মতোই ক্ষতিকর। এটি একটি আচরণগত আসক্তি। টিভি, মোবাইল গেম বা যে কোনো ধরনের ভার্চুয়াল বিনোদন দেখার সময় আমাদের মস্তিষ্কের কোষ থেকে ‘ডোপামিন’ নামক নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসৃত হয়। এই ডোপামিন মনে এক ধরনের সাময়িক আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। ফলে শিশু খুব সহজেই এতে আসক্ত হয়ে পড়ে।
উত্তরণের উপায় ও মা-বাবার করণীয়
শিশুর জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয়। শিশুর শোয়ার ঘরে সব ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস রাখা বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে মা-বাবাকে সন্তানের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘প্রযুক্তি ব্যবহার নীতিমালা’ তৈরি করতে হবে অর্থাৎ কখন এবং কীভাবে ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে, তা নির্দিষ্ট থাকতে হবে। এই নিয়ম মা-বাবাকেও মেনে চলতে হবে এবং সবার জন্য ঘুমের একটি নির্দিষ্ট রুটিন থাকতে হবে।
শারীরিক সক্রিয়তা: নিজেদের ব্যস্ততার কারণে সন্তানকে মোবাইল বা ভিডিও গেমে আসক্ত করা বড় অন্যায়। শিশুর খেলাধুলা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের নিয়ে বাগান, পার্ক বা খেলার মাঠে যেতে হবে। যারা শহরে থাকেন, তারা সপ্তাহে অন্তত একদিন বা মাসে দুদিন শিশুকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিয়ে যান।
কাজে সম্পৃক্ততা: শিশুর ঘরের ছোট ছোট কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে তারা সহযোগিতার মনোভাব শিখবে এবং মোবাইলের প্রতি আগ্রহ ধীরে ধীরে কমে আসবে।
স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ: শিশুর স্ক্রিন টাইম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং চোখের বিশ্রামের জন্য স্ক্রিন থেকে পর্যাপ্ত সময় বিরতি নেওয়ার অভ্যাস করাতে হবে।
লেখক: সাবেক অধ্যাপক ও পরিচালক, ঢাকা শিশু হাসপাতাল।
- বিষয় :
- মোবাইল
- শিশু
- শিশুর যত্ন
